রাজনীতি
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে না পারে, তবে কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই দীর্ঘ মেয়াদে টিকে থাকতে পারে না। গণতন্ত্রের ভিত্তি কেবল নির্বাচন বা সংখ্যার জোরে জয়ী হওয়ার ওপর নির্ভর করে না; বরং একটি কার্যকর ও স্বাধীন প্রশাসনিক কাঠামোই এর মূল চালিকাশক্তি। বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডের একটি হোটেলে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এভাবেই আগামীর রাজনীতির গতিপথ ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।
সিটিজেনস ফোরাম, বাংলাদেশ (সিএফবি) আয়োজিত ‘ন্যাশনাল পার্লামেন্ট: আ নিউ মাইলস্টোন ইন ডেমোক্রেটিক পলিটিকস’ শীর্ষক এই বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মঈন খান বলেন, সংসদ, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়লে গণতন্ত্র ধীরে ধীরে প্রাণহীন ও অকার্যকর হয়ে যায়। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান। তিনি বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে একটি ‘নতুন মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার বঞ্চিত থাকার পর জনগণ আবারও নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তবে নতুন সংসদের সামনে সংবিধান সংস্কার এবং পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল সংখ্যক অধ্যাদেশের সাংবিধানিক বৈধতা নিশ্চিত করার মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
আলোচনায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ সতর্ক করে বলেন, কেবল আইন বা অধ্যাদেশ দিয়ে গণতন্ত্র ফেরানো সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক বৈষম্য ও প্রান্তিকীকরণ দূর করতে না পারলে আবারও কর্তৃত্ববাদী শক্তির উত্থানের ঝুঁকি থেকে যাবে। অন্যদিকে, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সংসদ সদস্যদের স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার প্রবণতাকে সংবিধান পরিপন্থী উল্লেখ করে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার তাগিদ দেন।
বৈঠকে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম সমালোচনা ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সংস্কার বাস্তবায়নের ধীরগতি নিয়ে সমালোচনা করেন। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদরা সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নারীর প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী শিক্ষা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়তে একটি নতুন শিক্ষা কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়ে আলোচনা শেষ করেন।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে না পারে, তবে কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই দীর্ঘ মেয়াদে টিকে থাকতে পারে না। গণতন্ত্রের ভিত্তি কেবল নির্বাচন বা সংখ্যার জোরে জয়ী হওয়ার ওপর নির্ভর করে না; বরং একটি কার্যকর ও স্বাধীন প্রশাসনিক কাঠামোই এর মূল চালিকাশক্তি। বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডের একটি হোটেলে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এভাবেই আগামীর রাজনীতির গতিপথ ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।
সিটিজেনস ফোরাম, বাংলাদেশ (সিএফবি) আয়োজিত ‘ন্যাশনাল পার্লামেন্ট: আ নিউ মাইলস্টোন ইন ডেমোক্রেটিক পলিটিকস’ শীর্ষক এই বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মঈন খান বলেন, সংসদ, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়লে গণতন্ত্র ধীরে ধীরে প্রাণহীন ও অকার্যকর হয়ে যায়। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান। তিনি বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে একটি ‘নতুন মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার বঞ্চিত থাকার পর জনগণ আবারও নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তবে নতুন সংসদের সামনে সংবিধান সংস্কার এবং পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল সংখ্যক অধ্যাদেশের সাংবিধানিক বৈধতা নিশ্চিত করার মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
আলোচনায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ সতর্ক করে বলেন, কেবল আইন বা অধ্যাদেশ দিয়ে গণতন্ত্র ফেরানো সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক বৈষম্য ও প্রান্তিকীকরণ দূর করতে না পারলে আবারও কর্তৃত্ববাদী শক্তির উত্থানের ঝুঁকি থেকে যাবে। অন্যদিকে, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সংসদ সদস্যদের স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার প্রবণতাকে সংবিধান পরিপন্থী উল্লেখ করে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার তাগিদ দেন।
বৈঠকে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম সমালোচনা ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সংস্কার বাস্তবায়নের ধীরগতি নিয়ে সমালোচনা করেন। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদরা সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নারীর প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী শিক্ষা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়তে একটি নতুন শিক্ষা কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়ে আলোচনা শেষ করেন।
2.png)