সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 অর্থনীতিঅর্থনীতি

রাজস্ব আদায়ে বড় ধস: এক লাখ কোটির ঘাটতিতে অর্থনীতি

লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতায় চাপে উন্নয়ন প্রকল্প। করজালের পরিধি বাড়ানো ও কাঠামোগত সংস্কারের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

রাজস্ব আদায়ে বড় ধস: এক লাখ কোটির ঘাটতিতে অর্থনীতি
ছবি -সংগৃহীত

দেশের রাজস্ব আদায়ে এবার বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। প্রথমবারের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক-কর আদায়ের ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের ইতিহাসে এ যাবৎকালের রেকর্ড। অর্থনীতির শ্লথগতি আর ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতার এমন সময়ে এই বিশাল ঘাটতি সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে এনবিআর চার লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে আয় হয়েছে তিন লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকার ওপর। অথচ সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী মে ও জুন—এই দুই মাসে পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা আদায় করা প্রায় অসম্ভব একটি লক্ষ্যমাত্রা।

আয়ের এই দৈন্যদশায় সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে আয়কর, ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক খাতে। জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত হিসাব কষলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে, যা ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এর পাশাপাশি ভ্যাট ও শুল্ক খাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে আছে এনবিআর। রাজনৈতিক উত্তরণ, নির্বাচনের আমেজ আর অর্থনীতির চাপের মুখে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি কমে যাওয়াই এই ঘাটতির বড় কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজস্বের এই বড় ঘাটতি সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। সরকারের বাজেটের বড় একটা অংশ আসে এনবিআর থেকে। সেই আয়ের উৎস শুকিয়ে এলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বা ঋণের সুদ পরিশোধের মতো বাধ্যবাধকতামূলক খরচ ঠিক রাখতে গিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে কোপ পড়ে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে অর্থের টানাপোড়েন দেখা দেয়। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এমনিতেই ৬ থেকে ৭ শতাংশের ঘরে আটকে আছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্নগুলোর একটি।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে নতুন করে সংস্কারের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। অতীতে সংস্কারের জন্য অধ্যাদেশ জারি হলেও তা সংসদে আইন হিসেবে পাস হয়নি, ফলে কার্যকারিতা হারিয়েছে। তবে এবার প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে। কিন্তু শুধু কমিটি গঠন বা প্রশাসনিক রদবদলই যথেষ্ট নয়; অর্থনীতিবিদদের মতে, কর ফাঁকি রোধ, করজালের পরিধি বাড়ানো এবং রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। না হলে প্রতিবারই এমন ঘাটতির বৃত্তে ঘুরপাক খেতে হবে দেশের অর্থনীতিকে।

বিষয় : রাজস্ব ঘাটতি রেকর্ড রাজস্ব ঘাটতি এন বি আর

রাজস্ব আদায়ে বড় ধস: এক লাখ কোটির ঘাটতিতে অর্থনীতি
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


রাজস্ব আদায়ে বড় ধস: এক লাখ কোটির ঘাটতিতে অর্থনীতি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

featured Image

দেশের রাজস্ব আদায়ে এবার বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। প্রথমবারের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক-কর আদায়ের ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের ইতিহাসে এ যাবৎকালের রেকর্ড। অর্থনীতির শ্লথগতি আর ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতার এমন সময়ে এই বিশাল ঘাটতি সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে এনবিআর চার লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে আয় হয়েছে তিন লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকার ওপর। অথচ সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী মে ও জুন—এই দুই মাসে পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা আদায় করা প্রায় অসম্ভব একটি লক্ষ্যমাত্রা।

আয়ের এই দৈন্যদশায় সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে আয়কর, ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক খাতে। জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত হিসাব কষলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে, যা ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এর পাশাপাশি ভ্যাট ও শুল্ক খাতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে আছে এনবিআর। রাজনৈতিক উত্তরণ, নির্বাচনের আমেজ আর অর্থনীতির চাপের মুখে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি কমে যাওয়াই এই ঘাটতির বড় কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজস্বের এই বড় ঘাটতি সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। সরকারের বাজেটের বড় একটা অংশ আসে এনবিআর থেকে। সেই আয়ের উৎস শুকিয়ে এলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বা ঋণের সুদ পরিশোধের মতো বাধ্যবাধকতামূলক খরচ ঠিক রাখতে গিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে কোপ পড়ে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে অর্থের টানাপোড়েন দেখা দেয়। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এমনিতেই ৬ থেকে ৭ শতাংশের ঘরে আটকে আছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্নগুলোর একটি।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে নতুন করে সংস্কারের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। অতীতে সংস্কারের জন্য অধ্যাদেশ জারি হলেও তা সংসদে আইন হিসেবে পাস হয়নি, ফলে কার্যকারিতা হারিয়েছে। তবে এবার প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে। কিন্তু শুধু কমিটি গঠন বা প্রশাসনিক রদবদলই যথেষ্ট নয়; অর্থনীতিবিদদের মতে, কর ফাঁকি রোধ, করজালের পরিধি বাড়ানো এবং রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। না হলে প্রতিবারই এমন ঘাটতির বৃত্তে ঘুরপাক খেতে হবে দেশের অর্থনীতিকে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত