রাজনীতি
ভারতে নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের জন্য একটি স্থায়ী মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনকানুন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে অভিন্ন নদীগুলো থেকে ভারতের এই একতরফা পানি প্রত্যাহার নীতি বাংলাদেশের অস্তিত্বকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ঐতিহাসিক ‘ফারাক্কা দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ করে স্বাভাবিক জলপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। নিজেদের অনুকূলে দিল্লির এমন একপেশে আচরণের কারণে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ইতিমধ্যেই প্রায় মরুভূমিতে রূপ নিয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। দেশ এভাবে নিষ্ফলা ও ঊষর ভূমি হয়ে ওঠার আলামত চারদিকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ফারাক্কা দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক মন্তব্য করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে ঠিক ৪৯ বছর আগে অবিসংবাদিত মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দূরদর্শী ডাকে সারা দেশ থেকে লাখো জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে তারা ফারাক্কা অভিমুখে এক ঐতিহাসিক লংমার্চে অংশ নেয়। সেই আন্দোলনই প্রথম এই ব্যাপক মানববিপর্যয়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জোরালোভাবে তুলে ধরেছিল।
বাণীতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সে সময় জনমতকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এবং জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতির কথা চিন্তা না করেই ভারতকে মাত্র কয়েক দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সাময়িক অনুমতিই আজ এ দেশের মানুষের জন্য স্থায়ী মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৎকালীন সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণেই এ দেশের মানুষ আজ পর্যন্ত পানির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
ভারতে নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের জন্য একটি স্থায়ী মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনকানুন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে অভিন্ন নদীগুলো থেকে ভারতের এই একতরফা পানি প্রত্যাহার নীতি বাংলাদেশের অস্তিত্বকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ঐতিহাসিক ‘ফারাক্কা দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ করে স্বাভাবিক জলপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। নিজেদের অনুকূলে দিল্লির এমন একপেশে আচরণের কারণে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ইতিমধ্যেই প্রায় মরুভূমিতে রূপ নিয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। দেশ এভাবে নিষ্ফলা ও ঊষর ভূমি হয়ে ওঠার আলামত চারদিকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ফারাক্কা দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক মন্তব্য করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে ঠিক ৪৯ বছর আগে অবিসংবাদিত মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দূরদর্শী ডাকে সারা দেশ থেকে লাখো জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে তারা ফারাক্কা অভিমুখে এক ঐতিহাসিক লংমার্চে অংশ নেয়। সেই আন্দোলনই প্রথম এই ব্যাপক মানববিপর্যয়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জোরালোভাবে তুলে ধরেছিল।
বাণীতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সে সময় জনমতকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এবং জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতির কথা চিন্তা না করেই ভারতকে মাত্র কয়েক দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সাময়িক অনুমতিই আজ এ দেশের মানুষের জন্য স্থায়ী মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৎকালীন সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণেই এ দেশের মানুষ আজ পর্যন্ত পানির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে।
2.png)