সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 লোকাল ফোকাসলোকাল ফোকাস

হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় মৃত ও ধনাঢ্যরা, বাদ পড়েছেন প্রকৃত চাষিরা

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় সরকারি সহায়তা পেতে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ; ক্ষুব্ধ স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকেরা।

হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় মৃত ও ধনাঢ্যরা, বাদ পড়েছেন প্রকৃত চাষিরা
ছবি -সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদানের সরকারি তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও দুস্থ চাষিদের নাম বাদ দিয়ে সেখানে ঠাঁই পেয়েছে একাধিক মৃত ব্যক্তি, সরকারি চাকরিজীবী এবং এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তিদের নাম। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই জালিয়াতি করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তারপুর গ্রামে গত বছর মারা যাওয়া রনু রঞ্জন সরকার এবং প্রায় ছয় মাস আগে মারা যাওয়া সুধীন চন্দ্র দাসের নাম ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিহির চৌধুরী এবং বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সমীর চন্দ্র সরকারের একটি সিন্ডিকেট এই অনিয়ম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সহায়তা পাওয়ার পর সেই টাকার অর্ধেক ইউপি সদস্যকে দেওয়ার শর্তে অনেক অকৃষক ও মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। এমনকি ইউপি সদস্য মিহির চৌধুরী তালিকায় নিজের এবং তার বাবার নামও যুক্ত করেছেন। একইভাবে শাল্লা ইউনিয়নের সহাদেবপাশা গ্রামে চার বছর আগে মারা যাওয়া করফুল নেছা নামের এক নারীর নামও ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় পাওয়া গেছে।

তালিকায় কেবল মৃত ব্যক্তিরাই নন, ঠাঁই পেয়েছেন এলাকার প্রভাবশালী ও বিত্তবানরা। বাহাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত জগন্নাথ রায়, যার উপজেলা সদরে একটি চারতলা ভবন রয়েছে, তাকেও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মধুসূদন দাশ। বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দেবব্রত তালুকদার তার নিজের সরকারি চাকরিজীবী ভাই-বোন ও মা-বাবাসহ পরিবারের অন্তত ১০ জন সদস্যের নাম এই তালিকায় ঢুকিয়েছেন। এছাড়া রৌওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশীষ চৌধুরী এবং প্রবাসী সন্তানের পিতা আপ্তাব উদ্দিনের নামও ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় এসেছে। একইভাবে হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদেও প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে ইউপি সদস্য টিপু সুলতান নিজের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

এদিকে প্রকৃত অনেক কৃষক বন্যায় সর্বস্বান্ত হলেও তালিকায় তাদের নাম ওঠেনি। মুক্তারপুর গ্রামের কৃষক শিবেন্দ্র দাস জানান, তার ৮ কেদার জমির মধ্যে ৫ কেদার জমি পানির নিচে তলিয়ে গেলেও তালিকায় তার নাম রাখা হয়নি। উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হক এই ভুয়া ও বৈষম্যমূলক তালিকা দ্রুত সংশোধনের জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায় এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু সাঈদ সরাসরি মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তদন্তে যদি কোনো মৃত ব্যক্তি কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হননি এমন কারও নাম তালিকায় পাওয়ার প্রমাণ মেলে, তবে খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় : শাল্লা সুনামগঞ্জ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তালিকা

হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় মৃত ও ধনাঢ্যরা, বাদ পড়েছেন প্রকৃত চাষিরা
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় মৃত ও ধনাঢ্যরা, বাদ পড়েছেন প্রকৃত চাষিরা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদানের সরকারি তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি তালিকা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও দুস্থ চাষিদের নাম বাদ দিয়ে সেখানে ঠাঁই পেয়েছে একাধিক মৃত ব্যক্তি, সরকারি চাকরিজীবী এবং এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তিদের নাম। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই জালিয়াতি করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তারপুর গ্রামে গত বছর মারা যাওয়া রনু রঞ্জন সরকার এবং প্রায় ছয় মাস আগে মারা যাওয়া সুধীন চন্দ্র দাসের নাম ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিহির চৌধুরী এবং বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সমীর চন্দ্র সরকারের একটি সিন্ডিকেট এই অনিয়ম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সহায়তা পাওয়ার পর সেই টাকার অর্ধেক ইউপি সদস্যকে দেওয়ার শর্তে অনেক অকৃষক ও মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। এমনকি ইউপি সদস্য মিহির চৌধুরী তালিকায় নিজের এবং তার বাবার নামও যুক্ত করেছেন। একইভাবে শাল্লা ইউনিয়নের সহাদেবপাশা গ্রামে চার বছর আগে মারা যাওয়া করফুল নেছা নামের এক নারীর নামও ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় পাওয়া গেছে।

তালিকায় কেবল মৃত ব্যক্তিরাই নন, ঠাঁই পেয়েছেন এলাকার প্রভাবশালী ও বিত্তবানরা। বাহাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত জগন্নাথ রায়, যার উপজেলা সদরে একটি চারতলা ভবন রয়েছে, তাকেও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মধুসূদন দাশ। বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দেবব্রত তালুকদার তার নিজের সরকারি চাকরিজীবী ভাই-বোন ও মা-বাবাসহ পরিবারের অন্তত ১০ জন সদস্যের নাম এই তালিকায় ঢুকিয়েছেন। এছাড়া রৌওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশীষ চৌধুরী এবং প্রবাসী সন্তানের পিতা আপ্তাব উদ্দিনের নামও ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় এসেছে। একইভাবে হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদেও প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে ইউপি সদস্য টিপু সুলতান নিজের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

এদিকে প্রকৃত অনেক কৃষক বন্যায় সর্বস্বান্ত হলেও তালিকায় তাদের নাম ওঠেনি। মুক্তারপুর গ্রামের কৃষক শিবেন্দ্র দাস জানান, তার ৮ কেদার জমির মধ্যে ৫ কেদার জমি পানির নিচে তলিয়ে গেলেও তালিকায় তার নাম রাখা হয়নি। উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হক এই ভুয়া ও বৈষম্যমূলক তালিকা দ্রুত সংশোধনের জোর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায় এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু সাঈদ সরাসরি মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তদন্তে যদি কোনো মৃত ব্যক্তি কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হননি এমন কারও নাম তালিকায় পাওয়ার প্রমাণ মেলে, তবে খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত