সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 অর্থনীতিঅর্থনীতি

পেনশন তহবিলে এডিবির বড় বিনিয়োগ: ২০৩০ সালের লক্ষ্য ৪ কোটি পরিবার

দেশের সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে শক্তিশালী করতে ১০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে এডিবি; শরীয়াহভিত্তিক স্কিম ও আজীবন সুবিধার পরিকল্পনা।

পেনশন তহবিলে এডিবির বড় বিনিয়োগ: ২০৩০ সালের লক্ষ্য ৪ কোটি পরিবার
ছবি -সংগৃহীত

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বার্ধক্যকালীন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক বিশাল কর্মযজ্ঞে নেমেছে সরকার। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও মজবুত ও জনবান্ধব করতে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এই বিশাল অর্থায়নের বিষয়টি এখন যাচাই-বাছাইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য আরও সুদূরপ্রসারী—আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের অন্তত ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটির একজন করে সদস্যকে এই পেনশন বলয়ের আওতায় নিয়ে আসা।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় দেশের এই উচ্চাভিলাষী আর্থিক পরিকল্পনার রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

শরীয়াহভিত্তিক স্কিম ও নতুন সুবিধার হাতছানি

সভায় অর্থমন্ত্রী সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের দিকে লক্ষ্য রেখে নতুন কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, গ্রাহকদের বড় একটি অংশের চাহিদার কথা মাথায় রেখে খুব শীঘ্রই ‘শরীয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম’ চালু করা হতে পারে। এছাড়া পেনশনের টাকা জমাদানকারীর মৃত্যু হলে তার নমিনির জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা রাখা যায় কি না, তাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় বেসরকারি খাতের আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন।

জমা পড়েছে ২৫৫ কোটি টাকা: দৃশ্যমান অগ্রগতি

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান সভার আলোচনায় জানান, গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চারটি ভিন্ন ধারার স্কিমে নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৭ হাজার ছাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের জমানো চাঁদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লক্ষ টাকায়। কেবল টাকা জমা নেয়াই নয়, বরং তহবিলের স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত মুনাফাসহ বিনিয়োগের পরিমাণ এখন প্রায় ২৭৯ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা।

কেন জরুরি এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা?

সভায় দেশের বর্তমান জনমিতিক পরিবর্তনের একটি উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে ওঠে। দেখা গেছে, বাংলাদেশের শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন, যাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অবসরকালীন সুবিধা নেই। ২০২৩ সালে দেশে বয়স্ক নির্ভরশীলতার হার যেখানে ছিল ৯.৪ শতাংশ, ২০৫০ সাল নাগাদ তা ২৪ শতাংশে এবং ২০৭৫ সালে ৪৮ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে কর্মক্ষম মানুষের তুলনায় বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যাবে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর বার্ধক্যকালীন নিরাপত্তা দিতে সর্বজনীন পেনশনের কোনো বিকল্প নেই।

সহজলভ্য সেবা ও সাইবার নিরাপত্তা

বর্তমানে ৪৫টি ব্যাংক, বিকাশ-নগদ এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়েও চাঁদাদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে শুধু প্রচারণাই নয়, জনগণের আস্থা ধরে রাখতে সাইবার নিরাপত্তা এবং পেশাদার জনবল নিয়োগের ওপর কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেই বলেন, “বেসরকারি খাতের কর্মীদের শেষ বয়সের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।”

ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে প্রবীণ বয়সে সম্মানজনক জীবন যাপনের পথ প্রশস্ত করতেই এই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।


SEO Friendly Meta Tags:

  • Keywords: সর্বজনীন পেনশন স্কিম, এডিবি ঋণ সহায়তা, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শরীয়াহভিত্তিক পেনশন, বাংলাদেশের পেনশন ব্যবস্থা ২০৩০, পেনশন নিবন্ধন পদ্ধতি।

  • Description: সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ১০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে এডিবি। ২০৩০ সালের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

বিষয় : সর্বজনীন পেনশন স্কিম এডিবি ঋণ সহায়তা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পেনশন নিবন্ধন পদ্ধতি

পেনশন তহবিলে এডিবির বড় বিনিয়োগ: ২০৩০ সালের লক্ষ্য ৪ কোটি পরিবার
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


পেনশন তহবিলে এডিবির বড় বিনিয়োগ: ২০৩০ সালের লক্ষ্য ৪ কোটি পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বার্ধক্যকালীন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক বিশাল কর্মযজ্ঞে নেমেছে সরকার। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও মজবুত ও জনবান্ধব করতে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এই বিশাল অর্থায়নের বিষয়টি এখন যাচাই-বাছাইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য আরও সুদূরপ্রসারী—আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের অন্তত ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটির একজন করে সদস্যকে এই পেনশন বলয়ের আওতায় নিয়ে আসা।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় দেশের এই উচ্চাভিলাষী আর্থিক পরিকল্পনার রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

শরীয়াহভিত্তিক স্কিম ও নতুন সুবিধার হাতছানি

সভায় অর্থমন্ত্রী সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের দিকে লক্ষ্য রেখে নতুন কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, গ্রাহকদের বড় একটি অংশের চাহিদার কথা মাথায় রেখে খুব শীঘ্রই ‘শরীয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম’ চালু করা হতে পারে। এছাড়া পেনশনের টাকা জমাদানকারীর মৃত্যু হলে তার নমিনির জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা রাখা যায় কি না, তাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় বেসরকারি খাতের আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন।

জমা পড়েছে ২৫৫ কোটি টাকা: দৃশ্যমান অগ্রগতি

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান সভার আলোচনায় জানান, গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চারটি ভিন্ন ধারার স্কিমে নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৭ হাজার ছাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের জমানো চাঁদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লক্ষ টাকায়। কেবল টাকা জমা নেয়াই নয়, বরং তহবিলের স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত মুনাফাসহ বিনিয়োগের পরিমাণ এখন প্রায় ২৭৯ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা।

কেন জরুরি এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা?

সভায় দেশের বর্তমান জনমিতিক পরিবর্তনের একটি উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে ওঠে। দেখা গেছে, বাংলাদেশের শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন, যাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অবসরকালীন সুবিধা নেই। ২০২৩ সালে দেশে বয়স্ক নির্ভরশীলতার হার যেখানে ছিল ৯.৪ শতাংশ, ২০৫০ সাল নাগাদ তা ২৪ শতাংশে এবং ২০৭৫ সালে ৪৮ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে কর্মক্ষম মানুষের তুলনায় বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যাবে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর বার্ধক্যকালীন নিরাপত্তা দিতে সর্বজনীন পেনশনের কোনো বিকল্প নেই।

সহজলভ্য সেবা ও সাইবার নিরাপত্তা

বর্তমানে ৪৫টি ব্যাংক, বিকাশ-নগদ এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়েও চাঁদাদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে শুধু প্রচারণাই নয়, জনগণের আস্থা ধরে রাখতে সাইবার নিরাপত্তা এবং পেশাদার জনবল নিয়োগের ওপর কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেই বলেন, “বেসরকারি খাতের কর্মীদের শেষ বয়সের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।”

ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে প্রবীণ বয়সে সম্মানজনক জীবন যাপনের পথ প্রশস্ত করতেই এই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।


SEO Friendly Meta Tags:

  • Keywords: সর্বজনীন পেনশন স্কিম, এডিবি ঋণ সহায়তা, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শরীয়াহভিত্তিক পেনশন, বাংলাদেশের পেনশন ব্যবস্থা ২০৩০, পেনশন নিবন্ধন পদ্ধতি।

  • Description: সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ১০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে এডিবি। ২০৩০ সালের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত