রাজনীতি
রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন এক আলাপ উসকে দিয়েছেন মাহফুজ আলম। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে তিনি সতর্ক করেছেন যে, আওয়ামী লীগের ফেরার পথ সুগম হচ্ছে মূলত প্রতিবিপ্লবী বা ভুল পদক্ষেপের কারণে। তার ভাষ্যমতে, এটি কোনো হঠাৎ ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক ভুলের এক করুণ পরিণতি।
মাজার ভাঙচুর কিংবা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর নিপীড়নের ঘটনার সময় যখন সমাজ নীরব ছিল, তখনই মূলত আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের বীজ রোপিত হয়েছিল। মাহফুজ আলমের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যখন উগ্রবাদীরা মসজিদ থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের বের করে দিল কিংবা মব সংস্কৃতিকে ‘হিরো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হলো, তখনই সেক্যুলার মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষেরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এই ভয়ের সুযোগ নিয়েই সরকার বা রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ডানপন্থার উত্থান ঘটানো হয়, যা শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের জন্য একটি নিরাপদ বলয় তৈরি করে।
তবে কেবল সামাজিক অবক্ষয় নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারণী ব্যর্থতাও এই প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি। মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘জুলাই’ বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাগুলো বাস্তবায়নের বদলে যখন ন্যূনতম সংস্কারের নামে জনগণকে হতাশ করা হলো এবং বিএনপি-জামায়াতকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দরকষাকষিতে মগ্ন হলো সরকার, ঠিক তখনই মাঠ ফাঁকা হয়ে যায়। ছাত্ররা যখন বিপ্লবী সাংগঠনিক চরিত্র হারিয়ে লুম্পেন বা মব সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়ল, তখন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার ঘটনাগুলো কেবল নৈরাজ্যই বাড়ালো।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি এসেছে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ ও আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে। বিপ্লব-পরবর্তী সরকার যখন রাজনৈতিক নেতৃত্বের চেয়ে আমলানির্ভর কিচেন ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করল, তখন সেখানে জায়গা পেল জামায়াত-বিএনপি কিংবা লীগের ভেতরে থাকা সুবিধাভোগীরা। এদের কাছে জুলাই মাসের আত্মত্যাগ ছিল কেবল নিজেদের পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষার মাধ্যম। ফলে জুলাই ঘোষণাপত্র বা সংস্কারের যে মূল প্রতিশ্রুতি, তা আমলাতন্ত্র আর গোষ্ঠীস্বার্থের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ল।
মাহফুজ আলমের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, কীভাবে নির্বাচনি বাঁটোয়ারার মাধ্যমে সংস্কার ও বিচার ব্যবস্থাকে কম্প্রোমাইজ করা হয়েছে। কমিশন, ট্রাইব্যুনাল বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে যখন একটি নির্দিষ্ট আদর্শের লোকদের ক্ষমতারোহণের সিঁড়ি বানানো হলো, তখনই সাধারণ মানুষের আস্থা টলতে শুরু করে। তিনি আরও লিখেছেন, বিপ্লবের পক্ষে দাঁড়ানো বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের দূরে সরিয়ে যখন ‘জিরো কন্ট্রিবিউশন’ বা নামসর্বস্ব ব্যক্তিদের ক্ষমতায়িত করা হলো, তখনই কার্যত আওয়ামী লীগের ফেরার মঞ্চ প্রস্তুত হয়ে গেল। এমনকি বাঙালি জাতীয়তাবাদ মোকাবিলার নামে কাওয়ালি বা ইনকিলাবি কালচারের মতো রিগ্রেসিভ ব্যবস্থা প্রবর্তনও জনমানসে এক ধরনের বিরক্তি ও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে, যা শেষ পর্যন্ত পুরোনো শক্তির জন্য সুবিধা বয়ে আনছে। এই বিশ্লেষণ আদতে একটি সতর্কবার্তা। তিনি মনে করেন, জুলাইয়ের চেতনাকে যখন ভেস্টেড ইন্টারেস্ট গ্রুপের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তখন রাজনৈতিক সমঝোতার নামে আসলে আওয়ামী লীগকেই আবার অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তালিকাটি দীর্ঘ, আর এর প্রতিটি ধাপই বলে দিচ্ছে—বিপ্লব তার নিজের পথে না হাঁটলে পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।
মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্টের স্ক্রীন শট
বিষয় : মাহফুজ আলম আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন জুলাই বিপ্লব অন্তর্বর্তী সরকার কিচেন ক্যাবিনেট মাজার হামলা
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন এক আলাপ উসকে দিয়েছেন মাহফুজ আলম। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে তিনি সতর্ক করেছেন যে, আওয়ামী লীগের ফেরার পথ সুগম হচ্ছে মূলত প্রতিবিপ্লবী বা ভুল পদক্ষেপের কারণে। তার ভাষ্যমতে, এটি কোনো হঠাৎ ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক ভুলের এক করুণ পরিণতি।
মাজার ভাঙচুর কিংবা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর নিপীড়নের ঘটনার সময় যখন সমাজ নীরব ছিল, তখনই মূলত আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের বীজ রোপিত হয়েছিল। মাহফুজ আলমের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যখন উগ্রবাদীরা মসজিদ থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের বের করে দিল কিংবা মব সংস্কৃতিকে ‘হিরো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হলো, তখনই সেক্যুলার মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষেরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এই ভয়ের সুযোগ নিয়েই সরকার বা রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ডানপন্থার উত্থান ঘটানো হয়, যা শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের জন্য একটি নিরাপদ বলয় তৈরি করে।
তবে কেবল সামাজিক অবক্ষয় নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারণী ব্যর্থতাও এই প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি। মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘জুলাই’ বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাগুলো বাস্তবায়নের বদলে যখন ন্যূনতম সংস্কারের নামে জনগণকে হতাশ করা হলো এবং বিএনপি-জামায়াতকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দরকষাকষিতে মগ্ন হলো সরকার, ঠিক তখনই মাঠ ফাঁকা হয়ে যায়। ছাত্ররা যখন বিপ্লবী সাংগঠনিক চরিত্র হারিয়ে লুম্পেন বা মব সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়ল, তখন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার ঘটনাগুলো কেবল নৈরাজ্যই বাড়ালো।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি এসেছে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ ও আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে। বিপ্লব-পরবর্তী সরকার যখন রাজনৈতিক নেতৃত্বের চেয়ে আমলানির্ভর কিচেন ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করল, তখন সেখানে জায়গা পেল জামায়াত-বিএনপি কিংবা লীগের ভেতরে থাকা সুবিধাভোগীরা। এদের কাছে জুলাই মাসের আত্মত্যাগ ছিল কেবল নিজেদের পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষার মাধ্যম। ফলে জুলাই ঘোষণাপত্র বা সংস্কারের যে মূল প্রতিশ্রুতি, তা আমলাতন্ত্র আর গোষ্ঠীস্বার্থের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ল।
মাহফুজ আলমের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, কীভাবে নির্বাচনি বাঁটোয়ারার মাধ্যমে সংস্কার ও বিচার ব্যবস্থাকে কম্প্রোমাইজ করা হয়েছে। কমিশন, ট্রাইব্যুনাল বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে যখন একটি নির্দিষ্ট আদর্শের লোকদের ক্ষমতারোহণের সিঁড়ি বানানো হলো, তখনই সাধারণ মানুষের আস্থা টলতে শুরু করে। তিনি আরও লিখেছেন, বিপ্লবের পক্ষে দাঁড়ানো বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের দূরে সরিয়ে যখন ‘জিরো কন্ট্রিবিউশন’ বা নামসর্বস্ব ব্যক্তিদের ক্ষমতায়িত করা হলো, তখনই কার্যত আওয়ামী লীগের ফেরার মঞ্চ প্রস্তুত হয়ে গেল। এমনকি বাঙালি জাতীয়তাবাদ মোকাবিলার নামে কাওয়ালি বা ইনকিলাবি কালচারের মতো রিগ্রেসিভ ব্যবস্থা প্রবর্তনও জনমানসে এক ধরনের বিরক্তি ও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে, যা শেষ পর্যন্ত পুরোনো শক্তির জন্য সুবিধা বয়ে আনছে। এই বিশ্লেষণ আদতে একটি সতর্কবার্তা। তিনি মনে করেন, জুলাইয়ের চেতনাকে যখন ভেস্টেড ইন্টারেস্ট গ্রুপের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তখন রাজনৈতিক সমঝোতার নামে আসলে আওয়ামী লীগকেই আবার অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। তালিকাটি দীর্ঘ, আর এর প্রতিটি ধাপই বলে দিচ্ছে—বিপ্লব তার নিজের পথে না হাঁটলে পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।
মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্টের স্ক্রীন শট
2.png)