বাংলাদেশ
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পাড়ি দেওয়ার আনন্দ যেন দীর্ঘ যানজটের ক্লান্তিতে ফিকে না হয়ে যায়, সেজন্য এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক বিভাগ। প্রতি বছর ঈদের সময় এই মহাসড়কের যে ভোগান্তির চিত্র ভেসে ওঠে, তা এবার কমাতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। মুন্সীগঞ্জের মেঘনা টোলপ্লাজা থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের বারবকুন্ড পর্যন্ত প্রায় ২০০ কিলোমিটার মহাসড়ককে নজরে রেখে ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে মুন্সীগঞ্জের মেঘনা টোলপ্লাজা, কুমিল্লার দাউদকান্দি, গৌরীপুর, চান্দিনা ও মাধাইয়া বাজারের মতো এলাকাগুলো যেখানে যানজট সবচেয়ে বেশি দানা বাঁধে, সেখানে বাড়তি নজরদারি বসানো হচ্ছে।
ঈদযাত্রার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কুমিল্লার সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং হাইওয়ে পুলিশ একযোগে কাজ শুরু করেছে। কুমিল্লা রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহীনুর আলম খান জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দাউদকান্দি থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৭২৯ কিলোমিটার সড়কে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মাঠে থাকবেন। এর বাইরেও অতিরিক্ত আড়াইশ সদস্যকে মোতায়েন করা হচ্ছে কেবল ঈদকে কেন্দ্র করে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, মহাসড়কে যেন কোনোভাবেই পশুর হাট না বসে এবং ছিনতাই বা চাঁদাবাজির মতো ঘটনা না ঘটে, সেজন্য রাতের বেলায় নিয়মিত টহল বাড়ানো হবে।
দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে ঘরমুখো মানুষের আশঙ্কা এখনো কাটছে না। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের দাউদকান্দি শাখার সভাপতি আলমগীর হোসেনের মতে, কেবল পুলিশ বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। তার অভিযোগ, দাউদকান্দির মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টোল আদায়ের সময় ধীরগতি এবং পর্যাপ্ত বুথ সচল না থাকার কারণে মুহূর্তের মধ্যে যানজট ছড়িয়ে পড়ে। টোলপ্লাজার এই ধীরগতিতে আটকে পড়া ট্রাক চালক আমিনুলের মতো পেশাজীবীরাও বেশ বিরক্ত। তাদের অভিযোগ, যানজট তৈরি হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার মানসিকতা না থাকায় ছোট একটি জট একসময় দীর্ঘ সারিতে রূপ নেয়।
মহাসড়কজুড়ে যানজটের আরেকটি বড় কারণ অবৈধ পার্কিং এবং সড়কের পাশে গড়ে ওঠা হাটবাজার। কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আদনান ইবনে হাসান অবশ্য জানিয়েছেন, ঈদের আগে বড় কোনো মেরামত কাজ হবে না। যেটুকু ভাঙাচোরা আছে তা দ্রুত সংস্কার করা হচ্ছে। তিনি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কথা বললেও এটি যে একটি চলমান লড়াই, তা স্বীকার করে জনসচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আবিতুর রহমানের মতো স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও চাইছেন প্রশাসন যেন ব্যবসার ভরা এই মৌসুমে ট্রাক আটকা পড়া রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে, মহাসড়কের পদুয়ার বাজার, ফেনীর মহিপাল, কসকা বাজার কিংবা সীতাকুন্ডের মতো এলাকাগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। দাউদকান্দি টোলপ্লাজার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানিয়েছেন, টোল আদায়কারীদের ভাঙতি টাকার সংকটের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে এবং চালকদেরও নির্ধারিত টাকা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো যদি যথাযথভাবে মাঠে কার্যকর হয়, তবেই এবারের ঈদযাত্রা ঘরে ফেরা মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পাড়ি দেওয়ার আনন্দ যেন দীর্ঘ যানজটের ক্লান্তিতে ফিকে না হয়ে যায়, সেজন্য এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক বিভাগ। প্রতি বছর ঈদের সময় এই মহাসড়কের যে ভোগান্তির চিত্র ভেসে ওঠে, তা এবার কমাতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। মুন্সীগঞ্জের মেঘনা টোলপ্লাজা থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের বারবকুন্ড পর্যন্ত প্রায় ২০০ কিলোমিটার মহাসড়ককে নজরে রেখে ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে মুন্সীগঞ্জের মেঘনা টোলপ্লাজা, কুমিল্লার দাউদকান্দি, গৌরীপুর, চান্দিনা ও মাধাইয়া বাজারের মতো এলাকাগুলো যেখানে যানজট সবচেয়ে বেশি দানা বাঁধে, সেখানে বাড়তি নজরদারি বসানো হচ্ছে।
ঈদযাত্রার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কুমিল্লার সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং হাইওয়ে পুলিশ একযোগে কাজ শুরু করেছে। কুমিল্লা রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহীনুর আলম খান জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দাউদকান্দি থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৭২৯ কিলোমিটার সড়কে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মাঠে থাকবেন। এর বাইরেও অতিরিক্ত আড়াইশ সদস্যকে মোতায়েন করা হচ্ছে কেবল ঈদকে কেন্দ্র করে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, মহাসড়কে যেন কোনোভাবেই পশুর হাট না বসে এবং ছিনতাই বা চাঁদাবাজির মতো ঘটনা না ঘটে, সেজন্য রাতের বেলায় নিয়মিত টহল বাড়ানো হবে।
দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে ঘরমুখো মানুষের আশঙ্কা এখনো কাটছে না। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের দাউদকান্দি শাখার সভাপতি আলমগীর হোসেনের মতে, কেবল পুলিশ বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। তার অভিযোগ, দাউদকান্দির মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টোল আদায়ের সময় ধীরগতি এবং পর্যাপ্ত বুথ সচল না থাকার কারণে মুহূর্তের মধ্যে যানজট ছড়িয়ে পড়ে। টোলপ্লাজার এই ধীরগতিতে আটকে পড়া ট্রাক চালক আমিনুলের মতো পেশাজীবীরাও বেশ বিরক্ত। তাদের অভিযোগ, যানজট তৈরি হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার মানসিকতা না থাকায় ছোট একটি জট একসময় দীর্ঘ সারিতে রূপ নেয়।
মহাসড়কজুড়ে যানজটের আরেকটি বড় কারণ অবৈধ পার্কিং এবং সড়কের পাশে গড়ে ওঠা হাটবাজার। কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আদনান ইবনে হাসান অবশ্য জানিয়েছেন, ঈদের আগে বড় কোনো মেরামত কাজ হবে না। যেটুকু ভাঙাচোরা আছে তা দ্রুত সংস্কার করা হচ্ছে। তিনি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কথা বললেও এটি যে একটি চলমান লড়াই, তা স্বীকার করে জনসচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আবিতুর রহমানের মতো স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও চাইছেন প্রশাসন যেন ব্যবসার ভরা এই মৌসুমে ট্রাক আটকা পড়া রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সব মিলিয়ে, মহাসড়কের পদুয়ার বাজার, ফেনীর মহিপাল, কসকা বাজার কিংবা সীতাকুন্ডের মতো এলাকাগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। দাউদকান্দি টোলপ্লাজার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানিয়েছেন, টোল আদায়কারীদের ভাঙতি টাকার সংকটের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে এবং চালকদেরও নির্ধারিত টাকা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো যদি যথাযথভাবে মাঠে কার্যকর হয়, তবেই এবারের ঈদযাত্রা ঘরে ফেরা মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
2.png)