সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 ইরান যুদ্ধইরান যুদ্ধ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র : নেপথ্যে ইরানী নেতাদের অনমনীয় মানসিকতা

ইরানের নেতাদের ‘অহংকারী’ ও ‘শক্তিশালী’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সংঘাত অবসানে শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তিতে আসা ছাড়া তাদের আর কোনো গতি নেই। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে উভয় পক্ষ, তবে ট্রাম্পের দাবি, পরিস্থিতি তাদের বাধ্য করবে মার্কিন শর্ত মেনে নিতে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র : নেপথ্যে ইরানী নেতাদের অনমনীয় মানসিকতা
ছবি -সংগৃহীত

শুক্রবার উইসকনসিনের চিপেওয়া ফলসে এনবিসি নিউজের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বর্তমান নেতাদের তেজ বা শক্তির কারণে হয়তো তারা আলোচনায় নমনীয় হচ্ছে না, কিন্তু এটি স্থায়ী নয়। তাদের কোনো বিকল্প নেই, তবে এটি সময়ের ব্যাপার। চলমান এই সংকট মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি রিপাবলিকান নেতাদের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।

৪৭ বছরের দীর্ঘ বৈরিতার কথা স্মরণ করিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, এই নেতারা আমেরিকানদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে চলমান এই সংকটের তুলনা টেনে তিনি বলেন, ভিয়েতনাম ১৯ বছর চলেছিল, সেখানে ইরান ইস্যুতে তার পদক্ষেপ নেওয়ার মাত্র তিন মাস হয়েছে। দ্রুত সমাধানের দাবি তোলায় সমালোচকদের প্রতি ক্ষোভ ঝেড়ে তিনি বলেন, ‘আমি ডেমোক্র্যাট হলে হয়তো এই প্রশ্ন উঠত না।’

সামরিক সক্ষমতার বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি, তিনি ইরানের ড্রোন কারখানা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশ ধ্বংস করে দিয়েছেন। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, ইরানের কাছে এখনও ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে, যা সংখ্যার বিচারে কম নয়। তবে পারস্য উপসাগরে সাম্প্রতিক হামলাগুলো প্রমাণ করেছে, ইরানের পাল্টা আঘাত করার সক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে নিজের অবস্থানে অটল থাকা ট্রাম্পের কণ্ঠে এখন আলটিমেটাম। চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেছেন, এখন সময় এসেছে ঠিক করার—আমরা চুক্তিতে সই করব নাকি অন্য পথে হাঁটব? আর সেই ‘অন্য পথ’ যে ইরান বা বিশ্ববাসীর জন্য মোটেও সুখকর হবে না, সেই বার্তাটিও তিনি দিয়ে রেখেছেন।

বিষয় : ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা ইরান সংকট মার্কিন-ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র : নেপথ্যে ইরানী নেতাদের অনমনীয় মানসিকতা
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬


ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র : নেপথ্যে ইরানী নেতাদের অনমনীয় মানসিকতা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image

শুক্রবার উইসকনসিনের চিপেওয়া ফলসে এনবিসি নিউজের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বর্তমান নেতাদের তেজ বা শক্তির কারণে হয়তো তারা আলোচনায় নমনীয় হচ্ছে না, কিন্তু এটি স্থায়ী নয়। তাদের কোনো বিকল্প নেই, তবে এটি সময়ের ব্যাপার। চলমান এই সংকট মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি রিপাবলিকান নেতাদের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।

৪৭ বছরের দীর্ঘ বৈরিতার কথা স্মরণ করিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, এই নেতারা আমেরিকানদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে চলমান এই সংকটের তুলনা টেনে তিনি বলেন, ভিয়েতনাম ১৯ বছর চলেছিল, সেখানে ইরান ইস্যুতে তার পদক্ষেপ নেওয়ার মাত্র তিন মাস হয়েছে। দ্রুত সমাধানের দাবি তোলায় সমালোচকদের প্রতি ক্ষোভ ঝেড়ে তিনি বলেন, ‘আমি ডেমোক্র্যাট হলে হয়তো এই প্রশ্ন উঠত না।’

সামরিক সক্ষমতার বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি, তিনি ইরানের ড্রোন কারখানা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশ ধ্বংস করে দিয়েছেন। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, ইরানের কাছে এখনও ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে, যা সংখ্যার বিচারে কম নয়। তবে পারস্য উপসাগরে সাম্প্রতিক হামলাগুলো প্রমাণ করেছে, ইরানের পাল্টা আঘাত করার সক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে নিজের অবস্থানে অটল থাকা ট্রাম্পের কণ্ঠে এখন আলটিমেটাম। চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেছেন, এখন সময় এসেছে ঠিক করার—আমরা চুক্তিতে সই করব নাকি অন্য পথে হাঁটব? আর সেই ‘অন্য পথ’ যে ইরান বা বিশ্ববাসীর জন্য মোটেও সুখকর হবে না, সেই বার্তাটিও তিনি দিয়ে রেখেছেন।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত