সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 অর্থনীতিঅর্থনীতি

নতুন বাজেটে আরও বাড়বে নিত্যপণ্যের বাজার, ৫০ পণ্য ও সেবায় ভ্যাট-শুল্ক বাড়ানোর ছক

রাজস্বের বড় লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে উৎসে কর দ্বিগুণ করা হচ্ছে; মুদি দোকানদারদের প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় আনা এবং অতি ধনীদের ওপর সম্পদ কর আরোপের পরিকল্পনা সরকারের।

নতুন বাজেটে আরও বাড়বে নিত্যপণ্যের বাজার, ৫০ পণ্য ও সেবায় ভ্যাট-শুল্ক বাড়ানোর ছক
ছবি- প্রতীকী (এ আই জেনারেটেড)


আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিপুল রাজস্ব আদায়ের এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। এই লক্ষ্য পূরণের বড় খেসারত দিতে হতে পারে সাধারণ ভোক্তাদের। বাজেট পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অন্তত ৫০টি জরুরি পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) এবং সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সচল রাখতে যে উৎসে কর দিতে হয় তা দ্বিগুণ করা, তৃণমূলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের জালে আটকানো এবং সমাজের অতি ধনীদের ওপর সম্পদ কর আরোপের মতো একগুচ্ছ কঠোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন চাল, ধান, গম, আটা, ময়দা, আলু, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন ও ভোজ্যতেলের মতো অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্যের সরবরাহে উৎসে কর দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, মাছ, মাংস, চিনি, লবণ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ এবং তেজপাতার মতো রান্নার অপরিহার্য উপকরণের ওপরও এই করহার দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে খুচরা বাজারে এসব পণ্যের দাম আরও এক দফা বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খাদ্যশস্যের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের ভোগ তালিকায় থাকা পাস্তা, প্রক্রিয়াজাত ফলের রস, আইসক্রিম ও কার্বনেটেড পানীয় বা কোল্ড ড্রিংকসের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। নারীদের প্রসাধনী সামগ্রী, সিগারেট-বিড়ি এবং জর্দা-গুলের মতো সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের করের আওতা আরও বড় করা হচ্ছে। শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত এমএস প্রোডাক্ট এবং রেডসিড, কোলজা ও কেনোলা অয়েলের ওপরও ভ্যাট বাড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। এছাড়া সরকারের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে রপ্তানি খাতের প্রণোদনার ওপর বিদ্যমান উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ থাকা ৯ হাজার ২৫ কোটি টাকার ওপর করহার দ্বিগুণ করা গেলে সরকারের কোষাগারে অতিরিক্ত প্রায় ৯০০ কোটি টাকা জমা হবে বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারকেরা।

নতুন বাজেটের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হতে যাচ্ছে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে করের আওতায় আনা। দেশের উপজেলা পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, বিশেষ করে প্রান্তিক মুদি দোকানদারদের জন্য নতুন করে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এর ফলে যারা বার্ষিক বিক্রির সীমার কারণে এযাবৎ ভ্যাট নিবন্ধনের বাইরে ছিলেন, তাদের এখন থেকে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা বা বছরে স্থায়ীভাবে ১২ হাজার টাকা ভ্যাট দিতে হবে। রাজস্ব প্রশাসনের এই প্রস্তাবগুলো এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে কর ফাঁকি রুখতে ব্যাংকে নতুন চলতি হিসাব (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) খোলার ক্ষেত্রে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার বা বিআইএন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে টিআইএনের মতো বিআইএন নেওয়ার প্রক্রিয়াটিও সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


বিষয় : বাজেট ২০২৬-২ নতুন করের হার নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি উৎসে কর বৃদ্ধি এনবিআর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা সম্পূরক শুল্ক তামাকজাত পণ্য

নতুন বাজেটে আরও বাড়বে নিত্যপণ্যের বাজার, ৫০ পণ্য ও সেবায় ভ্যাট-শুল্ক বাড়ানোর ছক
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


নতুন বাজেটে আরও বাড়বে নিত্যপণ্যের বাজার, ৫০ পণ্য ও সেবায় ভ্যাট-শুল্ক বাড়ানোর ছক

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image


আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিপুল রাজস্ব আদায়ের এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। এই লক্ষ্য পূরণের বড় খেসারত দিতে হতে পারে সাধারণ ভোক্তাদের। বাজেট পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অন্তত ৫০টি জরুরি পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) এবং সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সচল রাখতে যে উৎসে কর দিতে হয় তা দ্বিগুণ করা, তৃণমূলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের জালে আটকানো এবং সমাজের অতি ধনীদের ওপর সম্পদ কর আরোপের মতো একগুচ্ছ কঠোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন চাল, ধান, গম, আটা, ময়দা, আলু, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন ও ভোজ্যতেলের মতো অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্যের সরবরাহে উৎসে কর দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, মাছ, মাংস, চিনি, লবণ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ এবং তেজপাতার মতো রান্নার অপরিহার্য উপকরণের ওপরও এই করহার দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে খুচরা বাজারে এসব পণ্যের দাম আরও এক দফা বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খাদ্যশস্যের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের ভোগ তালিকায় থাকা পাস্তা, প্রক্রিয়াজাত ফলের রস, আইসক্রিম ও কার্বনেটেড পানীয় বা কোল্ড ড্রিংকসের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। নারীদের প্রসাধনী সামগ্রী, সিগারেট-বিড়ি এবং জর্দা-গুলের মতো সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের করের আওতা আরও বড় করা হচ্ছে। শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত এমএস প্রোডাক্ট এবং রেডসিড, কোলজা ও কেনোলা অয়েলের ওপরও ভ্যাট বাড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। এছাড়া সরকারের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে রপ্তানি খাতের প্রণোদনার ওপর বিদ্যমান উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ থাকা ৯ হাজার ২৫ কোটি টাকার ওপর করহার দ্বিগুণ করা গেলে সরকারের কোষাগারে অতিরিক্ত প্রায় ৯০০ কোটি টাকা জমা হবে বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারকেরা।

নতুন বাজেটের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হতে যাচ্ছে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে করের আওতায় আনা। দেশের উপজেলা পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, বিশেষ করে প্রান্তিক মুদি দোকানদারদের জন্য নতুন করে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এর ফলে যারা বার্ষিক বিক্রির সীমার কারণে এযাবৎ ভ্যাট নিবন্ধনের বাইরে ছিলেন, তাদের এখন থেকে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা বা বছরে স্থায়ীভাবে ১২ হাজার টাকা ভ্যাট দিতে হবে। রাজস্ব প্রশাসনের এই প্রস্তাবগুলো এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে কর ফাঁকি রুখতে ব্যাংকে নতুন চলতি হিসাব (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) খোলার ক্ষেত্রে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার বা বিআইএন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে টিআইএনের মতো বিআইএন নেওয়ার প্রক্রিয়াটিও সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত