সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

  বানিজ্য বানিজ্য

মুষলধারে বৃষ্টিতে স্থবির কোরবানির হাট, দুশ্চিন্তায় বিক্রেতারা

ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে আকাশ ভেঙে নামা বৃষ্টি যেন কোরবানির পশুর হাটের চিরচেনা ব্যস্ততায় হঠাৎ করেই এক অপয়া ছায়া ফেলেছে। প্রকৃতির এমন বৈরী আচরণে হাটগুলো এখন কার্যত কাদা আর জলজটে নিমজ্জিত, যা প্রান্তিক খামারি ও বিক্রেতাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মুষলধারে বৃষ্টিতে স্থবির কোরবানির হাট, দুশ্চিন্তায় বিক্রেতারা
ছবি: কাল মহাকাল

ঈদযাত্রার দ্বারপ্রান্তে এসে গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ পশুর হাটের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি এলোমেলো করে দিয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার বড় বড় পশুর হাট এখন হাঁটুসমান কাদা আর পিচ্ছিল পথে এক দুর্বিষহ পরিস্থিতির সাক্ষী। যারা কয়েক মাস ধরে পরম মমতায় কোরবানির পশু লালন-পালন করে লাভের আশায় হাটে এনেছেন, প্রকৃতির এমন খেলায় তাদের চোখে এখন শুধুই অনিশ্চয়তার অন্ধকার। বৃষ্টির তোড়ে কেনাবেচায় বড় ধরনের ভাটা পড়ায় হাটের প্রতিটি কোনায় এখন কেবল হাহাকার আর অপেক্ষার প্রহর।

পিচ্ছিল পথ আর কাদা মাড়িয়ে ক্রেতারা হাটে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন, ফলে বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন ঠিকই, কিন্তু তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দীর্ঘ হচ্ছে প্রতি ঘণ্টায়। একদিকে পশুর খাবার ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, অন্যদিকে হাটের খাজনা—সব মিলিয়ে মাথায় হাত পড়েছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিক্রেতাদের। অনেককে দেখা গেল পলিথিন কিংবা ত্রিপল বিছিয়ে কোনোমতে নিজের এবং পশুর আশ্রয় নিশ্চিত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে।

অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, পশুর স্বাস্থ্য নিয়ে বিক্রেতারা যতটা না শঙ্কিত, তার চেয়ে বেশি আতঙ্কিত লোকসানের আশঙ্কায়। ইজারাদাররাও পড়েছেন বিপাকে; বৃষ্টির তোড়ে প্যান্ডেল ও খুঁটি অনেক জায়গায় হেলে পড়েছে, আবার কোথাও বিদ্যুতায়নের ঝুঁকিতে জেনারেটর চালানোও দায় হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে আগামী কয়েকদিন আকাশ মেঘলা থাকার কথা বলায়, বিক্রেতাদের সেই উদ্বেগ আরও কয়েক গুণ বেড়েছে। সব মিলিয়ে, ত্যাগের মহিমায় উদযাপিত হতে যাওয়া ঈদ উৎসবের শেষ ধাপে এসে প্রকৃতির এই বাগড়া যেন এক বড় ধরনের ব্যবসায়িক ঝুঁকির নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিষয় : বৃষ্টি কোরবানির পশুর হাট

মুষলধারে বৃষ্টিতে স্থবির কোরবানির হাট, দুশ্চিন্তায় বিক্রেতারা
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


মুষলধারে বৃষ্টিতে স্থবির কোরবানির হাট, দুশ্চিন্তায় বিক্রেতারা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

ঈদযাত্রার দ্বারপ্রান্তে এসে গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ পশুর হাটের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি এলোমেলো করে দিয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার বড় বড় পশুর হাট এখন হাঁটুসমান কাদা আর পিচ্ছিল পথে এক দুর্বিষহ পরিস্থিতির সাক্ষী। যারা কয়েক মাস ধরে পরম মমতায় কোরবানির পশু লালন-পালন করে লাভের আশায় হাটে এনেছেন, প্রকৃতির এমন খেলায় তাদের চোখে এখন শুধুই অনিশ্চয়তার অন্ধকার। বৃষ্টির তোড়ে কেনাবেচায় বড় ধরনের ভাটা পড়ায় হাটের প্রতিটি কোনায় এখন কেবল হাহাকার আর অপেক্ষার প্রহর।

পিচ্ছিল পথ আর কাদা মাড়িয়ে ক্রেতারা হাটে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন, ফলে বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন ঠিকই, কিন্তু তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দীর্ঘ হচ্ছে প্রতি ঘণ্টায়। একদিকে পশুর খাবার ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, অন্যদিকে হাটের খাজনা—সব মিলিয়ে মাথায় হাত পড়েছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিক্রেতাদের। অনেককে দেখা গেল পলিথিন কিংবা ত্রিপল বিছিয়ে কোনোমতে নিজের এবং পশুর আশ্রয় নিশ্চিত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে।

অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, পশুর স্বাস্থ্য নিয়ে বিক্রেতারা যতটা না শঙ্কিত, তার চেয়ে বেশি আতঙ্কিত লোকসানের আশঙ্কায়। ইজারাদাররাও পড়েছেন বিপাকে; বৃষ্টির তোড়ে প্যান্ডেল ও খুঁটি অনেক জায়গায় হেলে পড়েছে, আবার কোথাও বিদ্যুতায়নের ঝুঁকিতে জেনারেটর চালানোও দায় হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে আগামী কয়েকদিন আকাশ মেঘলা থাকার কথা বলায়, বিক্রেতাদের সেই উদ্বেগ আরও কয়েক গুণ বেড়েছে। সব মিলিয়ে, ত্যাগের মহিমায় উদযাপিত হতে যাওয়া ঈদ উৎসবের শেষ ধাপে এসে প্রকৃতির এই বাগড়া যেন এক বড় ধরনের ব্যবসায়িক ঝুঁকির নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত