জাতীয়
উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে এখনো দেশের পাঁচটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবারের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে আগামী দিনের বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং সীমান্তের ওপারের উজানের বৃষ্টির পরিমাণের ওপর।
এদিকে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজারে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে ৭৯টি পয়েন্টে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, ৪৩টিতে কমছে এবং পাঁচটি স্টেশনে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে বর্তমানে দেশের ৯টি পয়েন্টে পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। এছাড়া মৌলভীবাজারে মনু নদের পানি রেলসেতু পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার ও মনু পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার এবং হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদের পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর পয়েন্টসহ আরও বেশ কয়েকটি নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার এবং বাংলাদেশের চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উজান ও দেশের অভ্যন্তরে বৃষ্টির এই প্রবণতা আগামী কয়েক দিনের নদীর পানির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিষয় : বন্যা পরিস্থিতি
2.png)
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে এখনো দেশের পাঁচটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবারের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে আগামী দিনের বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং সীমান্তের ওপারের উজানের বৃষ্টির পরিমাণের ওপর।
এদিকে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজারে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে ৭৯টি পয়েন্টে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, ৪৩টিতে কমছে এবং পাঁচটি স্টেশনে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে বর্তমানে দেশের ৯টি পয়েন্টে পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। এছাড়া মৌলভীবাজারে মনু নদের পানি রেলসেতু পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার ও মনু পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার এবং হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদের পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর পয়েন্টসহ আরও বেশ কয়েকটি নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার এবং বাংলাদেশের চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উজান ও দেশের অভ্যন্তরে বৃষ্টির এই প্রবণতা আগামী কয়েক দিনের নদীর পানির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
2.png)