লোকাল ফোকাস
সরকারি অফিসের দাপ্তরিক চেয়ারে জনপ্রতিনিধির বসে পড়ার ঘটনা নতুন নয়, তবে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের ক্ষেত্রে এই দৃশ্যটি নেটদুনিয়ায় বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে দেবহাটার সখিপুর মোড় এলাকায় সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-জোনাল অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান এমপি। তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও পুলিশের কর্মকর্তারা। অফিসের কার্যক্রম খতিয়ে দেখার এক পর্যায়ে তিনি সরাসরি বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম-এর জন্য নির্ধারিত চেয়ারে গিয়ে বসেন এবং চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।
মুহূর্তের মধ্যেই এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই শুরু হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একপক্ষের দাবি, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি অফিস পরিদর্শন করতে পারেন, কিন্তু সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ারে বসাটা প্রশাসনিক শিষ্টাচারবহির্ভূত। অন্যদিকে তার সমর্থকদের মতে, বিদ্যুতের বেহাল দশা ও গ্রাহক ভোগান্তি নিরসনের লক্ষ্য নিয়েই এমপি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন, তাই চেয়ারে বসার বিষয়টি নিয়ে অহেতুক জলঘোলা করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক ও আইনগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী কামরুজ্জামান ভুট্টো। তিনি মনে করেন, পদমর্যাদা ও ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্যের অবস্থান অনেক ঊর্ধ্বে হলেও সরকারি দপ্তরের পেশাদারিত্ব বজায় রাখা জরুরি। তার মতে, পরিদর্শনে গেলে সাধারণত আলাদা সম্মানজনক আসনের ব্যবস্থা করা হয়। এভাবে হুট করে কর্মকর্তার চেয়ারে বসে পড়াটা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচারের সঙ্গে খুব একটা মানানসই নয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃপক্ষের অবস্থানে কিছুটা অস্পষ্টতা লক্ষ্য করা গেছে। এজিএম মো. মাসুম বিল্লাহর সাথে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। আবার সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আজিজুর রহমান সরকার জানান, কেন এমপি মহোদয় দাপ্তরিক চেয়ারে বসলেন, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
সংসদ সদস্যের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. নজিবুল্লাহর দাবি ভিন্ন। তিনি জানান, দেবহাটা অঞ্চলের তীব্র বিদ্যুৎ সমস্যা ও গ্রাহক হয়রানি দূর করতেই এমপি মহোদয় অফিসে গিয়েছিলেন। তার ভাষ্যমতে, এজিএম সাহেবের অনুরোধেই তিনি ওই চেয়ারে বসেছিলেন। সব মিলিয়ে সরকারি অফিসের চেয়ারে জনপ্রতিনিধির বসা নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন সাতক্ষীরার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিষয় : সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
সরকারি অফিসের দাপ্তরিক চেয়ারে জনপ্রতিনিধির বসে পড়ার ঘটনা নতুন নয়, তবে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের ক্ষেত্রে এই দৃশ্যটি নেটদুনিয়ায় বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে দেবহাটার সখিপুর মোড় এলাকায় সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-জোনাল অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে যান এমপি। তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও পুলিশের কর্মকর্তারা। অফিসের কার্যক্রম খতিয়ে দেখার এক পর্যায়ে তিনি সরাসরি বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম-এর জন্য নির্ধারিত চেয়ারে গিয়ে বসেন এবং চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।
মুহূর্তের মধ্যেই এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই শুরু হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একপক্ষের দাবি, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি অফিস পরিদর্শন করতে পারেন, কিন্তু সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ারে বসাটা প্রশাসনিক শিষ্টাচারবহির্ভূত। অন্যদিকে তার সমর্থকদের মতে, বিদ্যুতের বেহাল দশা ও গ্রাহক ভোগান্তি নিরসনের লক্ষ্য নিয়েই এমপি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন, তাই চেয়ারে বসার বিষয়টি নিয়ে অহেতুক জলঘোলা করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক ও আইনগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী কামরুজ্জামান ভুট্টো। তিনি মনে করেন, পদমর্যাদা ও ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্যের অবস্থান অনেক ঊর্ধ্বে হলেও সরকারি দপ্তরের পেশাদারিত্ব বজায় রাখা জরুরি। তার মতে, পরিদর্শনে গেলে সাধারণত আলাদা সম্মানজনক আসনের ব্যবস্থা করা হয়। এভাবে হুট করে কর্মকর্তার চেয়ারে বসে পড়াটা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচারের সঙ্গে খুব একটা মানানসই নয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃপক্ষের অবস্থানে কিছুটা অস্পষ্টতা লক্ষ্য করা গেছে। এজিএম মো. মাসুম বিল্লাহর সাথে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। আবার সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আজিজুর রহমান সরকার জানান, কেন এমপি মহোদয় দাপ্তরিক চেয়ারে বসলেন, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
সংসদ সদস্যের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. নজিবুল্লাহর দাবি ভিন্ন। তিনি জানান, দেবহাটা অঞ্চলের তীব্র বিদ্যুৎ সমস্যা ও গ্রাহক হয়রানি দূর করতেই এমপি মহোদয় অফিসে গিয়েছিলেন। তার ভাষ্যমতে, এজিএম সাহেবের অনুরোধেই তিনি ওই চেয়ারে বসেছিলেন। সব মিলিয়ে সরকারি অফিসের চেয়ারে জনপ্রতিনিধির বসা নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন সাতক্ষীরার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
2.png)