সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

শিশু রামিসা হত্যা: আদালতে শুরু হলো যুক্তিতর্ক

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার চাঞ্চল্যকর এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে আদালতে শুরু হয়েছে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক।

শিশু রামিসা হত্যা: আদালতে শুরু হলো যুক্তিতর্ক
ছবি -সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার মতো নৃশংস ঘটনায় বিচারের চাকা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আদালতে এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শুরু করেন। ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকা পরিবার ও সমাজের মানুষের দৃষ্টি এখন এই ট্রাইব্যুনালের দিকে।

শুনানি শুরুর আগে মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখার পর বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এজলাসে তোলা হয়। এর কিছুক্ষণ পর অসুস্থ বোধ করায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার স্ত্রী স্বপ্নাকে এজলাসে নিয়ে আসা হয়। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু শুনানি শুরু করেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আবেদন জানান। অপরদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ শুনানিতে অংশ নেন।

এর আগে গত সোমবার আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন। এরপর অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে চার্জশিটভুক্ত ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। গতকাল আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও রাষ্ট্রপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ১৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও তথ্য-উপাত্ত পেশ করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে তার নিজ বাসা থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যান আসামি স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা আসামির রুমের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। এরপর দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা যে বীভৎস দৃশ্যের মুখোমুখি হন, তা স্তম্ভিত করে দেয় গোটা শহরকে। আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে পড়েছিল রামিসার মস্তকবিহীন দেহ, আর তার কাটা মাথাটি পাওয়া যায় ঘরের একটি বড় বালতির ভেতরে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কলের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।

ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা কর্তৃক পল্লবী থানায় দায়ের করা এই মামলার তদন্ত শেষ করে গত ২৪ মে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের রায় হবে বলে প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

বিষয় : রামিসা হত্যা মামলা আদালতে যুক্তিতর্ক

শিশু রামিসা হত্যা: আদালতে শুরু হলো যুক্তিতর্ক
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


শিশু রামিসা হত্যা: আদালতে শুরু হলো যুক্তিতর্ক

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার মতো নৃশংস ঘটনায় বিচারের চাকা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আদালতে এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শুরু করেন। ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকা পরিবার ও সমাজের মানুষের দৃষ্টি এখন এই ট্রাইব্যুনালের দিকে।

শুনানি শুরুর আগে মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখার পর বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এজলাসে তোলা হয়। এর কিছুক্ষণ পর অসুস্থ বোধ করায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার স্ত্রী স্বপ্নাকে এজলাসে নিয়ে আসা হয়। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু শুনানি শুরু করেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আবেদন জানান। অপরদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ শুনানিতে অংশ নেন।

এর আগে গত সোমবার আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন। এরপর অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে চার্জশিটভুক্ত ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। গতকাল আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও রাষ্ট্রপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ১৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও তথ্য-উপাত্ত পেশ করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে তার নিজ বাসা থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যান আসামি স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা আসামির রুমের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। এরপর দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা যে বীভৎস দৃশ্যের মুখোমুখি হন, তা স্তম্ভিত করে দেয় গোটা শহরকে। আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে পড়েছিল রামিসার মস্তকবিহীন দেহ, আর তার কাটা মাথাটি পাওয়া যায় ঘরের একটি বড় বালতির ভেতরে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কলের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।

ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা কর্তৃক পল্লবী থানায় দায়ের করা এই মামলার তদন্ত শেষ করে গত ২৪ মে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের রায় হবে বলে প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত