সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 লোকাল ফোকাসলোকাল ফোকাস

হাতিয়ায় সেনানিবাসের মাংস সরবরাহকারী সেজে ৫২ লাখ টাকার প্রতারণা, আটক ২

গরু ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস অর্জনের নাটক করে ৫২ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা। শেষ পর্যন্ত ৯৯৯-এ কল দিয়ে নিজেদের বিপদ ডেকে আনল প্রতারক চক্রের সদস্যরা।

হাতিয়ায় সেনানিবাসের মাংস সরবরাহকারী সেজে ৫২ লাখ টাকার প্রতারণা, আটক ২
আটক দুই প্রতারক( ছবি- আজকের পত্রিকা)

নোয়াখালীর হাতিয়ায় অভিনব কৌশলে গরু ব্যবসায়ীদের সাথে প্রতারণার এক বড় ঘটনা সামনে এসেছে। নিজেকে ঢাকা সেনানিবাসের মাংস সরবরাহকারী পরিচয় দিয়ে একটি চক্র হাতিয়ার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৫২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। প্রতারণার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কৌশলে চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেন। পরে নিজেদের বিপদ থেকে উদ্ধারের আশায় ৯৯৯-এ ফোন করলেও শেষ রক্ষা হয়নি তাদের, বরং পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েই থামতে হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ১৩ মে। হাতিয়া বাজারে এসে এই চক্রটি নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করে যে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর দ্রুতই আস্থা স্থাপন করেন। তারা দাবি করেছিল, ঢাকা সেনানিবাসে মাংস সরবরাহের কাজ করে তারা। প্রথম দফায় গরু কিনে নিয়ে ঠিকমতো দাম পরিশোধ করে তারা ব্যাপারীদের বিশ্বাসের জায়গাটি পোক্ত করে। এরপর ১৬ মে দুই ট্রাক গরু কিনে তারা সময়মতো দাম পরিশোধ করে সেই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে।

কিন্তু এর আড়ালেই চলছিল বড় ধরনের প্রতারণার পরিকল্পনা। চক্রটি সর্বশেষ দফায় সাতজন ব্যাপারীর কাছ থেকে ৫২ লাখ ৫৭ হাজার টাকার গরু কিনে নেয়। তবে এবার আর ব্যাংকে টাকা আসেনি। যোগাযোগ করলেও তালবাহানা শুরু করে তারা। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ব্যাপারীরা মরিয়া হয়ে ওঠেন। তারা আরও কিছু গরু কেনার টোপ দিয়ে চক্রটিকে পুনরায় হাতিয়া বাজারে আসতে বাধ্য করেন। বাজারে আসার পরই ব্যবসায়ীরা তাদের ঘিরে ফেলেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার বাদী গরু ব্যাপারী মো. আবুল কালাম জানান, পুরো বিষয়টি ছিল সুপরিকল্পিত নাটক। সেনানিবাসে মাংস সরবরাহের কথা বলে তারা আমাদের বিশ্বাস অর্জন করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা আমাদের সর্বস্বান্ত করতে চেয়েছিল। সাতজন ব্যাপারীর কষ্টার্জিত ৫২ লাখ টাকার বেশি এই চক্রের কাছে আটকা পড়ে আছে। এই টাকা না পেলে তারা সবাই নিঃস্ব হয়ে পড়বেন।

এদিকে, আটক থাকা অবস্থায় তারা থানা-পুলিশের ভয় দেখিয়ে নিজেদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং এক পর্যায়ে ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার হাতিয়া থানায় আটক দুজনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাপারী আবুল কালাম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নোয়াখালী সদর উপজেলার এজবালিয়া ইউনিয়নের মৃত ফারুক হোসেনের ছেলে মো. বেলাল হোসেন এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার মিজমিজি গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মো. রিপন।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানিয়েছেন, প্রতারক চক্রের দুই সদস্য এখন পুলিশের হেফাজতে। মূল হোতা কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে, যার বিরুদ্ধে প্রতারণার দায়ে একাধিক মামলা রয়েছে। হাতিয়া বাজারের মতো একটি বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রে এই ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।


বিষয় : গরু ব্যবসায়ী প্রতারণার

হাতিয়ায় সেনানিবাসের মাংস সরবরাহকারী সেজে ৫২ লাখ টাকার প্রতারণা, আটক ২
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


হাতিয়ায় সেনানিবাসের মাংস সরবরাহকারী সেজে ৫২ লাখ টাকার প্রতারণা, আটক ২

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

নোয়াখালীর হাতিয়ায় অভিনব কৌশলে গরু ব্যবসায়ীদের সাথে প্রতারণার এক বড় ঘটনা সামনে এসেছে। নিজেকে ঢাকা সেনানিবাসের মাংস সরবরাহকারী পরিচয় দিয়ে একটি চক্র হাতিয়ার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৫২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। প্রতারণার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কৌশলে চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেন। পরে নিজেদের বিপদ থেকে উদ্ধারের আশায় ৯৯৯-এ ফোন করলেও শেষ রক্ষা হয়নি তাদের, বরং পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েই থামতে হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ১৩ মে। হাতিয়া বাজারে এসে এই চক্রটি নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করে যে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর দ্রুতই আস্থা স্থাপন করেন। তারা দাবি করেছিল, ঢাকা সেনানিবাসে মাংস সরবরাহের কাজ করে তারা। প্রথম দফায় গরু কিনে নিয়ে ঠিকমতো দাম পরিশোধ করে তারা ব্যাপারীদের বিশ্বাসের জায়গাটি পোক্ত করে। এরপর ১৬ মে দুই ট্রাক গরু কিনে তারা সময়মতো দাম পরিশোধ করে সেই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে।

কিন্তু এর আড়ালেই চলছিল বড় ধরনের প্রতারণার পরিকল্পনা। চক্রটি সর্বশেষ দফায় সাতজন ব্যাপারীর কাছ থেকে ৫২ লাখ ৫৭ হাজার টাকার গরু কিনে নেয়। তবে এবার আর ব্যাংকে টাকা আসেনি। যোগাযোগ করলেও তালবাহানা শুরু করে তারা। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ব্যাপারীরা মরিয়া হয়ে ওঠেন। তারা আরও কিছু গরু কেনার টোপ দিয়ে চক্রটিকে পুনরায় হাতিয়া বাজারে আসতে বাধ্য করেন। বাজারে আসার পরই ব্যবসায়ীরা তাদের ঘিরে ফেলেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার বাদী গরু ব্যাপারী মো. আবুল কালাম জানান, পুরো বিষয়টি ছিল সুপরিকল্পিত নাটক। সেনানিবাসে মাংস সরবরাহের কথা বলে তারা আমাদের বিশ্বাস অর্জন করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা আমাদের সর্বস্বান্ত করতে চেয়েছিল। সাতজন ব্যাপারীর কষ্টার্জিত ৫২ লাখ টাকার বেশি এই চক্রের কাছে আটকা পড়ে আছে। এই টাকা না পেলে তারা সবাই নিঃস্ব হয়ে পড়বেন।

এদিকে, আটক থাকা অবস্থায় তারা থানা-পুলিশের ভয় দেখিয়ে নিজেদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং এক পর্যায়ে ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার হাতিয়া থানায় আটক দুজনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাপারী আবুল কালাম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নোয়াখালী সদর উপজেলার এজবালিয়া ইউনিয়নের মৃত ফারুক হোসেনের ছেলে মো. বেলাল হোসেন এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার মিজমিজি গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মো. রিপন।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানিয়েছেন, প্রতারক চক্রের দুই সদস্য এখন পুলিশের হেফাজতে। মূল হোতা কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে, যার বিরুদ্ধে প্রতারণার দায়ে একাধিক মামলা রয়েছে। হাতিয়া বাজারের মতো একটি বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রে এই ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত