জাতীয়জাতীয়

ঘাম ঝরানো মানুষের দিন আজ: অধিকার ও মর্যাদার লড়াইয়ে মহান মে দিবস

ঘাম ঝরানো মানুষের দিন আজ: অধিকার ও মর্যাদার লড়াইয়ে মহান মে দিবস
ছবি- সংকলিত
‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নবপ্রভাত’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস; শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের অঙ্গীকার।

ভোরের আলো ফোটার আগেই যারা কলকারখানার চাকা ঘোরান, তপ্ত রোদে ইট-পাথরের রাজপ্রাসাদ গড়েন কিংবা বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে রেমিট্যান্স পাঠান—আজ সেই শ্রমজীবী মানুষের দিন। পহেলা মে, মহান মে দিবস। দীর্ঘ বঞ্চনা আর শোষণের বিরুদ্ধে শিকাগোর রাজপথে রক্ত দিয়ে কেনা আট ঘণ্টা কাজের অধিকার আদায়ের এই দিনটি আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের কাছেও দিনটি অধিকার আদায়ের এক অমলিন প্রেরণা।

এ বছর মে দিবসের গুরুত্ব কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে ধরা দিয়েছে। ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ শুক্রবার হওয়ায় এমনিতেই সাপ্তাহিক ছুটি, তবে শ্রমিকের অধিকারের প্রশ্নে রাজপথ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আয়োজনের কোনো কমতি নেই। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নবপ্রভাত।’ এই স্লোগানটি মূলত শ্রমিকের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শ্রমিকের অবদান অনস্বীকার্য। পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে শ্রমিকদের দেশের উন্নয়নের ‘প্রধান অবলম্বন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি। তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের প্রধান অঙ্গীকার।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন শ্রমিকের হাতই হলো জাতির সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার তৈরি করে শহীদ জিয়া যে ভিত গড়েছিলেন, তার সুফল আজ দেশ জাতি হিসেবে ভোগ করছে।

১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিকদের সেই আত্মত্যাগের ইতিহাস আজও মানুষের হৃদয়ে দাগ কাটে। ন্যায্য পাওনা আর মানবিক কর্মঘণ্টার দাবিতে সেদিন শ্রমিকদের রক্তে ভিজেছিল পিচঢালা পথ। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ বিশ্বজুড়ে আট ঘণ্টা কাজের স্বীকৃতি মিললেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শ্রমিকের নিরাপত্তা ও ন্যায্য মজুরির লড়াই এখনো শেষ হয়নি।

রাজধানী ঢাকার চিত্র আজ উৎসব ও দাবির সংমিশ্রণে মুখর। দিবসটি উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আজ উত্তাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। জুমার নামাজের পর শুরু হতে যাওয়া এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন রাজধানীর মোড়ে মোড়ে সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

নগরের ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান—সবখানেই আজ মে দিবসের আবহ। তেজগাঁও শিল্প এলাকার এক পোশাক শ্রমিক বলেন, “আমরা শুধু ক্যালেন্ডারের ছুটি চাই না, চাই মাস শেষে পরিবার নিয়ে দুবেলা পেট ভরে খাওয়ার নিশ্চয়তা। আমাদের কাজের পরিবেশ যেন নিরাপদ হয়, সেটুকুই চাওয়া।”

দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে জাতীয় সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। রেডিও এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। আজকের এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার পথে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হয়ে উঠুক—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

কাল মহাকাল

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬


ঘাম ঝরানো মানুষের দিন আজ: অধিকার ও মর্যাদার লড়াইয়ে মহান মে দিবস

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নবপ্রভাত’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস; শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের অঙ্গীকার।

ভোরের আলো ফোটার আগেই যারা কলকারখানার চাকা ঘোরান, তপ্ত রোদে ইট-পাথরের রাজপ্রাসাদ গড়েন কিংবা বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে রেমিট্যান্স পাঠান—আজ সেই শ্রমজীবী মানুষের দিন। পহেলা মে, মহান মে দিবস। দীর্ঘ বঞ্চনা আর শোষণের বিরুদ্ধে শিকাগোর রাজপথে রক্ত দিয়ে কেনা আট ঘণ্টা কাজের অধিকার আদায়ের এই দিনটি আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের কাছেও দিনটি অধিকার আদায়ের এক অমলিন প্রেরণা।

এ বছর মে দিবসের গুরুত্ব কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে ধরা দিয়েছে। ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ শুক্রবার হওয়ায় এমনিতেই সাপ্তাহিক ছুটি, তবে শ্রমিকের অধিকারের প্রশ্নে রাজপথ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আয়োজনের কোনো কমতি নেই। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নবপ্রভাত।’ এই স্লোগানটি মূলত শ্রমিকের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শ্রমিকের অবদান অনস্বীকার্য। পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে শ্রমিকদের দেশের উন্নয়নের ‘প্রধান অবলম্বন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে শিল্প ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি। তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের প্রধান অঙ্গীকার।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন শ্রমিকের হাতই হলো জাতির সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার তৈরি করে শহীদ জিয়া যে ভিত গড়েছিলেন, তার সুফল আজ দেশ জাতি হিসেবে ভোগ করছে।

১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিকদের সেই আত্মত্যাগের ইতিহাস আজও মানুষের হৃদয়ে দাগ কাটে। ন্যায্য পাওনা আর মানবিক কর্মঘণ্টার দাবিতে সেদিন শ্রমিকদের রক্তে ভিজেছিল পিচঢালা পথ। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ বিশ্বজুড়ে আট ঘণ্টা কাজের স্বীকৃতি মিললেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শ্রমিকের নিরাপত্তা ও ন্যায্য মজুরির লড়াই এখনো শেষ হয়নি।

রাজধানী ঢাকার চিত্র আজ উৎসব ও দাবির সংমিশ্রণে মুখর। দিবসটি উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আজ উত্তাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। জুমার নামাজের পর শুরু হতে যাওয়া এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন রাজধানীর মোড়ে মোড়ে সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

নগরের ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান—সবখানেই আজ মে দিবসের আবহ। তেজগাঁও শিল্প এলাকার এক পোশাক শ্রমিক বলেন, “আমরা শুধু ক্যালেন্ডারের ছুটি চাই না, চাই মাস শেষে পরিবার নিয়ে দুবেলা পেট ভরে খাওয়ার নিশ্চয়তা। আমাদের কাজের পরিবেশ যেন নিরাপদ হয়, সেটুকুই চাওয়া।”

দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে জাতীয় সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। রেডিও এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। আজকের এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার পথে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হয়ে উঠুক—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ মোঃ ফখরুল ইসলাম রাজীব প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত