সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 মতামতমতামত

সামরিক শক্তির সমীকরণ ও আমাদের বাস্তবতা: উদ্বেগ জাতীয় নিরাপত্তায়

ভারতের উন্নত সমরাস্ত্র পরীক্ষা ও সক্ষমতার বিপরীতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতের দুর্বলতা এখন জনমনে গভীর চিন্তার জন্ম দিচ্ছে; দুর্নীতি ও পরিকল্পনাহীনতাই কি আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে?

সামরিক শক্তির সমীকরণ ও আমাদের বাস্তবতা: উদ্বেগ জাতীয় নিরাপত্তায়
ছবি -সংগৃহীত

একটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক শক্তির কোনো বিকল্প নেই। সম্প্রতি ভারতের সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষার খবর আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যখন প্রতিবেশী দেশগুলো একের পর এক অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, স্টিলথ জেট আর আয়রন ডোম প্রযুক্তিতে নিজেদের সজ্জিত করছে, তখন আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ও মিসাইল প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা প্রকট হয়ে ধরা দিচ্ছে। আধুনিক সমরবিদ্যায় শুধু জনবল নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি আর নিখুঁত নিশানার লড়াই-ই মুখ্য হয়ে উঠেছে।

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, আমাদের ব্যবহৃত অনেক সামরিক সরঞ্জামই এখনকার সময়ের নিরিখে বেশ পুরোনো। যেখানে রাফায়েল বা স্টেলথ জেটের মতো যুদ্ধবিমান রাডার ফাঁকি দিয়ে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম, সেখানে আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। সমালোচকরা বলছেন, ইসরায়েল বা ভারতের মতো দেশগুলো যখন শত্রু দেশের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে অত্যাধুনিক সার্ভিলেন্স শিপ ও অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইল মজুত করছে, তখন আমাদের সম্পদ আর বাজেটের বড় অংশই দুর্নীতির করাল গ্রাসে হারিয়ে যাচ্ছে। একটি দেশের ১৭০ বিলিয়ন ডলারের সঠিক বিনিয়োগ সামরিক খাতের চিত্র বদলে দিতে পারত, কিন্তু লুটপাট ও অর্থ পাচারের মহোৎসব সেই সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।

বিগত বছরগুলোতে দেশ থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, বিশেষ করে এস আলম গ্রুপ বা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের মাধ্যমে পাচার হওয়া লক্ষ কোটি টাকা যদি জাতীয় প্রতিরক্ষায় ব্যয় হতো, তবে আজ আমাদের অন্য কোনো শক্তির কাছে নত হয়ে থাকতে হতো না। অভিযোগ রয়েছে যে, রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ও বিদেশি শক্তির তোষামোদি করতে গিয়ে পরিকল্পিতভাবেই দেশের প্রতিরক্ষা খাতকে দুর্বল করে রাখা হয়েছে। যার করুণ পরিণতি আমরা মাঝেমধ্যেই দেখতে পাই—পুরোনো মডেলের বিমান দুর্ঘটনায় পড়ে আমাদের মেধাবী কর্মকর্তাদের প্রাণ হারাতে হয়।

একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে হলে সীমান্ত রক্ষা আর আকাশ সীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পার হলেও আমরা যখন সামান্য বৃষ্টিতে জলজট আর ভাঙা রাস্তা নিয়ে লড়ছি, তখন উন্নত বিশ্ব মহাকাশ আর সামরিক প্রযুক্তিতে আধিপত্য বিস্তার করছে। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দেশপ্রেমের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ আর ছবি তোলার রাজনীতি বড় হয়ে ওঠায় জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো অবহেলিত রয়ে গেছে। অথচ মাওলানা ভাসানীর মতো নেতারা বারবার সতর্ক করেছিলেন যে, নিজেদের রক্ষা করতে হলে ঘাস খেয়ে হলেও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা গড়তে হবে।

ভারতের বর্তমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও উগ্রবাদী প্রবণতা আমাদের জন্য এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ। প্রতিবেশী হিসেবে সুসম্পর্ক কাম্য হলেও, সামরিকভাবে দুর্বল থাকা মানেই হলো যেকোনো আগ্রাসনের মুখে অসহায় হয়ে পড়া। যদি কখনো কোনো সংকট ঘনীভূত হয়, তবে সাধারণ মানুষের যাওয়ার জায়গা থাকবে না। নীতিনির্ধারকদের তাই সময় থাকতেই উপলব্ধি করা উচিত—কেবল গালভরা বুলি বা নানা ধরনের চেতনা চর্চায় দেশ রক্ষা হয় না। দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে হলে দুর্নীতি রোধ করে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া এখন অস্তিত্বের লড়াই।

বিষয় : ভারতের ব্যালেস্টিক মিসাইল

কাল মহাকাল

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


সামরিক শক্তির সমীকরণ ও আমাদের বাস্তবতা: উদ্বেগ জাতীয় নিরাপত্তায়

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image


একটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক শক্তির কোনো বিকল্প নেই। সম্প্রতি ভারতের সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষার খবর আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যখন প্রতিবেশী দেশগুলো একের পর এক অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, স্টিলথ জেট আর আয়রন ডোম প্রযুক্তিতে নিজেদের সজ্জিত করছে, তখন আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ও মিসাইল প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা প্রকট হয়ে ধরা দিচ্ছে। আধুনিক সমরবিদ্যায় শুধু জনবল নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি আর নিখুঁত নিশানার লড়াই-ই মুখ্য হয়ে উঠেছে।

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, আমাদের ব্যবহৃত অনেক সামরিক সরঞ্জামই এখনকার সময়ের নিরিখে বেশ পুরোনো। যেখানে রাফায়েল বা স্টেলথ জেটের মতো যুদ্ধবিমান রাডার ফাঁকি দিয়ে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম, সেখানে আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। সমালোচকরা বলছেন, ইসরায়েল বা ভারতের মতো দেশগুলো যখন শত্রু দেশের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে অত্যাধুনিক সার্ভিলেন্স শিপ ও অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইল মজুত করছে, তখন আমাদের সম্পদ আর বাজেটের বড় অংশই দুর্নীতির করাল গ্রাসে হারিয়ে যাচ্ছে। একটি দেশের ১৭০ বিলিয়ন ডলারের সঠিক বিনিয়োগ সামরিক খাতের চিত্র বদলে দিতে পারত, কিন্তু লুটপাট ও অর্থ পাচারের মহোৎসব সেই সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।

বিগত বছরগুলোতে দেশ থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, বিশেষ করে এস আলম গ্রুপ বা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের মাধ্যমে পাচার হওয়া লক্ষ কোটি টাকা যদি জাতীয় প্রতিরক্ষায় ব্যয় হতো, তবে আজ আমাদের অন্য কোনো শক্তির কাছে নত হয়ে থাকতে হতো না। অভিযোগ রয়েছে যে, রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ও বিদেশি শক্তির তোষামোদি করতে গিয়ে পরিকল্পিতভাবেই দেশের প্রতিরক্ষা খাতকে দুর্বল করে রাখা হয়েছে। যার করুণ পরিণতি আমরা মাঝেমধ্যেই দেখতে পাই—পুরোনো মডেলের বিমান দুর্ঘটনায় পড়ে আমাদের মেধাবী কর্মকর্তাদের প্রাণ হারাতে হয়।

একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে হলে সীমান্ত রক্ষা আর আকাশ সীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পার হলেও আমরা যখন সামান্য বৃষ্টিতে জলজট আর ভাঙা রাস্তা নিয়ে লড়ছি, তখন উন্নত বিশ্ব মহাকাশ আর সামরিক প্রযুক্তিতে আধিপত্য বিস্তার করছে। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দেশপ্রেমের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ আর ছবি তোলার রাজনীতি বড় হয়ে ওঠায় জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো অবহেলিত রয়ে গেছে। অথচ মাওলানা ভাসানীর মতো নেতারা বারবার সতর্ক করেছিলেন যে, নিজেদের রক্ষা করতে হলে ঘাস খেয়ে হলেও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা গড়তে হবে।

ভারতের বর্তমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও উগ্রবাদী প্রবণতা আমাদের জন্য এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ। প্রতিবেশী হিসেবে সুসম্পর্ক কাম্য হলেও, সামরিকভাবে দুর্বল থাকা মানেই হলো যেকোনো আগ্রাসনের মুখে অসহায় হয়ে পড়া। যদি কখনো কোনো সংকট ঘনীভূত হয়, তবে সাধারণ মানুষের যাওয়ার জায়গা থাকবে না। নীতিনির্ধারকদের তাই সময় থাকতেই উপলব্ধি করা উচিত—কেবল গালভরা বুলি বা নানা ধরনের চেতনা চর্চায় দেশ রক্ষা হয় না। দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে হলে দুর্নীতি রোধ করে আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া এখন অস্তিত্বের লড়াই।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত