সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

সহায়তা কমে আসছে, চরম অনিশ্চয়তায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা

সহায়তা কমে আসছে, চরম অনিশ্চয়তায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা
ছবি -সংগৃহীত

মানবিক সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁটে জীবন এখন কঠিন হয়ে পড়ছে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য। পরিস্থিতি সামাল দিতে দাতা দেশগুলোর প্রতি নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ।

কক্সবাজারের শরণার্থীশিবিরগুলোতে এখন দীর্ঘশ্বাসের মাত্রা বেড়েছে। মানবিক সহায়তায় টান পড়ায় আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গার প্রতিটি দিন এখন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা বলছে, আন্তর্জাতিক সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁট শুধু সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি সরাসরি আঘাত করছে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়োজ্যেষ্ঠদের ওপর। বিশেষ করে যারা এই বছরের শুরুতেই রাখাইনের সহিংসতা থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে নতুন করে বাংলাদেশে এসেছেন, তাদের পরিস্থিতি এখন সবচেয়ে নাজুক।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন পর্যন্ত প্রয়োজনের প্রায় ৬০ শতাংশ সহায়তা দিলেও, তা দীর্ঘমেয়াদী সংকট মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়। সংস্থাটি এবার যে ৭১০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তার আবেদন জানিয়েছে, তা গত বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম। অথচ বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার এই সময়ে রোহিঙ্গারাই সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক ও মানবিক বঞ্চনার শিকার। পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে এই শরণার্থীরা যে কেবল ত্রাণনির্ভর হয়ে থাকবেন তা নয়, বরং তাদের জীবন আরও জটিল ও সংকটাপন্ন হয়ে পড়বে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফেরার পথ ক্রমশ ধোঁয়াশায় ঢাকা পড়ছে। সংঘাত ও নিপীড়ন থেকে মুক্তি না মেলায় অনেক শরণার্থী এখন মরিয়া হয়ে ভালো জীবনের আশায় বেছে নিচ্ছেন মৃত্যুঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ। ২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গার নিখোঁজ বা প্রাণহানির তথ্য যেন সেই অমানবিক বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। একদিকে ত্রাণের অভাব, অন্যদিকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন তারা।

বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন মানবিক সংকটের ভিড়ে যেন এই ১২ লাখ মানুষের কথা হারিয়ে না যায়। শরণার্থী সংস্থাটি বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, যতক্ষণ পর্যন্ত মিয়ানমারে ফেরার মতো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি না হয়, ততক্ষণ তাদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়া এবং মানবিক সহায়তার হাত ধরে রাখা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অপরিহার্য নৈতিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের উদারতা রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ভূমিকা রেখেছে ঠিকই, কিন্তু অব্যাহত সহায়তা ছাড়া তাদের দুর্দশা আরও বাড়বে, যা ভবিষ্যতে মোকাবিলার খরচ ও জটিলতা দুটোই বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।


বিষয় : রোহিঙ্গা

সহায়তা কমে আসছে, চরম অনিশ্চয়তায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


সহায়তা কমে আসছে, চরম অনিশ্চয়তায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

মানবিক সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁটে জীবন এখন কঠিন হয়ে পড়ছে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য। পরিস্থিতি সামাল দিতে দাতা দেশগুলোর প্রতি নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ।

কক্সবাজারের শরণার্থীশিবিরগুলোতে এখন দীর্ঘশ্বাসের মাত্রা বেড়েছে। মানবিক সহায়তায় টান পড়ায় আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গার প্রতিটি দিন এখন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা বলছে, আন্তর্জাতিক সহায়তায় বড় ধরনের কাটছাঁট শুধু সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি সরাসরি আঘাত করছে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়োজ্যেষ্ঠদের ওপর। বিশেষ করে যারা এই বছরের শুরুতেই রাখাইনের সহিংসতা থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে নতুন করে বাংলাদেশে এসেছেন, তাদের পরিস্থিতি এখন সবচেয়ে নাজুক।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন পর্যন্ত প্রয়োজনের প্রায় ৬০ শতাংশ সহায়তা দিলেও, তা দীর্ঘমেয়াদী সংকট মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়। সংস্থাটি এবার যে ৭১০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তার আবেদন জানিয়েছে, তা গত বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম। অথচ বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার এই সময়ে রোহিঙ্গারাই সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক ও মানবিক বঞ্চনার শিকার। পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে এই শরণার্থীরা যে কেবল ত্রাণনির্ভর হয়ে থাকবেন তা নয়, বরং তাদের জীবন আরও জটিল ও সংকটাপন্ন হয়ে পড়বে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফেরার পথ ক্রমশ ধোঁয়াশায় ঢাকা পড়ছে। সংঘাত ও নিপীড়ন থেকে মুক্তি না মেলায় অনেক শরণার্থী এখন মরিয়া হয়ে ভালো জীবনের আশায় বেছে নিচ্ছেন মৃত্যুঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ। ২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গার নিখোঁজ বা প্রাণহানির তথ্য যেন সেই অমানবিক বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। একদিকে ত্রাণের অভাব, অন্যদিকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন তারা।

বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন মানবিক সংকটের ভিড়ে যেন এই ১২ লাখ মানুষের কথা হারিয়ে না যায়। শরণার্থী সংস্থাটি বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, যতক্ষণ পর্যন্ত মিয়ানমারে ফেরার মতো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি না হয়, ততক্ষণ তাদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়া এবং মানবিক সহায়তার হাত ধরে রাখা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অপরিহার্য নৈতিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের উদারতা রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ভূমিকা রেখেছে ঠিকই, কিন্তু অব্যাহত সহায়তা ছাড়া তাদের দুর্দশা আরও বাড়বে, যা ভবিষ্যতে মোকাবিলার খরচ ও জটিলতা দুটোই বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত