সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 বিনোদনবিনোদন

বিদায় ‘পাপেটম্যান’: শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা শেষে বনানীতে দাফন মুস্তাফা মনোয়ারকে

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বিটিভিতে প্রথম জানাজা, সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন; চারুকলা অনুষদ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এই কিংবদন্তি।

বিদায় ‘পাপেটম্যান’: শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা শেষে বনানীতে দাফন মুস্তাফা মনোয়ারকে
ছবি -সংগৃহীত

বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি, চিত্রকর্ম এবং পুতুলনাচ বা পাপেট শোর প্রবাদপ্রতিম পুরুষ, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মহাপ্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশজুড়ে। সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কালজয়ী ব্যক্তিত্ব। আগামী মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা এবং জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।

সোমবার দুপুরে হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে শিল্পীর শেষ বিদায়ের বিস্তারিত সময়সূচি তুলে ধরেন তাঁর ছেলে সাদাত মনোয়ার। তিনি জানান, বর্তমানে তাঁর বাবার মরদেহ বাসভবনে রাখা হয়েছে। সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা ও বিদায় জানানোর সুবিধার্থে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ সর্বপ্রথম তাঁর স্মৃতিবিজড়িত কর্মস্থল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে মরদেহ নিয়ে আসা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এখানে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মরদেহ রাখা হবে, যাতে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকেরাও এই মহান গুণীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।

শহীদ মিনারের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে, যেখানে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রিয় কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আধা ঘণ্টার জন্য মরদেহ রাখা হবে। সেখানে তাঁর সহকর্মী, শিক্ষক ও স্নেহের শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রিয় গুরুকে শেষ বিদায় জানাবেন। চারুকলার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বিকেলের মধ্যেই বনানী কবরস্থানে তাঁর দাফন কাজ সম্পন্ন করা হবে। গুণী এই শিল্পীর শেষ বিদায়ে অংশ নিতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শুভানুধ্যায়ীরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

এর আগে নিউমোনিয়ার ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন থেকে রাজধানীর ওই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। মাঝখানে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রেও (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সোমবার সকালে তিনি চলে যান না-ফেরার দেশে। এর আগে ২০২৪ সালেও একবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে লাইফ সাপোর্টে যেতে হয়েছিল এই বর্ষীয়ান শিল্পীকে।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন একাধারে বরেণ্য চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, দূরদর্শিতা সম্পন্ন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের পাপেট শোর অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ। শিল্পকলায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’ এবং ২০১৮ সালে ‘সুলতান স্বর্ণপদক’ লাভ করেন। তাঁর এই চিরবিদায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক অপূরণীয় ক্ষতি।

বিষয় : মুস্তাফা মনোয়ার

বিদায় ‘পাপেটম্যান’: শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা শেষে বনানীতে দাফন মুস্তাফা মনোয়ারকে
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


বিদায় ‘পাপেটম্যান’: শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা শেষে বনানীতে দাফন মুস্তাফা মনোয়ারকে

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি, চিত্রকর্ম এবং পুতুলনাচ বা পাপেট শোর প্রবাদপ্রতিম পুরুষ, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মহাপ্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশজুড়ে। সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কালজয়ী ব্যক্তিত্ব। আগামী মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা এবং জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।

সোমবার দুপুরে হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে শিল্পীর শেষ বিদায়ের বিস্তারিত সময়সূচি তুলে ধরেন তাঁর ছেলে সাদাত মনোয়ার। তিনি জানান, বর্তমানে তাঁর বাবার মরদেহ বাসভবনে রাখা হয়েছে। সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা ও বিদায় জানানোর সুবিধার্থে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ সর্বপ্রথম তাঁর স্মৃতিবিজড়িত কর্মস্থল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে মরদেহ নিয়ে আসা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এখানে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মরদেহ রাখা হবে, যাতে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকেরাও এই মহান গুণীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।

শহীদ মিনারের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে, যেখানে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রিয় কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আধা ঘণ্টার জন্য মরদেহ রাখা হবে। সেখানে তাঁর সহকর্মী, শিক্ষক ও স্নেহের শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রিয় গুরুকে শেষ বিদায় জানাবেন। চারুকলার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বিকেলের মধ্যেই বনানী কবরস্থানে তাঁর দাফন কাজ সম্পন্ন করা হবে। গুণী এই শিল্পীর শেষ বিদায়ে অংশ নিতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শুভানুধ্যায়ীরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

এর আগে নিউমোনিয়ার ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন থেকে রাজধানীর ওই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। মাঝখানে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রেও (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সোমবার সকালে তিনি চলে যান না-ফেরার দেশে। এর আগে ২০২৪ সালেও একবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে লাইফ সাপোর্টে যেতে হয়েছিল এই বর্ষীয়ান শিল্পীকে।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন একাধারে বরেণ্য চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, দূরদর্শিতা সম্পন্ন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের পাপেট শোর অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ। শিল্পকলায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’ এবং ২০১৮ সালে ‘সুলতান স্বর্ণপদক’ লাভ করেন। তাঁর এই চিরবিদায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক অপূরণীয় ক্ষতি।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত