সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

সংসদে বাজেট ছাড়াও আলোচনায় ইসলামী ব্যাংক, ’৭১-এ জামায়াতের ভূমিকা, মন্ত্রীদের অনুপস্থিতিসহ নানা ইস্যু

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট পাস হলেও সংসদে ছিল উত্তপ্ত রাজনৈতিক বিতর্ক। মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াতের ভূমিকা, ব্যাংক দখল ও মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে সরগরম ছিল পুরো অধিবেশন।

সংসদে বাজেট ছাড়াও আলোচনায় ইসলামী ব্যাংক, ’৭১-এ জামায়াতের ভূমিকা, মন্ত্রীদের অনুপস্থিতিসহ নানা ইস্যু
ছবি -সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন প্রথাগত আয়-ব্যয়ের হিসাবের গণ্ডি ছাড়িয়ে হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক বিতর্কের প্রধান মঞ্চ। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট নিয়ে আলোচনার চেয়েও সংসদীয় কক্ষ উত্তপ্ত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা, ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা বিতর্ক এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে। গত ৭ জুন শুরু হওয়া এই অধিবেশন ৩০ জুন বাজেট পাসের মধ্য দিয়ে এক ধাপ পার হলেও ৭ জুলাই পর্যন্ত তা মুলতবি রয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্যমতে, এবারের বাজেটের ওপর মোট ৪৮ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট আলোচনা হয়েছে, যেখানে ২৯১ জন সংসদ সদস্য অংশ নিয়েছেন। সরকারি দলের সদস্যরা প্রস্তাবিত বাজেটকে জনকল্যাণমুখী, বৃহৎ ও কৃষিবান্ধব হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। বিপরীতে বিরোধী দলের সদস্যরা এটিকে ‘উচ্চাভিলাষী’ ও ‘ঋণনির্ভর’ আখ্যা দিয়ে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন।

অধিবেশনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় ছিল ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা। বিএনপির সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম থেকে শুরু করে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা—স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দলটির অতীত কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। মন্ত্রীরা দলটিকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। যদিও জামায়াতের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। এই রাজনৈতিক উত্তাপের রেশ ধরেই গত ২৮ জুন সরকারি দলের নেতাদের মন্তব্যের প্রতিবাদে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।

বাজেট আলোচনার পাশাপাশি ব্যাংক খাতের অস্থিরতা, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছে। বিরোধী দল অভিযোগ করেছে, ডিজিএফআইয়ের সহায়তায় ব্যাংকটির শেয়ার দখল করা হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারি দলের পক্ষ থেকে উল্টো জামায়াতের নির্বাচনে অর্থায়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ অধিবেশনজুড়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

প্রশাসনিক ও শৃঙ্খলা ইস্যুতেও সংসদ ছিল সরব। অধিবেশনে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ অনেক সদস্য প্রশ্ন তুলেছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য চিফ হুইপের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এর বাইরেও সীমান্ত হত্যা ও ‘পুশ-ইন’ ইস্যু নিয়ে আলোচনার নোটিশ গৃহীত হলেও শেষমুহূর্তে তা ‘অনিবার্য কারণে’ স্থগিত করায় বিরোধী দল অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

তবে এসব বিতর্কের পাশাপাশি একটি ইতিবাচক বিষয়ও লক্ষ্য করা গেছে। ২১ থেকে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে কেন্দ্র করে সর্বসম্মতিক্রমে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আনা এ প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনার পর তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। সামগ্রিকভাবে, এবারের বাজেট অধিবেশন কেবল অর্থনৈতিক প্রস্তাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুতে রাজনৈতিক মতভিন্নতার এক বড় প্রকাশস্থল হয়ে উঠেছিল।

বিষয় : ইসলামী ব্যাংক বাজেট অধিবেশন ৭১-এ জামায়াতের ভূমিকা

কাল মহাকাল

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬


সংসদে বাজেট ছাড়াও আলোচনায় ইসলামী ব্যাংক, ’৭১-এ জামায়াতের ভূমিকা, মন্ত্রীদের অনুপস্থিতিসহ নানা ইস্যু

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন প্রথাগত আয়-ব্যয়ের হিসাবের গণ্ডি ছাড়িয়ে হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক বিতর্কের প্রধান মঞ্চ। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট নিয়ে আলোচনার চেয়েও সংসদীয় কক্ষ উত্তপ্ত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা, ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা বিতর্ক এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে। গত ৭ জুন শুরু হওয়া এই অধিবেশন ৩০ জুন বাজেট পাসের মধ্য দিয়ে এক ধাপ পার হলেও ৭ জুলাই পর্যন্ত তা মুলতবি রয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্যমতে, এবারের বাজেটের ওপর মোট ৪৮ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট আলোচনা হয়েছে, যেখানে ২৯১ জন সংসদ সদস্য অংশ নিয়েছেন। সরকারি দলের সদস্যরা প্রস্তাবিত বাজেটকে জনকল্যাণমুখী, বৃহৎ ও কৃষিবান্ধব হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। বিপরীতে বিরোধী দলের সদস্যরা এটিকে ‘উচ্চাভিলাষী’ ও ‘ঋণনির্ভর’ আখ্যা দিয়ে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন।

অধিবেশনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় ছিল ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা। বিএনপির সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম থেকে শুরু করে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা—স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দলটির অতীত কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। মন্ত্রীরা দলটিকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। যদিও জামায়াতের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম এর কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। এই রাজনৈতিক উত্তাপের রেশ ধরেই গত ২৮ জুন সরকারি দলের নেতাদের মন্তব্যের প্রতিবাদে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।

বাজেট আলোচনার পাশাপাশি ব্যাংক খাতের অস্থিরতা, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছে। বিরোধী দল অভিযোগ করেছে, ডিজিএফআইয়ের সহায়তায় ব্যাংকটির শেয়ার দখল করা হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারি দলের পক্ষ থেকে উল্টো জামায়াতের নির্বাচনে অর্থায়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ অধিবেশনজুড়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

প্রশাসনিক ও শৃঙ্খলা ইস্যুতেও সংসদ ছিল সরব। অধিবেশনে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ অনেক সদস্য প্রশ্ন তুলেছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য চিফ হুইপের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এর বাইরেও সীমান্ত হত্যা ও ‘পুশ-ইন’ ইস্যু নিয়ে আলোচনার নোটিশ গৃহীত হলেও শেষমুহূর্তে তা ‘অনিবার্য কারণে’ স্থগিত করায় বিরোধী দল অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

তবে এসব বিতর্কের পাশাপাশি একটি ইতিবাচক বিষয়ও লক্ষ্য করা গেছে। ২১ থেকে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে কেন্দ্র করে সর্বসম্মতিক্রমে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আনা এ প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনার পর তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। সামগ্রিকভাবে, এবারের বাজেট অধিবেশন কেবল অর্থনৈতিক প্রস্তাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুতে রাজনৈতিক মতভিন্নতার এক বড় প্রকাশস্থল হয়ে উঠেছিল।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত