সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 লোকাল ফোকাসলোকাল ফোকাস

সাতক্ষীরায় চার এমপি গেলেন ডিসিকে শুভেচ্ছা জানাতে, প্রোটোকল নিয়ে প্রশ্ন

পদমর্যাদায় জেলা প্রশাসকের চেয়ে অনেক ওপরে থাকা সংসদ সদস্যরা ফুল নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। নবনির্বাচিত এমপিদের অনেকেই 'ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স' সম্পর্কে অবহিত নন বলে জানা গেছে।

সাতক্ষীরায় চার এমপি গেলেন ডিসিকে শুভেচ্ছা জানাতে, প্রোটোকল নিয়ে প্রশ্ন
ছবি -সংগৃহীত

সাতক্ষীরা জেলার চার সংসদ সদস্য সম্প্রতি জেলা প্রশাসককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল ও পদমর্যাদা ক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে, কারণ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারি পদমর্যাদা ক্রম অনুসারে সংসদ সদস্যরা জেলা প্রশাসকের তুলনায় অনেক উচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী।

পদমর্যাদায় বিশাল ব্যবধান 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত 'ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স' বা পদমর্যাদা ক্রম অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যরা রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলে ১৩তম স্থানে অবস্থান করেন। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা নিজ নিজ এলাকায় ২৪তম পদমর্যাদায় থাকেন। অর্থাৎ উভয়ের মধ্যে এগারো ধাপের পার্থক্য বিদ্যমান।

রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুসারে, নিম্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা জানান, উল্টোটা নয়। এই নিয়ম অনুসরণ করা হয় রাষ্ট্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠান, বিদেশি অতিথিদের অভ্যর্থনা, এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে।

নবনির্বাচিত এমপিদের প্রোটোকল জ্ঞানের ঘাটতি

সংসদ বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট ৩০০ আসনের মধ্যে প্রায় ২২০ জন সংসদ সদস্য প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। এই নবাগত এমপিদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা ক্রম ও প্রোটোকল সম্পর্কে যথাযথ ধারণা রাখেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "নতুন জনপ্রতিনিধিদের রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। এমন ভুল ভবিষ্যতে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।"

পদমর্যাদা ক্রমের সাংবিধানিক ভিত্তি

বাংলাদেশের পদমর্যাদা ক্রম রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের শ্রেণিবিন্যাসের জন্য ব্যবহৃত একটি সরকারি প্রোটোকল তালিকা। এই ক্রমের শীর্ষে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি, তারপর প্রধানমন্ত্রী, এবং তৃতীয় অবস্থানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতি।

মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপ, সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা পঞ্চম স্থানে রয়েছেন, যেখানে সাধারণ সংসদ সদস্যরা ১৩তম স্থানে অবস্থান করেন।

২০১৬ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এই পদমর্যাদা ক্রম নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রদান করে, যা এ সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান ঘটায়। সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের ব্যাখ্যাই এক্ষেত্রে চূড়ান্ত বলে গণ্য।

জেলা প্রশাসকের অবস্থান

পদমর্যাদা ক্রমে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা নিজ নিজ দায়িত্বের এলাকায় ২৪তম স্থানে রয়েছেন। তাদের ওপরে রয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার (২১তম), বিভিন্ন সরকারি সচিব (১৬তম ও ১৯তম), এবং সেনা-নৌ-বিমানবাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা।

এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের মেয়ররা নিজ এলাকায় ১৮তম স্থানে থাকলেও এলাকার বাইরে ২৩তম স্থানে নেমে আসেন, যা এখনো জেলা প্রশাসকের চেয়ে ঊর্ধ্বে।

প্রোটোকল শিক্ষার আহ্বান

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সংসদ সদস্যদের জন্য একটি সুসংগঠিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা উচিত, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল, সংসদীয় নিয়মকানুন, এবং পদমর্যাদা ক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

একজন প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তা জানান, "জনপ্রতিনিধিদের এই বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। প্রোটোকল শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও শৃঙ্খলার প্রতীক।"

সাতক্ষীরার চার সংসদ সদস্যের এই পদক্ষেপ নিয়ে সরকারি পর্যায়ে এখনো কোনো বিবৃতি আসেনি। তবে ঘটনাটি নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রোটোকল সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

বিষয় : ওয়ারেন্ট অফ প্রিসিডেন্স সাতক্ষীরার এমপি সাতক্ষীরার ডিসি প্রোটোকল

সাতক্ষীরায় চার এমপি গেলেন ডিসিকে শুভেচ্ছা জানাতে, প্রোটোকল নিয়ে প্রশ্ন
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


সাতক্ষীরায় চার এমপি গেলেন ডিসিকে শুভেচ্ছা জানাতে, প্রোটোকল নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরা জেলার চার সংসদ সদস্য সম্প্রতি জেলা প্রশাসককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল ও পদমর্যাদা ক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে, কারণ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারি পদমর্যাদা ক্রম অনুসারে সংসদ সদস্যরা জেলা প্রশাসকের তুলনায় অনেক উচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী।

পদমর্যাদায় বিশাল ব্যবধান 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত 'ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স' বা পদমর্যাদা ক্রম অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যরা রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলে ১৩তম স্থানে অবস্থান করেন। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা নিজ নিজ এলাকায় ২৪তম পদমর্যাদায় থাকেন। অর্থাৎ উভয়ের মধ্যে এগারো ধাপের পার্থক্য বিদ্যমান।

রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুসারে, নিম্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা জানান, উল্টোটা নয়। এই নিয়ম অনুসরণ করা হয় রাষ্ট্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠান, বিদেশি অতিথিদের অভ্যর্থনা, এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে।

নবনির্বাচিত এমপিদের প্রোটোকল জ্ঞানের ঘাটতি

সংসদ বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট ৩০০ আসনের মধ্যে প্রায় ২২০ জন সংসদ সদস্য প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। এই নবাগত এমপিদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা ক্রম ও প্রোটোকল সম্পর্কে যথাযথ ধারণা রাখেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "নতুন জনপ্রতিনিধিদের রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। এমন ভুল ভবিষ্যতে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।"

পদমর্যাদা ক্রমের সাংবিধানিক ভিত্তি

বাংলাদেশের পদমর্যাদা ক্রম রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের শ্রেণিবিন্যাসের জন্য ব্যবহৃত একটি সরকারি প্রোটোকল তালিকা। এই ক্রমের শীর্ষে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি, তারপর প্রধানমন্ত্রী, এবং তৃতীয় অবস্থানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতি।

মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপ, সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা পঞ্চম স্থানে রয়েছেন, যেখানে সাধারণ সংসদ সদস্যরা ১৩তম স্থানে অবস্থান করেন।

২০১৬ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এই পদমর্যাদা ক্রম নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রদান করে, যা এ সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান ঘটায়। সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের ব্যাখ্যাই এক্ষেত্রে চূড়ান্ত বলে গণ্য।

জেলা প্রশাসকের অবস্থান

পদমর্যাদা ক্রমে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা নিজ নিজ দায়িত্বের এলাকায় ২৪তম স্থানে রয়েছেন। তাদের ওপরে রয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার (২১তম), বিভিন্ন সরকারি সচিব (১৬তম ও ১৯তম), এবং সেনা-নৌ-বিমানবাহিনীর বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা।

এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের মেয়ররা নিজ এলাকায় ১৮তম স্থানে থাকলেও এলাকার বাইরে ২৩তম স্থানে নেমে আসেন, যা এখনো জেলা প্রশাসকের চেয়ে ঊর্ধ্বে।

প্রোটোকল শিক্ষার আহ্বান

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সংসদ সদস্যদের জন্য একটি সুসংগঠিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা উচিত, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল, সংসদীয় নিয়মকানুন, এবং পদমর্যাদা ক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

একজন প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তা জানান, "জনপ্রতিনিধিদের এই বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। প্রোটোকল শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও শৃঙ্খলার প্রতীক।"

সাতক্ষীরার চার সংসদ সদস্যের এই পদক্ষেপ নিয়ে সরকারি পর্যায়ে এখনো কোনো বিবৃতি আসেনি। তবে ঘটনাটি নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রোটোকল সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।




কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত