লোকাল ফোকাস
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ লোপাটের এক নজিরবিহীন উৎসবের তথ্য সামনে এসেছে। আলোচিত ঠিকাদার লোকমান হোসেনের মালিকানাধীন ‘মেসার্স লোকমান এন্টারপ্রাইজ’-এর বিরুদ্ধে কাজ শেষ না করেই কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কার্যাদেশ পাওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় মোটা অঙ্কের বিল উত্তোলন এবং নিম্নমানের কাজের এসব অভিযোগে এখন জেলাজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।
এক নজরে দুর্নীতির চালচিত্র:
রেকর্ড গড়া বিল উত্তোলন: জীবনগঞ্জ বাজার থেকে শাহপুর সড়ক প্রকল্পে ১০ কোটি ৩৪ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয় গত ২ মার্চ। অথচ অবিশ্বাস্যভাবে এর মাত্র একদিন পরেই ৪ মার্চ ১ কোটি ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৯ টাকার বিল তুলে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলী কাজ চলমান দেখিয়ে এই বিলের সুপারিশ করেছিলেন।
অসমাপ্ত কাজে সিংহভাগ বিল: আলীয়াবাদ থেকে গোপালপুর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ৩ কিলোমিটার কাজ করেই ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। ২ কোটি ৬০ লাখ টাকার এই প্রকল্পে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময় থাকলেও অনেক আগেই সিংহভাগ অর্থ লোপাট করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ও নিম্নমানের কাজ: সড়কের পাশে পুকুরপাড়ে কোনো রিটার্নিং দেয়াল ছাড়াই মাটি ফেলা হয়েছে, যা সড়কটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। স্থানীয়রা বলছেন, সংস্কারের নামে রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপযোগী।
প্রকৌশলীর বক্তব্য ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, একদিনের ব্যবধানে কীভাবে কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল দেওয়া হলো তা বোধগম্য নয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংসদ সদস্যের বাড়ির পাশের রাস্তায় সামান্য কাজ করে বিল তুলে নেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তদন্ত করতে আসা প্রতিনিধি দলের সামনেই উপজেলা প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামকে মারধর করার অভিযোগে ঠিকাদার লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন এবং তাঁর মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। দুর্নীতি ও পেশিশক্তির সমন্বয়ে সরকারি অর্থের এই ভয়াবহ অপচয় ঠেকাতে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নবীনগরবাসী।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ লোপাটের এক নজিরবিহীন উৎসবের তথ্য সামনে এসেছে। আলোচিত ঠিকাদার লোকমান হোসেনের মালিকানাধীন ‘মেসার্স লোকমান এন্টারপ্রাইজ’-এর বিরুদ্ধে কাজ শেষ না করেই কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কার্যাদেশ পাওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় মোটা অঙ্কের বিল উত্তোলন এবং নিম্নমানের কাজের এসব অভিযোগে এখন জেলাজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।
এক নজরে দুর্নীতির চালচিত্র:
রেকর্ড গড়া বিল উত্তোলন: জীবনগঞ্জ বাজার থেকে শাহপুর সড়ক প্রকল্পে ১০ কোটি ৩৪ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয় গত ২ মার্চ। অথচ অবিশ্বাস্যভাবে এর মাত্র একদিন পরেই ৪ মার্চ ১ কোটি ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৯ টাকার বিল তুলে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলী কাজ চলমান দেখিয়ে এই বিলের সুপারিশ করেছিলেন।
অসমাপ্ত কাজে সিংহভাগ বিল: আলীয়াবাদ থেকে গোপালপুর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ৩ কিলোমিটার কাজ করেই ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। ২ কোটি ৬০ লাখ টাকার এই প্রকল্পে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময় থাকলেও অনেক আগেই সিংহভাগ অর্থ লোপাট করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ও নিম্নমানের কাজ: সড়কের পাশে পুকুরপাড়ে কোনো রিটার্নিং দেয়াল ছাড়াই মাটি ফেলা হয়েছে, যা সড়কটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। স্থানীয়রা বলছেন, সংস্কারের নামে রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপযোগী।
প্রকৌশলীর বক্তব্য ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা:
বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, একদিনের ব্যবধানে কীভাবে কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল দেওয়া হলো তা বোধগম্য নয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংসদ সদস্যের বাড়ির পাশের রাস্তায় সামান্য কাজ করে বিল তুলে নেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তদন্ত করতে আসা প্রতিনিধি দলের সামনেই উপজেলা প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামকে মারধর করার অভিযোগে ঠিকাদার লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন এবং তাঁর মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। দুর্নীতি ও পেশিশক্তির সমন্বয়ে সরকারি অর্থের এই ভয়াবহ অপচয় ঠেকাতে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নবীনগরবাসী।
