বাংলাদেশ
ঈদের পশুর হাটের আলোচনার তুঙ্গে থাকা সেই আলবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ আর কোরবানি হচ্ছে না। যে মহিষটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহল ছিল আকাশচুম্বী, সেই আলোচিত পশুটিকে শেষ মুহূর্তে কোরবানির তালিকা থেকে সরিয়ে সরকারি হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার বিকেল থেকেই কেরানীগঞ্জের জিনজিরার ইসলামপুরে মহিষটির মালিক মনিরুজ্জামানের বাড়িতে শুরু হয় তোড়জোড়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ মহিষটিকে মালিকের কাছ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
রাজধানীর উপকণ্ঠে কেরানীগঞ্জের এই মহিষটি দেখতে গত কয়েক দিন ধরে মানুষের ঢল নেমেছিল। অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটির চুল ও চোখের রং ভিন্ন হওয়ার কারণে এর চেহারার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টের নামের মিল খুঁজে পেয়েছিলেন এর আগের মালিক। সেই থেকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামেই বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায় এই প্রাণী। কেবল দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রয়টার্স কিংবা এএফপির মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছিল এই মহিষ। বিরল প্রজাতির এই প্রাণীটি কোরবানির জন্য কেনা হলেও শেষ পর্যন্ত এটি আর ভাগ্যের লিখন বদলাতে পারল না।
বুধবার বিকেল ৪টার দিকে জেলা পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মালিক মনিরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলেন। মূলত ওপরের নির্দেশের পরই মহিষটিকে থানায় নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মনিরুজ্জামান নিজেও সরকারি এই সিদ্ধান্তে কোনো বাধা দেননি। তিনি জানান, কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা চান না। সরকার চেয়েছে, তাই দিয়ে দিয়েছেন। বিনিময়ে মহিষটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রদান করা হবে কিংবা অন্য পশু দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুছ জানিয়েছেন, এটি বিরল প্রজাতির প্রাণী হওয়ার কারণে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
থানায় নেওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত মহিষটিকে এক নজর দেখার জন্য মানুষের ভিড় কমেনি। দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে মালিককে মহিষটিকে ঘরের ভেতরে আটকে রাখতে হয়েছিল। কিন্তু বিকেলে যখন পুলিশ মহিষটিকে নিয়ে যাচ্ছিল, তখনো অনেক কৌতূহলী মানুষ ভিড় করেছিলেন। মালিকের ছেলে মাহির জানান, পুলিশের নির্দেশ মেনেই তারা মহিষটিকে থানায় পৌঁছে দিয়েছেন। এখন এর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা সরকারের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন তারা। একটি প্রাণী কোরবানির হাটের কসাইয়ের ছুরি থেকে বেঁচে গিয়ে এখন সরকারি আশ্রয় পাচ্ছে, এমন দৃশ্য হয়তো গত কয়েক দশকের ঈদের বাজারে দেখা যায়নি। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ কেবল একটি মহিষ নয়, বরং একটি কৌতূহলের প্রতীকে পরিণত হলো।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
ঈদের পশুর হাটের আলোচনার তুঙ্গে থাকা সেই আলবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ আর কোরবানি হচ্ছে না। যে মহিষটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহল ছিল আকাশচুম্বী, সেই আলোচিত পশুটিকে শেষ মুহূর্তে কোরবানির তালিকা থেকে সরিয়ে সরকারি হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার বিকেল থেকেই কেরানীগঞ্জের জিনজিরার ইসলামপুরে মহিষটির মালিক মনিরুজ্জামানের বাড়িতে শুরু হয় তোড়জোড়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ মহিষটিকে মালিকের কাছ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
রাজধানীর উপকণ্ঠে কেরানীগঞ্জের এই মহিষটি দেখতে গত কয়েক দিন ধরে মানুষের ঢল নেমেছিল। অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটির চুল ও চোখের রং ভিন্ন হওয়ার কারণে এর চেহারার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টের নামের মিল খুঁজে পেয়েছিলেন এর আগের মালিক। সেই থেকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামেই বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায় এই প্রাণী। কেবল দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রয়টার্স কিংবা এএফপির মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও জায়গা করে নিয়েছিল এই মহিষ। বিরল প্রজাতির এই প্রাণীটি কোরবানির জন্য কেনা হলেও শেষ পর্যন্ত এটি আর ভাগ্যের লিখন বদলাতে পারল না।
বুধবার বিকেল ৪টার দিকে জেলা পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মালিক মনিরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলেন। মূলত ওপরের নির্দেশের পরই মহিষটিকে থানায় নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মনিরুজ্জামান নিজেও সরকারি এই সিদ্ধান্তে কোনো বাধা দেননি। তিনি জানান, কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা চান না। সরকার চেয়েছে, তাই দিয়ে দিয়েছেন। বিনিময়ে মহিষটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রদান করা হবে কিংবা অন্য পশু দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুছ জানিয়েছেন, এটি বিরল প্রজাতির প্রাণী হওয়ার কারণে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
থানায় নেওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত মহিষটিকে এক নজর দেখার জন্য মানুষের ভিড় কমেনি। দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে মালিককে মহিষটিকে ঘরের ভেতরে আটকে রাখতে হয়েছিল। কিন্তু বিকেলে যখন পুলিশ মহিষটিকে নিয়ে যাচ্ছিল, তখনো অনেক কৌতূহলী মানুষ ভিড় করেছিলেন। মালিকের ছেলে মাহির জানান, পুলিশের নির্দেশ মেনেই তারা মহিষটিকে থানায় পৌঁছে দিয়েছেন। এখন এর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা সরকারের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন তারা। একটি প্রাণী কোরবানির হাটের কসাইয়ের ছুরি থেকে বেঁচে গিয়ে এখন সরকারি আশ্রয় পাচ্ছে, এমন দৃশ্য হয়তো গত কয়েক দশকের ঈদের বাজারে দেখা যায়নি। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ কেবল একটি মহিষ নয়, বরং একটি কৌতূহলের প্রতীকে পরিণত হলো।
2.png)