লোকাল ফোকাস
দেশের বিদ্যমান কাঠামোগত বৈষম্য, এলিট শ্রেণির দ্বিমুখী নীতি এবং পুলিশ প্রশাসনের রাজনৈতিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের তরুণ সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগে ‘চলো কুমিল্লা, গড়ি নতুন বাংলাদেশ’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী বিশেষ পদযাত্রার অংশ হিসেবে এই পথসভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতেই দেশের তথাকথিত উচ্চবিত্ত ও রাজনৈতিক ‘মুরব্বিদের’ বিদেশে সম্পদ পাচার ও আয়েশাপূর্ণ জীবনযাত্রার কঠোর সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন:
"কানাডার বেগমপাড়ায় আমাদের কোনো বাড়িগাড়ি নেই। তবে মুরব্বিদের অনেকেরই সেখানে বাড়িগাড়ি আছে, তাঁদের সন্তানেরা বিদেশে লেখাপড়া করেন এবং তাঁরা নিজেরা বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান। এ দেশের সাধারণ মানুষ যেখানে দেশে চিকিৎসা নেয়, সেখানে কিছু ‘অসাধারণ’ মানুষ বিদেশে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নেন। আমাদের সন্তানেরা দেশে পড়ালেখা করলেও মুরব্বিদের সন্তানেরা বিদেশে পড়েন। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।"
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে দেশের যুবসমাজকে অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দেন এই সংসদ সদস্য। তিনি মনে করেন, মেধা পাচার রোধ করতে এবং তরুণদের দেশে ধরে রাখতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে অনতিবিলম্বে আধুনিকায়ন করা জরুরি, যেন শিক্ষার জন্য কাউকে বিদেশমুখী হতে না হয়।
তিনি দাবি করেন, সরকারি প্রতিটি সেক্টরে কেবল মেধাবীদের স্থান দিতে হবে এবং বেসরকারি খাতেও তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক চাকাকে সচল রাখতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে আরও গতিশীল করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আগামী বাজেটে এই দাবিগুলো অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বর্তমানে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা এনসিপির এই নেতা পুলিশ প্রশাসনের ভেতরের অতি-উৎসাহী ভূমিকার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবকে দায়ী করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "পদোন্নতি পাওয়ার আশায় কিছু পুলিশ সদস্য আমাদের নেতা–কর্মীদের মারধর বা হয়রানি করে থাকে—এটা আসলে পুলিশের একক দোষ নয়। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদেরাই পুলিশ প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন, যাতে তাঁদের কথায় বিরোধী দলকে হয়রানি করা যায়।" নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীন রাখা আবশ্যক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশে আর কখনো আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। যে দলের প্রধানরা দেশের লাখ লাখ নেতা–কর্মীকে মাঠে ফেলে পালিয়ে যান, তাঁদের এ দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতভেদ থাকতে পারে, তবে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ।
এনসিপি নেতা সুফিয়ান রায়হানের সভাপতিত্বে এবং মামুন মজুমদারের সঞ্চালনায় এই পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা রবীন্দ্র নাথ সাহা, জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী ইব্রাহিম খালেদ এবং কুমিল্লা মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী মাসুমুল বারী কাউছার।
উল্লেখ্য, ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে গত রোববার থেকে এনসিপির এই বিশেষ পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম দিন মেঘনা, হোমনা, তিতাস ও চান্দিনায় এবং দ্বিতীয় দিন আজ সোমবার চৌদ্দগ্রাম, ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলায় দলটির পদযাত্রা ও গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়। একদিন বিরতি দিয়ে আগামী বুধবার লালমাই, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট উপজেলায় গণসংযোগ ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তিন দিনের এই বিশেষ কর্মসূচি।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
দেশের বিদ্যমান কাঠামোগত বৈষম্য, এলিট শ্রেণির দ্বিমুখী নীতি এবং পুলিশ প্রশাসনের রাজনৈতিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের তরুণ সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগে ‘চলো কুমিল্লা, গড়ি নতুন বাংলাদেশ’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী বিশেষ পদযাত্রার অংশ হিসেবে এই পথসভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতেই দেশের তথাকথিত উচ্চবিত্ত ও রাজনৈতিক ‘মুরব্বিদের’ বিদেশে সম্পদ পাচার ও আয়েশাপূর্ণ জীবনযাত্রার কঠোর সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন:
"কানাডার বেগমপাড়ায় আমাদের কোনো বাড়িগাড়ি নেই। তবে মুরব্বিদের অনেকেরই সেখানে বাড়িগাড়ি আছে, তাঁদের সন্তানেরা বিদেশে লেখাপড়া করেন এবং তাঁরা নিজেরা বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান। এ দেশের সাধারণ মানুষ যেখানে দেশে চিকিৎসা নেয়, সেখানে কিছু ‘অসাধারণ’ মানুষ বিদেশে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নেন। আমাদের সন্তানেরা দেশে পড়ালেখা করলেও মুরব্বিদের সন্তানেরা বিদেশে পড়েন। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।"
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে দেশের যুবসমাজকে অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দেন এই সংসদ সদস্য। তিনি মনে করেন, মেধা পাচার রোধ করতে এবং তরুণদের দেশে ধরে রাখতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে অনতিবিলম্বে আধুনিকায়ন করা জরুরি, যেন শিক্ষার জন্য কাউকে বিদেশমুখী হতে না হয়।
তিনি দাবি করেন, সরকারি প্রতিটি সেক্টরে কেবল মেধাবীদের স্থান দিতে হবে এবং বেসরকারি খাতেও তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক চাকাকে সচল রাখতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে আরও গতিশীল করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আগামী বাজেটে এই দাবিগুলো অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বর্তমানে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা এনসিপির এই নেতা পুলিশ প্রশাসনের ভেতরের অতি-উৎসাহী ভূমিকার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবকে দায়ী করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "পদোন্নতি পাওয়ার আশায় কিছু পুলিশ সদস্য আমাদের নেতা–কর্মীদের মারধর বা হয়রানি করে থাকে—এটা আসলে পুলিশের একক দোষ নয়। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদেরাই পুলিশ প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন, যাতে তাঁদের কথায় বিরোধী দলকে হয়রানি করা যায়।" নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীন রাখা আবশ্যক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশে আর কখনো আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। যে দলের প্রধানরা দেশের লাখ লাখ নেতা–কর্মীকে মাঠে ফেলে পালিয়ে যান, তাঁদের এ দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতভেদ থাকতে পারে, তবে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ।
এনসিপি নেতা সুফিয়ান রায়হানের সভাপতিত্বে এবং মামুন মজুমদারের সঞ্চালনায় এই পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা রবীন্দ্র নাথ সাহা, জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী ইব্রাহিম খালেদ এবং কুমিল্লা মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী মাসুমুল বারী কাউছার।
উল্লেখ্য, ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে গত রোববার থেকে এনসিপির এই বিশেষ পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম দিন মেঘনা, হোমনা, তিতাস ও চান্দিনায় এবং দ্বিতীয় দিন আজ সোমবার চৌদ্দগ্রাম, ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলায় দলটির পদযাত্রা ও গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়। একদিন বিরতি দিয়ে আগামী বুধবার লালমাই, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট উপজেলায় গণসংযোগ ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তিন দিনের এই বিশেষ কর্মসূচি।
2.png)