লোকাল ফোকাস
ভোলার মনপুরা উপজেলার ২ নম্বর হাজীরহাট ইউনিয়নের চর যতিন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তাটি কেবল একটি মাটির পথ নয়, এটি স্থানীয় ৪ হাজার মানুষের কাছে দীর্ঘ দুই দশকের এক কষ্টের নাম। মনপুরা শিশু সদন এতিমখানা থেকে খাদ্যগুদাম হয়ে ডিসি রোডের সঙ্গে সংযুক্ত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের অভাবে আজ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের আর্তনাদ আর জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরির মাঝে রাস্তাটি যেন আজ এক পরিত্যক্ত জনপদ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির দুই পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। হাঁটু সমান কাদা আর জলাবদ্ধতায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া যেন এক কঠিন লড়াই।
এই দুর্ভোগের সবচেয়ে মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইকরাম কবির। কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “গত বছর আমার মা মারা যান। কিন্তু রাস্তার এমন দুরবস্থা ছিল যে, হাঁটুসমান পানি ও কাদা মাড়িয়ে মায়ের মরদেহ শেষবারের মতো বাড়িতে নিতে পারিনি। বাধ্য হয়ে অন্য এলাকায় দাফন করতে হয়েছে। সেই কষ্ট কোনো দিন ভুলতে পারব না।”
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তারা বারবার লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। প্রতিবারই মিলেছে ড্রেন নির্মাণ ও সড়ক পাকাকরণের আশ্বাস। কিন্তু সেই আশ্বাস কেবল ভোটের হিসাব-নিকাশেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। নির্বাচন শেষ হলে আর কেউ ফিরে তাকায়নি। ক্ষুব্ধ এক এলাকাবাসীর প্রশ্ন, “আমরা কি এই দেশের নাগরিক নই? সরকারকে কর দিই, অথচ আমাদের একমাত্র চলাচলের সড়কের এমন দুরবস্থা দেখার কেউ নেই। আমরা আর আশ্বাস চাই না, চাই দ্রুত সড়ক পাকাকরণ ও ড্রেন নির্মাণ।”
এদিকে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানিয়েছে, সড়কটির জন্য ২০১৫ সালের ১২ আগস্ট একটি আইডি (নং-৫০৯৬৫২০০৩) খোলা হয়েছে এবং নতুন প্রকল্পে সড়কটি পাকাকরণের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষায় থাকার অজুহাতে বছরের পর বছর পার হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এলজিইডি জানিয়েছে, প্রকল্পের অনুমোদন পেলেই তারা কাজ শুরু করবে। অন্যদিকে, উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এলাকাটির জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি স্লুইসগেট নির্মাণ ও খাল খননের জন্য তারা আবেদন করেছে।
প্রশাসনের এসব ‘প্রক্রিয়াধীন’ বার্তার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, আর কোনো আইনি জটিলতা বা প্রকল্প অনুমোদনের অজুহাত নয়; দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত সড়ক সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। নিছক প্রতিশ্রুতির বেড়াজাল থেকে মুক্তি পেতে চান চর যতিনের সাধারণ মানুষ।
2.png)
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
ভোলার মনপুরা উপজেলার ২ নম্বর হাজীরহাট ইউনিয়নের চর যতিন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তাটি কেবল একটি মাটির পথ নয়, এটি স্থানীয় ৪ হাজার মানুষের কাছে দীর্ঘ দুই দশকের এক কষ্টের নাম। মনপুরা শিশু সদন এতিমখানা থেকে খাদ্যগুদাম হয়ে ডিসি রোডের সঙ্গে সংযুক্ত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের অভাবে আজ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের আর্তনাদ আর জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরির মাঝে রাস্তাটি যেন আজ এক পরিত্যক্ত জনপদ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির দুই পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। হাঁটু সমান কাদা আর জলাবদ্ধতায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া যেন এক কঠিন লড়াই।
এই দুর্ভোগের সবচেয়ে মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইকরাম কবির। কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “গত বছর আমার মা মারা যান। কিন্তু রাস্তার এমন দুরবস্থা ছিল যে, হাঁটুসমান পানি ও কাদা মাড়িয়ে মায়ের মরদেহ শেষবারের মতো বাড়িতে নিতে পারিনি। বাধ্য হয়ে অন্য এলাকায় দাফন করতে হয়েছে। সেই কষ্ট কোনো দিন ভুলতে পারব না।”
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তারা বারবার লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। প্রতিবারই মিলেছে ড্রেন নির্মাণ ও সড়ক পাকাকরণের আশ্বাস। কিন্তু সেই আশ্বাস কেবল ভোটের হিসাব-নিকাশেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। নির্বাচন শেষ হলে আর কেউ ফিরে তাকায়নি। ক্ষুব্ধ এক এলাকাবাসীর প্রশ্ন, “আমরা কি এই দেশের নাগরিক নই? সরকারকে কর দিই, অথচ আমাদের একমাত্র চলাচলের সড়কের এমন দুরবস্থা দেখার কেউ নেই। আমরা আর আশ্বাস চাই না, চাই দ্রুত সড়ক পাকাকরণ ও ড্রেন নির্মাণ।”
এদিকে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানিয়েছে, সড়কটির জন্য ২০১৫ সালের ১২ আগস্ট একটি আইডি (নং-৫০৯৬৫২০০৩) খোলা হয়েছে এবং নতুন প্রকল্পে সড়কটি পাকাকরণের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষায় থাকার অজুহাতে বছরের পর বছর পার হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এলজিইডি জানিয়েছে, প্রকল্পের অনুমোদন পেলেই তারা কাজ শুরু করবে। অন্যদিকে, উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এলাকাটির জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি স্লুইসগেট নির্মাণ ও খাল খননের জন্য তারা আবেদন করেছে।
প্রশাসনের এসব ‘প্রক্রিয়াধীন’ বার্তার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, আর কোনো আইনি জটিলতা বা প্রকল্প অনুমোদনের অজুহাত নয়; দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত সড়ক সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। নিছক প্রতিশ্রুতির বেড়াজাল থেকে মুক্তি পেতে চান চর যতিনের সাধারণ মানুষ।
2.png)