অর্থনীতি
ডলারের বাজার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার দাবি করলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্রই আজ উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি-নির্ধারকদের উপস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর ট্রেজারি প্রধানরা সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ডলারের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো অদৃশ্য হস্তক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, নিলামে ডলার কেনা কিংবা দামের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার ওপরই এখনো নির্ভর করতে হচ্ছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে।
মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এই সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান নিজেই প্রশ্ন তোলেন ডলারের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে। বৈঠকে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সভাকক্ষ থেকে বের করে দিয়ে গভর্নর সরাসরি ট্রেজারি প্রধানদের কাছে জানতে চান, বাজারের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ কতটা। উপস্থিত ট্রেজারি প্রধানরা একবাক্যে জানান, ডলারের দামের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিয়মিত নির্দেশনা আসছে, আর কোনো ব্যত্যয় ঘটলেই পরিদর্শক পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
গভর্নরের অবস্থান অবশ্য ছিল কিছুটা ভিন্ন। তিনি বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিদের সাফ জানিয়ে দেন, ডলারের বাজারে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ চায় না কেন্দ্রীয় ব্যাংক, তবে বাজার তদারকি অব্যাহত থাকবে। কারসাজি করলে শাস্তি পেতে হবে—এমন কঠোর বার্তা দিলেও ব্যাংকগুলো পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে, কারসাজির সংজ্ঞাই বা কী? ট্রেজারি প্রধানদের পরামর্শ ছিল, কারসাজির একটি তালিকা বা নীতিমালা তৈরি করা হোক, যাতে সবাই নিয়মের মধ্যে চলতে পারে। তবে দীর্ঘ এই আলোচনার পর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভাটি শেষ হয়।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যখন এ নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন খোলা বাজারে ডলারের অস্থিরতা কিছুতেই কাটছে না। বর্তমানে ব্যাংকগুলো প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের ডলার ১২২ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনছে, কিন্তু আমদানি দায় মেটাতে হচ্ছে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে। কিছু ব্যাংকে এর চেয়েও বেশি দরে ডলার লেনদেন হচ্ছে। এমনকি ক্রেডিট কার্ডের বিলে ডলারের দাম ১২৪ টাকা ছাড়িয়ে গেছে, আর খোলাবাজারে তো লাগামহীন, সেখানে ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায়। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক দাবি করছে, তারা সর্বশেষ ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ডলার কিনেছে এবং চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৬০৬ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের এই বাস্তবতায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি এখনো কাটেনি।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
ডলারের বাজার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার দাবি করলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্রই আজ উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি-নির্ধারকদের উপস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর ট্রেজারি প্রধানরা সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ডলারের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো অদৃশ্য হস্তক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, নিলামে ডলার কেনা কিংবা দামের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার ওপরই এখনো নির্ভর করতে হচ্ছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে।
মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এই সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান নিজেই প্রশ্ন তোলেন ডলারের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে। বৈঠকে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সভাকক্ষ থেকে বের করে দিয়ে গভর্নর সরাসরি ট্রেজারি প্রধানদের কাছে জানতে চান, বাজারের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ কতটা। উপস্থিত ট্রেজারি প্রধানরা একবাক্যে জানান, ডলারের দামের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিয়মিত নির্দেশনা আসছে, আর কোনো ব্যত্যয় ঘটলেই পরিদর্শক পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
গভর্নরের অবস্থান অবশ্য ছিল কিছুটা ভিন্ন। তিনি বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিদের সাফ জানিয়ে দেন, ডলারের বাজারে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ চায় না কেন্দ্রীয় ব্যাংক, তবে বাজার তদারকি অব্যাহত থাকবে। কারসাজি করলে শাস্তি পেতে হবে—এমন কঠোর বার্তা দিলেও ব্যাংকগুলো পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে, কারসাজির সংজ্ঞাই বা কী? ট্রেজারি প্রধানদের পরামর্শ ছিল, কারসাজির একটি তালিকা বা নীতিমালা তৈরি করা হোক, যাতে সবাই নিয়মের মধ্যে চলতে পারে। তবে দীর্ঘ এই আলোচনার পর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভাটি শেষ হয়।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যখন এ নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন খোলা বাজারে ডলারের অস্থিরতা কিছুতেই কাটছে না। বর্তমানে ব্যাংকগুলো প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের ডলার ১২২ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনছে, কিন্তু আমদানি দায় মেটাতে হচ্ছে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে। কিছু ব্যাংকে এর চেয়েও বেশি দরে ডলার লেনদেন হচ্ছে। এমনকি ক্রেডিট কার্ডের বিলে ডলারের দাম ১২৪ টাকা ছাড়িয়ে গেছে, আর খোলাবাজারে তো লাগামহীন, সেখানে ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায়। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক দাবি করছে, তারা সর্বশেষ ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ডলার কিনেছে এবং চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৬০৬ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের এই বাস্তবতায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি এখনো কাটেনি।
2.png)