লোকাল ফোকাস
ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট এখন আর কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং হাজারো মানুষের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই মাস আগে ঘাটের পন্টুন জেটির সামনের অংশ ভেঙে পড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা থেকে আসা লঞ্চগুলোতে যখন যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে, তখন এই ভাঙা জেটিই হয়ে উঠেছে ঘরমুখো মানুষের আতঙ্ক। প্রশাসনের কড়া নির্দেশ আর প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়িতেও যেন বাস্তবতা এতটুকু বদলায়নি।
সোমবার দুপুরে সরজমিনে দেখা গেল এক ভয়াবহ দৃশ্য। ঢাকা থেকে আসা এমভি কর্ণফুলী, গ্রিনলাইন ও দোয়েল পাখি লঞ্চগুলো ঘাটে ভিড়তেই শুরু হয় যাত্রীদের জীবন বাজি রেখে পারাপার। পন্টুনের কাঠ সরে যাওয়ায় এবং মাঝখানের পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিটি পদক্ষেপে ঘটছে দুর্ঘটনা। এরই মধ্যে ভাঙা জেটিতে হোঁচট খেয়ে আহত হয়েছেন এক নারী যাত্রী। অসুস্থ মেয়েকে কোলে নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে দেখা গেল মো. মনি আমিনকে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ঢাকার সদরঘাটের পর ইলিশা ঘাট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অথচ এমন বেহাল অবস্থায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে দেখার যেন কেউ নেই।
পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা ফুটে উঠেছে এমভি কর্ণফুলী লঞ্চের ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিনের কথায়। তিনি জানান, আগের রাতে শতাধিক যাত্রী নিয়ে জেটিটি যখন ডুবুডুবু অবস্থা, তখন অল্পের জন্য বড় ধরনের ট্র্যাজেডি এড়ানো গেছে। গত ২২ মার্চ জেটিটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর নৌ-পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত নতুন জেটি স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেনের ভাষ্যমতে, নতুন উন্নতমানের জেটি স্থাপনের জন্য নাকি পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। বরাদ্দের অভাবে সাধারণ যাত্রী ও ঘরমুখো মানুষ এভাবে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে চলাচল করবে—এই দায় কে নেবে, সেই প্রশ্ন এখন স্থানীয় সচেতন মহলের। এদিকে নদীবন্দর কর্মকর্তা নির্মল কুমার রায়ের দাবি, নতুন জেটি স্থাপনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে সেই আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
আজকের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে যাত্রীরাই একে অপরের হাত ধরে টেনে তুলছেন লঞ্চে। ভাঙা জেটির সামনের অংশ আঁকড়ে ধরে কয়েকজন যাত্রী পারাপারের পথ তৈরি করছেন, যেন এক আদিম যুদ্ধ। অথচ এটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত একটি নৌরুট। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের এই নীরবতা বা নির্লিপ্ততা হাজারো ঘরমুখো মানুষের উৎসবের আনন্দকে বিষিয়ে তুলছে, আর সেই সঙ্গে বাড়িয়ে দিচ্ছে একটি বড়সড় দুর্ঘটনার শঙ্কা।
বিষয় : ইলিশা লঞ্চঘাট ভোলা
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট এখন আর কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং হাজারো মানুষের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই মাস আগে ঘাটের পন্টুন জেটির সামনের অংশ ভেঙে পড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা থেকে আসা লঞ্চগুলোতে যখন যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে, তখন এই ভাঙা জেটিই হয়ে উঠেছে ঘরমুখো মানুষের আতঙ্ক। প্রশাসনের কড়া নির্দেশ আর প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়িতেও যেন বাস্তবতা এতটুকু বদলায়নি।
সোমবার দুপুরে সরজমিনে দেখা গেল এক ভয়াবহ দৃশ্য। ঢাকা থেকে আসা এমভি কর্ণফুলী, গ্রিনলাইন ও দোয়েল পাখি লঞ্চগুলো ঘাটে ভিড়তেই শুরু হয় যাত্রীদের জীবন বাজি রেখে পারাপার। পন্টুনের কাঠ সরে যাওয়ায় এবং মাঝখানের পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিটি পদক্ষেপে ঘটছে দুর্ঘটনা। এরই মধ্যে ভাঙা জেটিতে হোঁচট খেয়ে আহত হয়েছেন এক নারী যাত্রী। অসুস্থ মেয়েকে কোলে নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে দেখা গেল মো. মনি আমিনকে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ঢাকার সদরঘাটের পর ইলিশা ঘাট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অথচ এমন বেহাল অবস্থায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে দেখার যেন কেউ নেই।
পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা ফুটে উঠেছে এমভি কর্ণফুলী লঞ্চের ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিনের কথায়। তিনি জানান, আগের রাতে শতাধিক যাত্রী নিয়ে জেটিটি যখন ডুবুডুবু অবস্থা, তখন অল্পের জন্য বড় ধরনের ট্র্যাজেডি এড়ানো গেছে। গত ২২ মার্চ জেটিটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর নৌ-পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত নতুন জেটি স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেনের ভাষ্যমতে, নতুন উন্নতমানের জেটি স্থাপনের জন্য নাকি পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। বরাদ্দের অভাবে সাধারণ যাত্রী ও ঘরমুখো মানুষ এভাবে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে চলাচল করবে—এই দায় কে নেবে, সেই প্রশ্ন এখন স্থানীয় সচেতন মহলের। এদিকে নদীবন্দর কর্মকর্তা নির্মল কুমার রায়ের দাবি, নতুন জেটি স্থাপনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে সেই আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
আজকের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে যাত্রীরাই একে অপরের হাত ধরে টেনে তুলছেন লঞ্চে। ভাঙা জেটির সামনের অংশ আঁকড়ে ধরে কয়েকজন যাত্রী পারাপারের পথ তৈরি করছেন, যেন এক আদিম যুদ্ধ। অথচ এটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত একটি নৌরুট। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের এই নীরবতা বা নির্লিপ্ততা হাজারো ঘরমুখো মানুষের উৎসবের আনন্দকে বিষিয়ে তুলছে, আর সেই সঙ্গে বাড়িয়ে দিচ্ছে একটি বড়সড় দুর্ঘটনার শঙ্কা।
2.png)