লোকাল ফোকাস
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার উপকূলীয় চর আতাউরে চারণভূমি ও বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের একাংশ দখলের অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি পক্ষ চরটির বিভিন্ন স্থানে মাটির বাঁধ ও স্তূপ তৈরি করে সীমানা নির্ধারণের পর ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ শুরু করেছে। এতে দীর্ঘদিনের বাথানভিত্তিক পশুপালন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে জমি দখলকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।
মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চর আতাউর হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের পশ্চিমাংশে অবস্থিত। চরটির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন, যেখানে প্রায় ৩০০ একর ম্যানগ্রোভ সংরক্ষিত বন রয়েছে। পাশাপাশি বিস্তীর্ণ এলাকায় বহু বছর ধরে গড়ে উঠেছে শত শত বাথান। এসব বাথানে হাজার হাজার গরু, মহিষ ও ভেড়া পালন করা হয়। স্থানীয়দের মতে, চরটি শুধু পশুপালনের কেন্দ্র নয়, উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, চরটির কয়েকটি এলাকায় ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে মাটির স্তূপ তৈরি করে গাছের ডাল পুঁতে জমির সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি জমি দখল করে কৃষিকাজের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, দখলচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই স্থানীয় ভূমিহীন নন; বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছেন।
চরের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, চরটির দক্ষিণাংশে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও দুটি গুচ্ছগ্রামে প্রায় ৪০০ পরিবার বসবাস করছে। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেখানে প্রশাসনের উপস্থিতি সীমিত। এ সুযোগেই দখলচেষ্টা বাড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।
বাথান মালিক আবু তাহের বলেন, গত বছর থেকেই চর দখলের চেষ্টা শুরু হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বসতির আশপাশের জমিতে চাষাবাদ শুরু হওয়ায় গরু-মহিষ চরানোর জায়গা কমে গেছে। বাধা দিতে গেলে ভয়ভীতি ও হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তার দাবি, চারণভূমি সংকুচিত হওয়ায় অনেককে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে পশু চরানোর ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।
আরেক পশুপালক মফিজ উদ্দিন জানান, প্রায় এক দশক ধরে তিনি ওই চরে মহিষ পালন করছেন। আগে কখনো এভাবে জমি দখলের চেষ্টা দেখেননি। এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে জমি দখলের চেষ্টা করায় এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে।
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত নুরুল ইসলাম বলেন, জলোচ্ছ্বাসের সময় পশু রক্ষায় বাথান মালিকরা নিজেদের উদ্যোগে কিল্লা ও পুকুর নির্মাণ করেছেন। অথচ এখন তাদের চর ছেড়ে যেতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তিনি চর আতাউরকে সরকারি উদ্যোগে স্থায়ী গোচারণভূমি হিসেবে ঘোষণা ও সংরক্ষণের দাবি জানান।
বন বিভাগ জানিয়েছে, চরটি তাদের তত্ত্বাবধানে থাকলেও দুর্গম অবস্থান এবং জনবল সংকটের কারণে অবৈধ দখল প্রতিরোধে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কোস্টগার্ডের কাছে লিখিতভাবে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর একই সময়ে চর আতাউরের পাশের জাগলার চরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ছয়জন নিহত হন। সেই ঘটনার পর নতুন করে দখলচেষ্টার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, বাথান মালিকদের কাছ থেকে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি জমি অনুমতি ছাড়া কেউ দখল করতে পারে না। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
2.png)
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার উপকূলীয় চর আতাউরে চারণভূমি ও বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের একাংশ দখলের অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি পক্ষ চরটির বিভিন্ন স্থানে মাটির বাঁধ ও স্তূপ তৈরি করে সীমানা নির্ধারণের পর ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ শুরু করেছে। এতে দীর্ঘদিনের বাথানভিত্তিক পশুপালন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে জমি দখলকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।
মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চর আতাউর হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের পশ্চিমাংশে অবস্থিত। চরটির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন, যেখানে প্রায় ৩০০ একর ম্যানগ্রোভ সংরক্ষিত বন রয়েছে। পাশাপাশি বিস্তীর্ণ এলাকায় বহু বছর ধরে গড়ে উঠেছে শত শত বাথান। এসব বাথানে হাজার হাজার গরু, মহিষ ও ভেড়া পালন করা হয়। স্থানীয়দের মতে, চরটি শুধু পশুপালনের কেন্দ্র নয়, উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, চরটির কয়েকটি এলাকায় ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে মাটির স্তূপ তৈরি করে গাছের ডাল পুঁতে জমির সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি জমি দখল করে কৃষিকাজের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, দখলচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই স্থানীয় ভূমিহীন নন; বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছেন।
চরের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, চরটির দক্ষিণাংশে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও দুটি গুচ্ছগ্রামে প্রায় ৪০০ পরিবার বসবাস করছে। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেখানে প্রশাসনের উপস্থিতি সীমিত। এ সুযোগেই দখলচেষ্টা বাড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।
বাথান মালিক আবু তাহের বলেন, গত বছর থেকেই চর দখলের চেষ্টা শুরু হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বসতির আশপাশের জমিতে চাষাবাদ শুরু হওয়ায় গরু-মহিষ চরানোর জায়গা কমে গেছে। বাধা দিতে গেলে ভয়ভীতি ও হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তার দাবি, চারণভূমি সংকুচিত হওয়ায় অনেককে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে পশু চরানোর ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।
আরেক পশুপালক মফিজ উদ্দিন জানান, প্রায় এক দশক ধরে তিনি ওই চরে মহিষ পালন করছেন। আগে কখনো এভাবে জমি দখলের চেষ্টা দেখেননি। এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে জমি দখলের চেষ্টা করায় এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে।
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত নুরুল ইসলাম বলেন, জলোচ্ছ্বাসের সময় পশু রক্ষায় বাথান মালিকরা নিজেদের উদ্যোগে কিল্লা ও পুকুর নির্মাণ করেছেন। অথচ এখন তাদের চর ছেড়ে যেতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তিনি চর আতাউরকে সরকারি উদ্যোগে স্থায়ী গোচারণভূমি হিসেবে ঘোষণা ও সংরক্ষণের দাবি জানান।
বন বিভাগ জানিয়েছে, চরটি তাদের তত্ত্বাবধানে থাকলেও দুর্গম অবস্থান এবং জনবল সংকটের কারণে অবৈধ দখল প্রতিরোধে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কোস্টগার্ডের কাছে লিখিতভাবে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর একই সময়ে চর আতাউরের পাশের জাগলার চরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ছয়জন নিহত হন। সেই ঘটনার পর নতুন করে দখলচেষ্টার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, বাথান মালিকদের কাছ থেকে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি জমি অনুমতি ছাড়া কেউ দখল করতে পারে না। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
2.png)