সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 লোকাল ফোকাসলোকাল ফোকাস

ভোলার নদীতে মিলছে না ইলিশ, চরম হতাশায় উপকূলের জেলেরা

নিষেধাজ্ঞা শেষে জাল ফেললেও মিলছে না আশানুরূপ রূপালি ফসল; সারারাত নদীতে ডিজেল পুড়িয়ে খালি হাতে ফিরছেন মৎস্যজীবীরা, বাড়ছে ঋণের বোঝা।

ভোলার নদীতে মিলছে না ইলিশ, চরম হতাশায় উপকূলের জেলেরা
ছবি -সংগৃহীত


দীর্ঘ দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বুকভরা আশা নিয়ে নদীতে নেমেছিলেন ভোলার ভুক্তভোগী জেলেরা। তবে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বর্তমান চিত্র তাদের সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে। নদীতে এখন রূপালি ইলিশের তীব্র আকাল চলছে। শুধু ইলিশই নয়, অন্য কোনো দেশিও মাছের দেখা মিলছে না বললেই চলে। সাগরে মাছের আনাগোনা থাকলেও তা এখনো নদীতে প্রবেশ করেনি বলে ধারণা করছেন মৎস্যজীবীরা। ফলে দিন-রাত এক করে নদীতে জাল ফেলে, বিপুল পরিমাণ ডিজেল পুড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে চরম হতাশায় দিন কাটছে উপকূলের হাজারো মৎস্যজীবী পরিবারের।

স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩-৪ জন আরোহী নিয়ে একটি নৌকা যখন সারারাত নদীতে অবস্থান করে, তখন ভোরের আলোয় তাদের ভাগ্যে জুটছে মাত্র ২-৩টি ছোট ইলিশ। কোনো কোনো দিন তাও মিলছে না। একদিকে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে নদীতে মাছের এই আকাল—সব মিলিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকাই এখন তাদের জন্য এক বড় যুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাদনদার আর মহাজনদের চড়া সুদের ঋণের কিস্তি শোধ করার দুশ্চিন্তা উপকূলের ঘরগুলোতে এখন নিত্যদিনের সঙ্গী।

এদিকে রূপালি ফসলের এই সংকটের পেছনে অপরিকল্পিত ও নির্বিচার জাটকা নিধনকে দায়ী করছেন সাধারণ ক্রেতা ও সচেতন মহল। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে একশ্রেণির অসাধু চক্র কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে ছোট জাটকা নিধন করছে, যা পরবর্তীতে প্রকাশ্য বাজারেও বিক্রি হচ্ছে। এই জাটকা নিধনের উৎসবের কারণেই নদীতে বড় ইলিশের বংশবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইলিশের এই আকালের প্রভাব পড়েছে ভোলার স্থানীয় বাজারগুলোতেও; সরবরাহ কম থাকায় সাধারণ ক্রেতারা বাজারে গিয়ে ইলিশের আকাশচুম্বী দাম দেখে খালি হাতেই বাড়ি ফিরছেন।


বিষয় : ভোলার ইলিশ ইলিশের আকাল ভোলার জেলে জাটকা নিধন মেঘনা তেঁতুলিয়া নদী মাছের সংকট জেলেদের হতাশা ভোলা

ভোলার নদীতে মিলছে না ইলিশ, চরম হতাশায় উপকূলের জেলেরা
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


ভোলার নদীতে মিলছে না ইলিশ, চরম হতাশায় উপকূলের জেলেরা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image


দীর্ঘ দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বুকভরা আশা নিয়ে নদীতে নেমেছিলেন ভোলার ভুক্তভোগী জেলেরা। তবে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বর্তমান চিত্র তাদের সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে। নদীতে এখন রূপালি ইলিশের তীব্র আকাল চলছে। শুধু ইলিশই নয়, অন্য কোনো দেশিও মাছের দেখা মিলছে না বললেই চলে। সাগরে মাছের আনাগোনা থাকলেও তা এখনো নদীতে প্রবেশ করেনি বলে ধারণা করছেন মৎস্যজীবীরা। ফলে দিন-রাত এক করে নদীতে জাল ফেলে, বিপুল পরিমাণ ডিজেল পুড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে চরম হতাশায় দিন কাটছে উপকূলের হাজারো মৎস্যজীবী পরিবারের।

স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩-৪ জন আরোহী নিয়ে একটি নৌকা যখন সারারাত নদীতে অবস্থান করে, তখন ভোরের আলোয় তাদের ভাগ্যে জুটছে মাত্র ২-৩টি ছোট ইলিশ। কোনো কোনো দিন তাও মিলছে না। একদিকে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে নদীতে মাছের এই আকাল—সব মিলিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকাই এখন তাদের জন্য এক বড় যুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দাদনদার আর মহাজনদের চড়া সুদের ঋণের কিস্তি শোধ করার দুশ্চিন্তা উপকূলের ঘরগুলোতে এখন নিত্যদিনের সঙ্গী।

এদিকে রূপালি ফসলের এই সংকটের পেছনে অপরিকল্পিত ও নির্বিচার জাটকা নিধনকে দায়ী করছেন সাধারণ ক্রেতা ও সচেতন মহল। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে একশ্রেণির অসাধু চক্র কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে ছোট জাটকা নিধন করছে, যা পরবর্তীতে প্রকাশ্য বাজারেও বিক্রি হচ্ছে। এই জাটকা নিধনের উৎসবের কারণেই নদীতে বড় ইলিশের বংশবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইলিশের এই আকালের প্রভাব পড়েছে ভোলার স্থানীয় বাজারগুলোতেও; সরবরাহ কম থাকায় সাধারণ ক্রেতারা বাজারে গিয়ে ইলিশের আকাশচুম্বী দাম দেখে খালি হাতেই বাড়ি ফিরছেন।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত