রাজনীতি
রাজধানী থেকে মফস্বল—সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের খবর কানে আসা মাত্রই একদল ‘সুবিধাবাদী বিনিয়োগকারী’র তৎপরতা শুরু হয়। মূল লক্ষ্য জমি অধিগ্রহণের সময় সরকারি কোষাগার থেকে কয়েক গুণ বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। এই অসাধু চক্রের চিরাচরিত অপকৌশল রুখতে এবার এক অভিনব ও কার্যকর পথ দেখালেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
ঘটনাটি চান্দিনা-দেবিদ্বার সড়ক প্রকল্পের। এই সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে ফন্দি আঁটছিল একটি জালিয়াতি চক্র। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বাজারদরের চেয়ে ৩ গুণ বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এই সুযোগ নিতেই অনেকে প্রকল্পের কথা শুনে রাতারাতি খালি জায়গায় টিনের ঘর তোলা, সীমানা প্রাচীর বা আধপাকা স্থাপনা তৈরির মহোৎসবে মেতে ওঠে—যাতে অধিগ্রহণের সময় সরকারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করা যায়। মূলত ইনভেস্টমেন্টের চেয়ে কয়েক গুণ মুনাফা নিশ্চিত করতেই এই কৃত্রিম অবকাঠামো তৈরির কারসাজি।
তবে হাসনাত আবদুল্লাহ এই অসাধু চক্রের সব পরিকল্পনা নসাৎ করে দিয়েছেন এক প্রযুক্তিনির্ভর কৌশলে। প্রকল্পের ঘোষণা জনসমক্ষে আসার আগেই তিনি পুরো এলাকার আকাশপথ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করে বর্তমান অবকাঠামোর একটি পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড বা ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করে রেখেছেন। অর্থাৎ, নথিতে এবং ড্রোন ফুটেজে যা আছে, তার বাইরে নতুন কোনো স্থাপনার জন্য এক পয়সাও বাড়তি অর্থ বরাদ্দের সুযোগ আর থাকছে না।
সম্প্রতি এক জনসভায় হাসনাত আবদুল্লাহ এই ড্রোন ফুটেজ প্রজেক্টরের মাধ্যমে সবার সামনে প্রদর্শন করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ড্রোনের হিসেবে যা আছে, তার বাইরে কেউ যদি এখন রাতারাতি নতুন প্রজেক্ট বা অবকাঠামো দাঁড় করিয়ে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চিন্তা করেন, তবে তা কেবল পণ্ডশ্রমেই পরিণত হবে। এই ভিডিও রেকর্ডই হবে জালিয়াতি রোখার চূড়ান্ত প্রমাণ।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে জনগণের করের টাকা এভাবে গুটিকয়েক বাটপারের পকেটে যাওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, হাসনাতের এই উদ্যোগ তাকে গোড়া থেকেই উপড়ে ফেলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কেবল ৩০০ আসনেই নয়, সর্বত্র এমন স্বচ্ছ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের উপস্থিতি থাকলে রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা পাওয়া যেমন সহজ হতো, তেমনি বন্ধ হতো দুর্নীতির এই প্রকাশ্য মহোৎসব।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
রাজধানী থেকে মফস্বল—সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের খবর কানে আসা মাত্রই একদল ‘সুবিধাবাদী বিনিয়োগকারী’র তৎপরতা শুরু হয়। মূল লক্ষ্য জমি অধিগ্রহণের সময় সরকারি কোষাগার থেকে কয়েক গুণ বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। এই অসাধু চক্রের চিরাচরিত অপকৌশল রুখতে এবার এক অভিনব ও কার্যকর পথ দেখালেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
ঘটনাটি চান্দিনা-দেবিদ্বার সড়ক প্রকল্পের। এই সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে ফন্দি আঁটছিল একটি জালিয়াতি চক্র। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বাজারদরের চেয়ে ৩ গুণ বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এই সুযোগ নিতেই অনেকে প্রকল্পের কথা শুনে রাতারাতি খালি জায়গায় টিনের ঘর তোলা, সীমানা প্রাচীর বা আধপাকা স্থাপনা তৈরির মহোৎসবে মেতে ওঠে—যাতে অধিগ্রহণের সময় সরকারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করা যায়। মূলত ইনভেস্টমেন্টের চেয়ে কয়েক গুণ মুনাফা নিশ্চিত করতেই এই কৃত্রিম অবকাঠামো তৈরির কারসাজি।
তবে হাসনাত আবদুল্লাহ এই অসাধু চক্রের সব পরিকল্পনা নসাৎ করে দিয়েছেন এক প্রযুক্তিনির্ভর কৌশলে। প্রকল্পের ঘোষণা জনসমক্ষে আসার আগেই তিনি পুরো এলাকার আকাশপথ থেকে ড্রোনের মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করে বর্তমান অবকাঠামোর একটি পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড বা ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করে রেখেছেন। অর্থাৎ, নথিতে এবং ড্রোন ফুটেজে যা আছে, তার বাইরে নতুন কোনো স্থাপনার জন্য এক পয়সাও বাড়তি অর্থ বরাদ্দের সুযোগ আর থাকছে না।
সম্প্রতি এক জনসভায় হাসনাত আবদুল্লাহ এই ড্রোন ফুটেজ প্রজেক্টরের মাধ্যমে সবার সামনে প্রদর্শন করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ড্রোনের হিসেবে যা আছে, তার বাইরে কেউ যদি এখন রাতারাতি নতুন প্রজেক্ট বা অবকাঠামো দাঁড় করিয়ে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চিন্তা করেন, তবে তা কেবল পণ্ডশ্রমেই পরিণত হবে। এই ভিডিও রেকর্ডই হবে জালিয়াতি রোখার চূড়ান্ত প্রমাণ।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে জনগণের করের টাকা এভাবে গুটিকয়েক বাটপারের পকেটে যাওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, হাসনাতের এই উদ্যোগ তাকে গোড়া থেকেই উপড়ে ফেলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কেবল ৩০০ আসনেই নয়, সর্বত্র এমন স্বচ্ছ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের উপস্থিতি থাকলে রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা পাওয়া যেমন সহজ হতো, তেমনি বন্ধ হতো দুর্নীতির এই প্রকাশ্য মহোৎসব।
2.png)