সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 অর্থনীতিঅর্থনীতি

আয়কর রিটার্নে ছোট ভুলেই হতে পারে অডিট: আপনার টিআইএন কি আছে এনবিআরের তালিকায়?

নির্ধারিত সময়ের পর বিলম্বে রিটার্ন জমা দিলে জরিমানা ও বাড়তি সুদের পাশাপাশি মিলবে না বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত সুবিধা; কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়িয়েছে রাজস্ব বোর্ড।

আয়কর রিটার্নে ছোট ভুলেই হতে পারে অডিট: আপনার টিআইএন কি আছে এনবিআরের তালিকায়?
ছবি -সংগৃহীত


ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার মূল সময়সীমা গত ৩১ মার্চ শেষ হয়েছে। তবে যারা এখনো রিটার্ন দাখিল করতে পারেননি, তাদের জন্য এখনো আগের দুই বছরের বকেয়া রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এই বিলম্বের জন্য করদাতাদের গুনতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা ও অতিরিক্ত সুদ। একই সঙ্গে তারা বঞ্চিত হবেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর সুবিধা থেকে। কর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন দিলে বকেয়া করের ওপর প্রতি মাসে ২ শতাংশ হারে (সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত) অতিরিক্ত সুদ দিতে হবে। এছাড়া সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসবে কর রেয়াতের ক্ষেত্রে; বিলম্বিত রিটার্নে সরকার নির্ধারিত বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের বিপরীতে যে করছাড় বা রেয়াত পাওয়া যায়, সেই সুবিধা পুরোপুরি বাতিল হয়ে যাবে। তবে যারা সময়ের আগে আবেদন করে অনুমতি নিয়েছেন, তারা জরিমানা ছাড়াই নিয়মিত করদাতার মতো সব সুবিধা পাবেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিটার্ন জমা দেওয়ার পরেই করদাতাদের আসল পরীক্ষা শুরু হতে পারে। কারণ, এনবিআর এখন রিটার্নের তথ্য নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাইয়ের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে। রিটার্ন ফর্মে সামান্য কোনো অসঙ্গতি, ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাব কিংবা আয়ের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ের গরমিল পাওয়া গেলেই সেই ফাইলটি সরাসরি নিরীক্ষা বা অডিটের (Audit) তালিকায় চলে যেতে পারে। কর কর্মকর্তারা যেকোনো সময় করদাতাকে ডেকে নথিপত্রের ব্যাখ্যা চাইতে পারেন, যা সাধারণ করদাতাদের জন্য বেশ বড় ঝামেলার কারণ হতে পারে।

দেশে বর্তমানে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন (TIN) ধারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও, সেই তুলনায় নিয়মিত রিটার্ন জমা দেওয়ার হার অনেক কম। অনেকেই গাড়ি কেনা, জমি নিবন্ধন, সঞ্চয়পত্র বা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা নেওয়ার বাধ্যবাধকতার কারণে টিআইএন নিলেও পরে আর রিটার্ন দাখিল করেন না। এই কর ফাঁকি বন্ধ করতে এবং করের জাল বাড়াতে এনবিআর এখন তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। ব্যাংক হিসাব, ভূমি ও গাড়ি নিবন্ধন অফিস এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেটা বা তথ্য এখন একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হচ্ছে। ফলে সম্পদ বা আয় গোপন করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল নজরদারির এই যুগে আইনি ঝামেলা এড়াতে সঠিক তথ্য দিয়ে নিয়মিত রিটার্ন জমা দেওয়া এবং সব আর্থিক লেনদেনের রসিদ বা প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করাই এখন সবচেয়ে নিরাপদ পথ।


বিষয় : আয়কর রিটার্ন ২০২৬ এনবিআর ট্যাক্স অডিট টিআইএন নম্বর কর ফাঁকি বিলম্বিত রিটার্ন জরিমানা

আয়কর রিটার্নে ছোট ভুলেই হতে পারে অডিট: আপনার টিআইএন কি আছে এনবিআরের তালিকায়?
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


আয়কর রিটার্নে ছোট ভুলেই হতে পারে অডিট: আপনার টিআইএন কি আছে এনবিআরের তালিকায়?

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image


ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার মূল সময়সীমা গত ৩১ মার্চ শেষ হয়েছে। তবে যারা এখনো রিটার্ন দাখিল করতে পারেননি, তাদের জন্য এখনো আগের দুই বছরের বকেয়া রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এই বিলম্বের জন্য করদাতাদের গুনতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা ও অতিরিক্ত সুদ। একই সঙ্গে তারা বঞ্চিত হবেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর সুবিধা থেকে। কর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন দিলে বকেয়া করের ওপর প্রতি মাসে ২ শতাংশ হারে (সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত) অতিরিক্ত সুদ দিতে হবে। এছাড়া সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসবে কর রেয়াতের ক্ষেত্রে; বিলম্বিত রিটার্নে সরকার নির্ধারিত বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের বিপরীতে যে করছাড় বা রেয়াত পাওয়া যায়, সেই সুবিধা পুরোপুরি বাতিল হয়ে যাবে। তবে যারা সময়ের আগে আবেদন করে অনুমতি নিয়েছেন, তারা জরিমানা ছাড়াই নিয়মিত করদাতার মতো সব সুবিধা পাবেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিটার্ন জমা দেওয়ার পরেই করদাতাদের আসল পরীক্ষা শুরু হতে পারে। কারণ, এনবিআর এখন রিটার্নের তথ্য নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাইয়ের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে। রিটার্ন ফর্মে সামান্য কোনো অসঙ্গতি, ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাব কিংবা আয়ের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ের গরমিল পাওয়া গেলেই সেই ফাইলটি সরাসরি নিরীক্ষা বা অডিটের (Audit) তালিকায় চলে যেতে পারে। কর কর্মকর্তারা যেকোনো সময় করদাতাকে ডেকে নথিপত্রের ব্যাখ্যা চাইতে পারেন, যা সাধারণ করদাতাদের জন্য বেশ বড় ঝামেলার কারণ হতে পারে।

দেশে বর্তমানে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন (TIN) ধারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও, সেই তুলনায় নিয়মিত রিটার্ন জমা দেওয়ার হার অনেক কম। অনেকেই গাড়ি কেনা, জমি নিবন্ধন, সঞ্চয়পত্র বা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা নেওয়ার বাধ্যবাধকতার কারণে টিআইএন নিলেও পরে আর রিটার্ন দাখিল করেন না। এই কর ফাঁকি বন্ধ করতে এবং করের জাল বাড়াতে এনবিআর এখন তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। ব্যাংক হিসাব, ভূমি ও গাড়ি নিবন্ধন অফিস এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেটা বা তথ্য এখন একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হচ্ছে। ফলে সম্পদ বা আয় গোপন করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল নজরদারির এই যুগে আইনি ঝামেলা এড়াতে সঠিক তথ্য দিয়ে নিয়মিত রিটার্ন জমা দেওয়া এবং সব আর্থিক লেনদেনের রসিদ বা প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করাই এখন সবচেয়ে নিরাপদ পথ।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত