সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 রাজনীতিরাজনীতি

২০১৪ থেকে সবগুলো নির্বাচনই সাজানো: জিএম কাদের

২০২৬ সালের নির্বাচনকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ আখ্যা দিয়ে জাপা চেয়ারম্যানের ক্ষোভ; দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে ‘মামলা বাণিজ্যের’ অভিযোগ।

২০১৪ থেকে সবগুলো নির্বাচনই সাজানো: জিএম কাদের
ছবি -সংগৃহীত

২০১৪ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশে যতগুলো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার সবকটিই ছিল ‘সাজানো এবং পূর্বনির্ধারিত’ বলে দাবি করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। এমনকি ২০২৬ সালের সর্বশেষ নির্বাচনটিও সুক্ষ্ম ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক এই বিরোধীদলীয় নেতা। শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে নিজের দুটি নতুন বইয়ের প্রকাশনা ও আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যকে গাণিতিক মানদণ্ডে ‘অসম্ভব’ আখ্যা দিয়ে জিএম কাদের বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমিশন ঘোষিত ৫৯.৪৪ শতাংশ vote পড়ার দাবিটি সম্পূর্ণ অবাস্তব। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, ভোটার সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ বাড়লেও বুথ সংখ্যা রহস্যজনকভাবে প্রায় ১৭ হাজার কমিয়ে আনা হয়েছে, যা মূলত কৃত্রিম ভিড় তৈরি ও ভোট জালিয়াতির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। নির্ধারিত বুথ সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে দেখা যায়, ৯ ঘণ্টার সময়সীমায় প্রতি ভোটারের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ১০৪ সেকেন্ড। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে পরিচয় যাচাই, আঙুলে কালি লাগানো ও দুটি ব্যালটে সিল মেরে বক্সে ফেলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ কেন্দ্রই অর্ধেকের বেশি সময় ফাঁকা ছিল এবং বাস্তবে ১২ থেকে ১৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েনি; বাকিটা ভুয়া ভোটের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দমতো ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।

দেশে বর্তমানে মুক্ত গণমাধ্যমের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং মিডিয়া এখন চরম ‘আত্ম-নিয়ন্ত্রণে’ (সেলফ সেন্সরড) চলছে বলে অভিযোগ করেন জাপা চেয়ারম্যান। এই গাণিতিক সত্যগুলো দেশের কোনো সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করার সাহস পায়নি বলেই তিনি এগুলো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছেন। আনিস আলমগীর ও পান্নাদের মতো জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের গ্রেফতারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আগের অপশাসনের যে ধারাবাহিকতা, তা এখনও দৃশ্যমান এবং মানুষের মৌলিক নাগরিক ও বাকস্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও দেশজুড়ে তীব্র দুর্নীতি চলছে দাবি করে জিএম কাদের এক অভিনব ‘মামলা বাণিজ্যের’ বিবরণ দেন। তিনি অভিযোগ করেন, নিরীহ মানুষকে মামলার ভয় দেখিয়ে এবং ‘শোন অ্যারেস্ট’ থেকে বাঁচানোর নাম করে বিভিন্ন স্তরে বিপুল অংকের টাকা ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া political প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ভিন্নমতাবলম্বী ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের বিমানবন্দরে আটকে রেখে হয়রানি ও অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটছে বলে তিনি জানান।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর উদাহরণ টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, দেশের অর্ধেক রাজনৈতিক শক্তি ও সাধারণ মানুষকে বাদ দিয়ে বর্তমান সরকার যদি নিজেদের মতো করে সংস্কার বা বিচার চাপিয়ে দিতে চায়, তবে তা ইতিহাসের পাতায় টিকবে না। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, দলের প্রতীক বা মামলা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তবে দলের ভেতরে থেকে যারা বেইমানি করবে, তাদের আর ছাড় দেওয়া হবে না; জাপা একা হলেও জনগণের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাবে। প্রকাশক আলমগীর সিকদার লোটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক।

বিষয় : জি এম কাদের সাজানো নির্বাচন

২০১৪ থেকে সবগুলো নির্বাচনই সাজানো: জিএম কাদের
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


২০১৪ থেকে সবগুলো নির্বাচনই সাজানো: জিএম কাদের

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

২০১৪ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশে যতগুলো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার সবকটিই ছিল ‘সাজানো এবং পূর্বনির্ধারিত’ বলে দাবি করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। এমনকি ২০২৬ সালের সর্বশেষ নির্বাচনটিও সুক্ষ্ম ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক এই বিরোধীদলীয় নেতা। শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে নিজের দুটি নতুন বইয়ের প্রকাশনা ও আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্যকে গাণিতিক মানদণ্ডে ‘অসম্ভব’ আখ্যা দিয়ে জিএম কাদের বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমিশন ঘোষিত ৫৯.৪৪ শতাংশ vote পড়ার দাবিটি সম্পূর্ণ অবাস্তব। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, ভোটার সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ বাড়লেও বুথ সংখ্যা রহস্যজনকভাবে প্রায় ১৭ হাজার কমিয়ে আনা হয়েছে, যা মূলত কৃত্রিম ভিড় তৈরি ও ভোট জালিয়াতির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। নির্ধারিত বুথ সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে দেখা যায়, ৯ ঘণ্টার সময়সীমায় প্রতি ভোটারের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ১০৪ সেকেন্ড। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে পরিচয় যাচাই, আঙুলে কালি লাগানো ও দুটি ব্যালটে সিল মেরে বক্সে ফেলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ কেন্দ্রই অর্ধেকের বেশি সময় ফাঁকা ছিল এবং বাস্তবে ১২ থেকে ১৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েনি; বাকিটা ভুয়া ভোটের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দমতো ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।

দেশে বর্তমানে মুক্ত গণমাধ্যমের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং মিডিয়া এখন চরম ‘আত্ম-নিয়ন্ত্রণে’ (সেলফ সেন্সরড) চলছে বলে অভিযোগ করেন জাপা চেয়ারম্যান। এই গাণিতিক সত্যগুলো দেশের কোনো সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করার সাহস পায়নি বলেই তিনি এগুলো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছেন। আনিস আলমগীর ও পান্নাদের মতো জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের গ্রেফতারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আগের অপশাসনের যে ধারাবাহিকতা, তা এখনও দৃশ্যমান এবং মানুষের মৌলিক নাগরিক ও বাকস্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে।

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও দেশজুড়ে তীব্র দুর্নীতি চলছে দাবি করে জিএম কাদের এক অভিনব ‘মামলা বাণিজ্যের’ বিবরণ দেন। তিনি অভিযোগ করেন, নিরীহ মানুষকে মামলার ভয় দেখিয়ে এবং ‘শোন অ্যারেস্ট’ থেকে বাঁচানোর নাম করে বিভিন্ন স্তরে বিপুল অংকের টাকা ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া political প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ভিন্নমতাবলম্বী ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের বিমানবন্দরে আটকে রেখে হয়রানি ও অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটছে বলে তিনি জানান।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর উদাহরণ টেনে তিনি সতর্ক করেন যে, দেশের অর্ধেক রাজনৈতিক শক্তি ও সাধারণ মানুষকে বাদ দিয়ে বর্তমান সরকার যদি নিজেদের মতো করে সংস্কার বা বিচার চাপিয়ে দিতে চায়, তবে তা ইতিহাসের পাতায় টিকবে না। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, দলের প্রতীক বা মামলা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তবে দলের ভেতরে থেকে যারা বেইমানি করবে, তাদের আর ছাড় দেওয়া হবে না; জাপা একা হলেও জনগণের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাবে। প্রকাশক আলমগীর সিকদার লোটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত