সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 অর্থনীতিঅর্থনীতি

রাজনৈতিক ম্যান্ডেট না থাকায় অনেক কাজ করা যায়নি: সালেহউদ্দিন

ভাঙা অর্থনীতি সামলাতেই দেড় বছর কেটেছে উল্লেখ করে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা বলেন, রাতারাতি সব পরিবর্তন সম্ভব নয়; আইবিএর সমাবর্তনে সুশাসনের ওপর জোর।

রাজনৈতিক ম্যান্ডেট না থাকায় অনেক কাজ করা যায়নি: সালেহউদ্দিন
ছবি -সংগৃহীত

রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের ঘাটতি ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও বড় কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা অধ্যাপক সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এমন এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত ছিল যে, নতুন কোনো বড় সংস্কারের চেয়ে ভেঙে পড়া ব্যবস্থাটিকে টেনে তোলাই ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন, তাদের বাস্তবতার দিকে তাকানোর আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, রাতারাতি বা এক দিনে অলৌকিক কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে কোনো কাজই হয়নি; বরং দৃশ্যমান বড় পরিবর্তনের চেয়ে ভিত্তিগত ও অভ্যন্তরীণ সংস্কারেই বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছে। নিজের কাজের অভিজ্ঞতাকে ‘রিপেয়ার’ (মেরামত) ও ‘রিফর্ম’ (সংস্কার)—এই দুই ভাগে ভাগ করে তিনি বলেন, প্রথম ধাপে রাষ্ট্রযন্ত্রের ক্ষতগুলো নিরাময় করতে হয়েছে, এরপর শুরু হয়েছে সংস্কারের কাজ।

দেশের আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাত, শেয়ারবাজার ও রাজস্ব প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অনিয়ম শুধু প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে দূর করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন গভীর আইনি সংস্কার, কারণ ত্রুটিপূর্ণ আইন বজায় রেখে ভালো সুফল আশা করা যায় না। খেলাপি ঋণ ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার জটিলতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফলে এখন এই প্রক্রিয়া কিছুটা সহজ হলেও তা বেশ সময়সাপেক্ষ। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই জবাবদিহির অভাব রয়েছে মন্তব্য করে তিনি দুই বছরের প্রকল্প বছরের পর বছর টেনে হিঁচড়ে দীর্ঘায়িত করার অপচয়মূলক সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন। দেশের জ্বালানি খাতে নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘদিনের উদাসীনতা এবং রপ্তানি খাতের সক্ষমতার অভাব নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন মেরুকরণ, মার্কিন বাণিজ্যনীতি এবং চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মতো চ্যালেঞ্জগুলোর ওপর আলোকপাত করে সাবেক এই উপদেষ্টা ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের দূরদর্শী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক উত্থানের উদাহরণ টেনে বলেন, সঠিক নীতি, দক্ষতা ও সুশাসন নিশ্চিত করলে বাংলাদেশও বিশ্বমঞ্চে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের নৈতিক নেতৃত্বের ওপর জোর দেন। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সততা ও স্পষ্ট লক্ষ্য থাকলে যেকোনো বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। নতুন বাংলাদেশের বিনির্মাণে তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক গুণসম্পন্ন ব্যবস্থাপক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ইফতেখারুল আমিন। এবারের সমাবর্তনে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ ও ডিবিএ প্রোগ্রামের মোট ৩৬৫ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দেওয়া হয়, যার মধ্যে ২৬ জন শিক্ষার্থী ‘ডিরেক্টরস অনার লিস্টে’ স্থান পান এবং দুজনকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।

বিষয় : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সালাউদ্দিন ৫৮ তম সমাবর্তন আই বিএ

রাজনৈতিক ম্যান্ডেট না থাকায় অনেক কাজ করা যায়নি: সালেহউদ্দিন
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


রাজনৈতিক ম্যান্ডেট না থাকায় অনেক কাজ করা যায়নি: সালেহউদ্দিন

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের ঘাটতি ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও বড় কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা অধ্যাপক সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এমন এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত ছিল যে, নতুন কোনো বড় সংস্কারের চেয়ে ভেঙে পড়া ব্যবস্থাটিকে টেনে তোলাই ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন, তাদের বাস্তবতার দিকে তাকানোর আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, রাতারাতি বা এক দিনে অলৌকিক কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে কোনো কাজই হয়নি; বরং দৃশ্যমান বড় পরিবর্তনের চেয়ে ভিত্তিগত ও অভ্যন্তরীণ সংস্কারেই বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছে। নিজের কাজের অভিজ্ঞতাকে ‘রিপেয়ার’ (মেরামত) ও ‘রিফর্ম’ (সংস্কার)—এই দুই ভাগে ভাগ করে তিনি বলেন, প্রথম ধাপে রাষ্ট্রযন্ত্রের ক্ষতগুলো নিরাময় করতে হয়েছে, এরপর শুরু হয়েছে সংস্কারের কাজ।

দেশের আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাত, শেয়ারবাজার ও রাজস্ব প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অনিয়ম শুধু প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে দূর করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন গভীর আইনি সংস্কার, কারণ ত্রুটিপূর্ণ আইন বজায় রেখে ভালো সুফল আশা করা যায় না। খেলাপি ঋণ ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার জটিলতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফলে এখন এই প্রক্রিয়া কিছুটা সহজ হলেও তা বেশ সময়সাপেক্ষ। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই জবাবদিহির অভাব রয়েছে মন্তব্য করে তিনি দুই বছরের প্রকল্প বছরের পর বছর টেনে হিঁচড়ে দীর্ঘায়িত করার অপচয়মূলক সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন। দেশের জ্বালানি খাতে নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘদিনের উদাসীনতা এবং রপ্তানি খাতের সক্ষমতার অভাব নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন মেরুকরণ, মার্কিন বাণিজ্যনীতি এবং চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মতো চ্যালেঞ্জগুলোর ওপর আলোকপাত করে সাবেক এই উপদেষ্টা ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের দূরদর্শী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক উত্থানের উদাহরণ টেনে বলেন, সঠিক নীতি, দক্ষতা ও সুশাসন নিশ্চিত করলে বাংলাদেশও বিশ্বমঞ্চে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের নৈতিক নেতৃত্বের ওপর জোর দেন। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সততা ও স্পষ্ট লক্ষ্য থাকলে যেকোনো বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। নতুন বাংলাদেশের বিনির্মাণে তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক গুণসম্পন্ন ব্যবস্থাপক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ইফতেখারুল আমিন। এবারের সমাবর্তনে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ ও ডিবিএ প্রোগ্রামের মোট ৩৬৫ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দেওয়া হয়, যার মধ্যে ২৬ জন শিক্ষার্থী ‘ডিরেক্টরস অনার লিস্টে’ স্থান পান এবং দুজনকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত