সম্পাদকীয়
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমোদিত যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি আরবের নতুন পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিকে অনেকেই একটি বাণিজ্যিক সমঝোতা হিসেবে দেখছেন। বাস্তবে এর তাৎপর্য আরও গভীর। এটি এমন এক সময়ে স্বাক্ষরিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশ দ্রুত বদলে যাচ্ছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ তীব্র, গাজা যুদ্ধের পর আরব–ইসরায়েল সম্পর্ক অনিশ্চয়তার মধ্যে এবং একই সঙ্গে চীন ও রাশিয়া উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এই প্রেক্ষাপটে চুক্তিটি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পারমাণবিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয় নয়; বরং এটি ভবিষ্যতের আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ।
সৌদি আরব বহু বছর ধরেই তাদের অর্থনীতিকে তেলনির্ভরতা থেকে বের করে আনতে চাচ্ছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অন্যতম লক্ষ্য হলো বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা। পারমাণবিক বিদ্যুৎ সেই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির সঙ্গে যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতাও যুক্ত হয়, তাহলে সেটি কেবল জ্বালানি কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; ভবিষ্যতে সামরিক সক্ষমতার ভিত্তিও তৈরি করতে পারে।
এই কারণেই চুক্তিটি আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কারণ ইতিহাস বলছে, অনেক দেশ প্রথমে বেসামরিক কর্মসূচির মাধ্যমে পারমাণবিক প্রযুক্তি অর্জন করলেও পরবর্তীকালে সেই প্রযুক্তিকে সামরিক কর্মসূচির দিকে নিয়ে গেছে। যদিও সৌদি আরব এমন কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে, তবু যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অতীতে প্রকাশ্যে বলেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে সৌদি আরবও একই পথ অনুসরণ করবে। এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা কয়েক দফা সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি সংঘাত—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন এখন এমন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে, যেখানে সৌদি আরব তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠবে। এই চুক্তি সেই বৃহত্তর নিরাপত্তা কৌশলেরও অংশ।
তবে এর আরেকটি আন্তর্জাতিক মাত্রা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। বেইজিংয়ের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ঘটনাও যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। একই সময়ে রাশিয়াও জ্বালানি ও পারমাণবিক প্রযুক্তি খাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছে। ফলে ওয়াশিংটনের জন্য সৌদি আরবকে নিজের কৌশলগত বলয়ের মধ্যে ধরে রাখা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই চুক্তির পেছনে সেই ভূ-রাজনৈতিক হিসাবও স্পষ্টভাবে কাজ করেছে।
চুক্তির অর্থনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই নতুন আন্তর্জাতিক বাজারের সন্ধানে রয়েছে। সৌদি আরবের সম্ভাব্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে মার্কিন প্রযুক্তি ও রিয়্যাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কয়েক শ কোটি ডলারের বাজার সৃষ্টি হতে পারে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ—দুই দিক থেকেই এই সমঝোতা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক পরমাণু বিস্তার রোধব্যবস্থাকে ঘিরে। ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যে পারমাণবিক চুক্তি করেছিল, সেখানে আবুধাবি স্বেচ্ছায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার অধিকার ত্যাগ করেছিল। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অতিরিক্ত তদারকিও তারা মেনে নেয়। সেই চুক্তিকে দীর্ঘদিন ধরে 'গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড' হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সৌদি আরবের নতুন চুক্তিতে যদি সেই মানদণ্ড শিথিল করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য দেশও একই ধরনের ছাড় দাবি করতে পারে। এতে বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের উদ্বেগও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র ঘোষণাবিহীন পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে ইসরায়েল বহু দশক ধরে সামরিক ভারসাম্যে বিশেষ সুবিধা ভোগ করেছে। সৌদি আরবের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে সেই কৌশলগত ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে। যদিও বর্তমানে রিয়াদ ও তেল আবিবের মধ্যে ইরানবিরোধী স্বার্থের মিল রয়েছে, তবু দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা হিসাব সব সময় একই থাকে না।
সব মিলিয়ে ট্রাম্প–সৌদি পারমাণবিক চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি যেমন সৌদি আরবের জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে পারে, তেমনি আঞ্চলিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা, আন্তর্জাতিক পরমাণু তদারকি এবং বৈশ্বিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেও নতুন মাত্রা দিতে পারে। আগামী মাসগুলোতে মার্কিন কংগ্রেসের বিতর্ক, আইএইএর অবস্থান এবং ইরান ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়াই নির্ধারণ করবে এই চুক্তি কেবল অর্থনৈতিক সহযোগিতার দলিল হয়ে থাকবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা স্থাপত্যের অন্যতম ভিত্তিতে পরিণত হবে।
2.png)
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমোদিত যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি আরবের নতুন পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিকে অনেকেই একটি বাণিজ্যিক সমঝোতা হিসেবে দেখছেন। বাস্তবে এর তাৎপর্য আরও গভীর। এটি এমন এক সময়ে স্বাক্ষরিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশ দ্রুত বদলে যাচ্ছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ তীব্র, গাজা যুদ্ধের পর আরব–ইসরায়েল সম্পর্ক অনিশ্চয়তার মধ্যে এবং একই সঙ্গে চীন ও রাশিয়া উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এই প্রেক্ষাপটে চুক্তিটি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পারমাণবিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয় নয়; বরং এটি ভবিষ্যতের আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ।
সৌদি আরব বহু বছর ধরেই তাদের অর্থনীতিকে তেলনির্ভরতা থেকে বের করে আনতে চাচ্ছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর অন্যতম লক্ষ্য হলো বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা। পারমাণবিক বিদ্যুৎ সেই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির সঙ্গে যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতাও যুক্ত হয়, তাহলে সেটি কেবল জ্বালানি কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; ভবিষ্যতে সামরিক সক্ষমতার ভিত্তিও তৈরি করতে পারে।
এই কারণেই চুক্তিটি আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কারণ ইতিহাস বলছে, অনেক দেশ প্রথমে বেসামরিক কর্মসূচির মাধ্যমে পারমাণবিক প্রযুক্তি অর্জন করলেও পরবর্তীকালে সেই প্রযুক্তিকে সামরিক কর্মসূচির দিকে নিয়ে গেছে। যদিও সৌদি আরব এমন কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে, তবু যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অতীতে প্রকাশ্যে বলেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে সৌদি আরবও একই পথ অনুসরণ করবে। এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা কয়েক দফা সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি সংঘাত—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন এখন এমন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে, যেখানে সৌদি আরব তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠবে। এই চুক্তি সেই বৃহত্তর নিরাপত্তা কৌশলেরও অংশ।
তবে এর আরেকটি আন্তর্জাতিক মাত্রা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। বেইজিংয়ের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ঘটনাও যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। একই সময়ে রাশিয়াও জ্বালানি ও পারমাণবিক প্রযুক্তি খাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছে। ফলে ওয়াশিংটনের জন্য সৌদি আরবকে নিজের কৌশলগত বলয়ের মধ্যে ধরে রাখা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই চুক্তির পেছনে সেই ভূ-রাজনৈতিক হিসাবও স্পষ্টভাবে কাজ করেছে।
চুক্তির অর্থনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই নতুন আন্তর্জাতিক বাজারের সন্ধানে রয়েছে। সৌদি আরবের সম্ভাব্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে মার্কিন প্রযুক্তি ও রিয়্যাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কয়েক শ কোটি ডলারের বাজার সৃষ্টি হতে পারে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ—দুই দিক থেকেই এই সমঝোতা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক পরমাণু বিস্তার রোধব্যবস্থাকে ঘিরে। ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যে পারমাণবিক চুক্তি করেছিল, সেখানে আবুধাবি স্বেচ্ছায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার অধিকার ত্যাগ করেছিল। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অতিরিক্ত তদারকিও তারা মেনে নেয়। সেই চুক্তিকে দীর্ঘদিন ধরে 'গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড' হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সৌদি আরবের নতুন চুক্তিতে যদি সেই মানদণ্ড শিথিল করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য দেশও একই ধরনের ছাড় দাবি করতে পারে। এতে বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের উদ্বেগও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র ঘোষণাবিহীন পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে ইসরায়েল বহু দশক ধরে সামরিক ভারসাম্যে বিশেষ সুবিধা ভোগ করেছে। সৌদি আরবের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে সেই কৌশলগত ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে। যদিও বর্তমানে রিয়াদ ও তেল আবিবের মধ্যে ইরানবিরোধী স্বার্থের মিল রয়েছে, তবু দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা হিসাব সব সময় একই থাকে না।
সব মিলিয়ে ট্রাম্প–সৌদি পারমাণবিক চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি যেমন সৌদি আরবের জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে পারে, তেমনি আঞ্চলিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা, আন্তর্জাতিক পরমাণু তদারকি এবং বৈশ্বিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেও নতুন মাত্রা দিতে পারে। আগামী মাসগুলোতে মার্কিন কংগ্রেসের বিতর্ক, আইএইএর অবস্থান এবং ইরান ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়াই নির্ধারণ করবে এই চুক্তি কেবল অর্থনৈতিক সহযোগিতার দলিল হয়ে থাকবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা স্থাপত্যের অন্যতম ভিত্তিতে পরিণত হবে।
2.png)