বাংলাদেশ
সম্প্রতি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদিক কায়েম চীন সফরে গিয়ে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সেই ভিডিওতে তিনি সাংহাইয়ের হুয়াংফু নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে বুড়িগঙ্গার বর্তমান করুণ দশা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন। যেখানে হুয়াংফু নদী আজ আধুনিক নগরায়ণ ও পর্যটনের মডেল, সেখানে বুড়িগঙ্গা এখনো অবহেলা আর দূষণের ভারে নুয়ে আছে। সাদিক কায়েম বুড়িগঙ্গাকে ওই মডেলের আদলে সাজানোর একটি রূপরেখা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
ভিডিওটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাদিক কায়েমের পরিকল্পনায় মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও নদী পুনরুদ্ধার: হুয়াংফু নদীকে যেভাবে পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে দূষণমুক্ত করা হয়েছে, বুড়িগঙ্গার ক্ষেত্রেও একই ধরণের প্রশাসনিক কঠোরতা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, নদীর পাড় দখলমুক্ত করা: সাংহাইয়ের মতো নদীর দুই পাড়কে হাঁটার পথ বা ওয়াকওয়ে এবং নান্দনিক স্থাপনা দিয়ে সাজানোর কথা বলেছেন তিনি।
তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক ও পর্যটন গুরুত্ব: নদীটি কেবল যাতায়াতের পথ নয়, বরং শহরের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ কতটা মসৃণ?
নগর পরিকল্পনাবিদ ড. এম. এ. রশিদ মনে করেন, কেবল ভিশন থাকলেই হবে না, এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক সংস্কার।
তিনি বলেন, "সাংহাইয়ের মডেল অনুসরণ করা কঠিন নয়, কিন্তু ঢাকার ঘিঞ্জি জনবসতি আর বুড়িগঙ্গার দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস দেখানোই এখানে বড় চ্যালেঞ্জ।"
কেবল নদীর পাড় সাজালেই হবে না, নদীর ভেতরে যে অবৈধ দখল আর বর্জ্যের পাহাড় জমেছে, তা সরাতেই লড়াইটা সবচেয়ে কঠিন হবে।
সাদিক কায়েমের এই বার্তা মূলত একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। বুড়িগঙ্গার মতো একটি মৃতপ্রায় নদীকে বাঁচাতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব যে সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে, এই ভিডিও তারই বহিঃপ্রকাশ। তবে ঢাকার মাটিতে এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। নদীকে কেন্দ্র করে ঢাকা নতুন করে বাঁচবে, নাকি পরিকল্পনার খাতা ওই ডিজিটাল ভিডিওতেই আটকে থাকবে—এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।
বিষয় : সাদিক কায়েম বুড়িগঙ্গা হুয়াংফু
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
সম্প্রতি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদিক কায়েম চীন সফরে গিয়ে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সেই ভিডিওতে তিনি সাংহাইয়ের হুয়াংফু নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে বুড়িগঙ্গার বর্তমান করুণ দশা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন। যেখানে হুয়াংফু নদী আজ আধুনিক নগরায়ণ ও পর্যটনের মডেল, সেখানে বুড়িগঙ্গা এখনো অবহেলা আর দূষণের ভারে নুয়ে আছে। সাদিক কায়েম বুড়িগঙ্গাকে ওই মডেলের আদলে সাজানোর একটি রূপরেখা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
ভিডিওটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাদিক কায়েমের পরিকল্পনায় মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও নদী পুনরুদ্ধার: হুয়াংফু নদীকে যেভাবে পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে দূষণমুক্ত করা হয়েছে, বুড়িগঙ্গার ক্ষেত্রেও একই ধরণের প্রশাসনিক কঠোরতা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, নদীর পাড় দখলমুক্ত করা: সাংহাইয়ের মতো নদীর দুই পাড়কে হাঁটার পথ বা ওয়াকওয়ে এবং নান্দনিক স্থাপনা দিয়ে সাজানোর কথা বলেছেন তিনি।
তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক ও পর্যটন গুরুত্ব: নদীটি কেবল যাতায়াতের পথ নয়, বরং শহরের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ কতটা মসৃণ?
নগর পরিকল্পনাবিদ ড. এম. এ. রশিদ মনে করেন, কেবল ভিশন থাকলেই হবে না, এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক সংস্কার।
তিনি বলেন, "সাংহাইয়ের মডেল অনুসরণ করা কঠিন নয়, কিন্তু ঢাকার ঘিঞ্জি জনবসতি আর বুড়িগঙ্গার দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস দেখানোই এখানে বড় চ্যালেঞ্জ।"
কেবল নদীর পাড় সাজালেই হবে না, নদীর ভেতরে যে অবৈধ দখল আর বর্জ্যের পাহাড় জমেছে, তা সরাতেই লড়াইটা সবচেয়ে কঠিন হবে।
সাদিক কায়েমের এই বার্তা মূলত একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। বুড়িগঙ্গার মতো একটি মৃতপ্রায় নদীকে বাঁচাতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব যে সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে, এই ভিডিও তারই বহিঃপ্রকাশ। তবে ঢাকার মাটিতে এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। নদীকে কেন্দ্র করে ঢাকা নতুন করে বাঁচবে, নাকি পরিকল্পনার খাতা ওই ডিজিটাল ভিডিওতেই আটকে থাকবে—এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।
2.png)