অর্থনীতি
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে এই সংকট কেন তৈরি হলো, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে যেমন ক্ষোভ রয়েছে, তেমনি ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের কেনাকাটা ও প্রয়োজনীয় খরচের জন্য টাকা তুলতে গিয়ে গ্রাহকরা ফিরে আসছেন খালি হাতে। কোথাও বুথ অকেজো, আবার কোথাও টাকা উত্তোলনের সীমা বেঁধে দেওয়ায় প্রয়োজনীয় টাকা সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।
গোলাপবাগের এক বাসিন্দা জানান, তিনি ব্যাংক এশিয়ার কার্ড ব্যবহার করে স্থানীয় বেশ কয়েকটি ব্যাংকের বুথ ঘুরেও টাকা তুলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে নিজেদের ব্যাংকের বুথ খুঁজে বের করতে হয়েছে তাকে। মিরপুরের বাসিন্দা জুলকার নাইনের অভিজ্ঞতাও একই। তিনি জানান, বুথ ঘুরে টাকা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত শাখা থেকে টাকা তুলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। গ্রাহকদের অভিযোগ, এক ব্যাংকের বুথে অন্য ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা তুলতে গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লেনদেন ব্যর্থ হচ্ছে।
ব্যাংকগুলো এই সংকটের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিকে আঙুল তুলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে চাহিদা অনুযায়ী নগদ অর্থ সরবরাহ করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমরা রোববার ৩০০ কোটি টাকা চেয়েছিলাম, কিন্তু পেয়েছি মাত্র ১২০ কোটি টাকা। পর্যাপ্ত জোগান না থাকলে বুথ সচল রাখা অসম্ভব।”
অন্যদিকে, সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, তাদের সব এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ টাকা রয়েছে এবং গ্রাহকরা নির্বিঘ্নে টাকা তুলতে পারছেন। অর্থাৎ, সব ব্যাংক সংকটে নেই, সংকট নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায়।
গত ২১ মে বাংলাদেশ ব্যাংক এক নির্দেশনায় সব বাণিজ্যিক ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও পেমেন্ট অপারেটরদের ঈদুল আজহার ছুটিতে ডিজিটাল লেনদেন এবং এটিএম সেবা সার্বক্ষণিক সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নগদ টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কোনো বিধিনিষেধ নেই। তিনি বলেন, “যেসব ব্যাংক ঠিকমতো এটিএম সেবা দিতে পারছে না বা নগদ টাকার জোগান নিশ্চিত করতে পারছে না, তাদের বুথ পরিচালনা করারই দরকার নেই। গ্রাহকদের জিম্মি করার কোনো সুযোগ নেই।”
ঈদের আগে এই নগদ টাকার সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের ঈদের কেনাকাটা ও প্রস্তুতি আরও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিষয় : এটিএম বুথ নগদ টাকার সংকট
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে এই সংকট কেন তৈরি হলো, তা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে যেমন ক্ষোভ রয়েছে, তেমনি ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের কেনাকাটা ও প্রয়োজনীয় খরচের জন্য টাকা তুলতে গিয়ে গ্রাহকরা ফিরে আসছেন খালি হাতে। কোথাও বুথ অকেজো, আবার কোথাও টাকা উত্তোলনের সীমা বেঁধে দেওয়ায় প্রয়োজনীয় টাকা সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।
গোলাপবাগের এক বাসিন্দা জানান, তিনি ব্যাংক এশিয়ার কার্ড ব্যবহার করে স্থানীয় বেশ কয়েকটি ব্যাংকের বুথ ঘুরেও টাকা তুলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে নিজেদের ব্যাংকের বুথ খুঁজে বের করতে হয়েছে তাকে। মিরপুরের বাসিন্দা জুলকার নাইনের অভিজ্ঞতাও একই। তিনি জানান, বুথ ঘুরে টাকা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত শাখা থেকে টাকা তুলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। গ্রাহকদের অভিযোগ, এক ব্যাংকের বুথে অন্য ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা তুলতে গেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লেনদেন ব্যর্থ হচ্ছে।
ব্যাংকগুলো এই সংকটের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিকে আঙুল তুলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে চাহিদা অনুযায়ী নগদ অর্থ সরবরাহ করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমরা রোববার ৩০০ কোটি টাকা চেয়েছিলাম, কিন্তু পেয়েছি মাত্র ১২০ কোটি টাকা। পর্যাপ্ত জোগান না থাকলে বুথ সচল রাখা অসম্ভব।”
অন্যদিকে, সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, তাদের সব এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ টাকা রয়েছে এবং গ্রাহকরা নির্বিঘ্নে টাকা তুলতে পারছেন। অর্থাৎ, সব ব্যাংক সংকটে নেই, সংকট নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায়।
গত ২১ মে বাংলাদেশ ব্যাংক এক নির্দেশনায় সব বাণিজ্যিক ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও পেমেন্ট অপারেটরদের ঈদুল আজহার ছুটিতে ডিজিটাল লেনদেন এবং এটিএম সেবা সার্বক্ষণিক সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নগদ টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কোনো বিধিনিষেধ নেই। তিনি বলেন, “যেসব ব্যাংক ঠিকমতো এটিএম সেবা দিতে পারছে না বা নগদ টাকার জোগান নিশ্চিত করতে পারছে না, তাদের বুথ পরিচালনা করারই দরকার নেই। গ্রাহকদের জিম্মি করার কোনো সুযোগ নেই।”
ঈদের আগে এই নগদ টাকার সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের ঈদের কেনাকাটা ও প্রস্তুতি আরও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
2.png)