সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

সমুদ্রে দুর্যোগের প্রভাব: এলএনজি সরবরাহ কমে গ্যাসের তীব্র সংকট

কক্সবাজারের মহেশখালীতে টার্মিনালগুলো থেকে এলএনজি খালাস ব্যাহত হওয়ায় কমেছে সরবরাহ। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকা ও সারা দেশের গ্যাসের চাপে।

সমুদ্রে দুর্যোগের প্রভাব: এলএনজি সরবরাহ কমে গ্যাসের তীব্র সংকট
ছবি -সংগৃহীত

সমুদ্রে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিপত্তি। মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খালাস ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সারা দেশে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানী ঢাকার সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার ওপর।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে মহেশখালীর এই দুটি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু সমুদ্র উত্তাল হওয়ায় সোমবার গভীর রাত থেকেই ধাপে ধাপে সরবরাহ ৩০ কোটি ঘনফুট কমে গেছে। এখন সরবরাহ হচ্ছে ৭৫ কোটি ঘনফুট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহের এই ঘাটতি বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দেশের সামগ্রিক গ্যাস চাহিদার প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ মেটানো হয় এই আমদানি করা এলএনজি দিয়ে। তাই টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমলে এর ধাক্কা সরাসরি জাতীয় গ্রিডে পড়ে। এই সংকট কেবল রান্নার চুলা নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডকেও ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলায় গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মহেশখালীর টার্মিনালগুলোতে সমস্যার কারণে তাদের আওতাভুক্ত এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহকপ্রান্তে গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এই সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাসের এই চাপ কমে যাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদী হলে কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। এখন আবহাওয়া কখন ঠিক হবে এবং সরবরাহ কখন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ গ্রাহক।

বিষয় : গ্যাস সংকট

সমুদ্রে দুর্যোগের প্রভাব: এলএনজি সরবরাহ কমে গ্যাসের তীব্র সংকট
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


সমুদ্রে দুর্যোগের প্রভাব: এলএনজি সরবরাহ কমে গ্যাসের তীব্র সংকট

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

সমুদ্রে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিপত্তি। মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খালাস ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সারা দেশে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানী ঢাকার সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার ওপর।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে মহেশখালীর এই দুটি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু সমুদ্র উত্তাল হওয়ায় সোমবার গভীর রাত থেকেই ধাপে ধাপে সরবরাহ ৩০ কোটি ঘনফুট কমে গেছে। এখন সরবরাহ হচ্ছে ৭৫ কোটি ঘনফুট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহের এই ঘাটতি বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দেশের সামগ্রিক গ্যাস চাহিদার প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ মেটানো হয় এই আমদানি করা এলএনজি দিয়ে। তাই টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমলে এর ধাক্কা সরাসরি জাতীয় গ্রিডে পড়ে। এই সংকট কেবল রান্নার চুলা নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডকেও ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলায় গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মহেশখালীর টার্মিনালগুলোতে সমস্যার কারণে তাদের আওতাভুক্ত এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহকপ্রান্তে গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এই সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাসের এই চাপ কমে যাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদী হলে কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। এখন আবহাওয়া কখন ঠিক হবে এবং সরবরাহ কখন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ গ্রাহক।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত