সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

  বানিজ্য বানিজ্য

ইসলামী ব্যাংকে ঋণ-দুর্যোগ: অর্ধেক বিনিয়োগই এখন অনাদায়ী

দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের আকার বেলুনের মতো ফুলে দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার কোটি টাকা। এস আলম গ্রুপের গোপন ঋণ-কেলেঙ্কারি ও মূলধন সংকট নিয়ে আজ ব্যাংকটি ঝুলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দয়ার বড়শিতে।

ইসলামী ব্যাংকে ঋণ-দুর্যোগ: অর্ধেক বিনিয়োগই এখন অনাদায়ী
ছবি -সংগৃহীত

দেশের প্রধান ইসলামী ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এখন এক ভয়ংকর আর্থিক ঘূর্ণাবর্তের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকটির সদ্য প্রকাশিত নিরীক্ষিত হিসাবে উঠে এসেছে বিপর্যয়ের চাঞ্চল্যকর এক চিত্র—২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর অর্ধেকেরও বেশি, প্রায় ৫১ শতাংশ এখন খেলাপি বা অনাদায়ী।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে কোনো একক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এটি নজিরবিহীন। অর্থাৎ ব্যাংকটি যত টাকা ঋণ হিসেবে বিলি করেছে, তার অর্ধেকই আর ফেরত পাচ্ছে না।

অনাদায়ী ঋণ হু হু করে বাড়ছে

নতুন হিসাব বলছে, ইসলামী ব্যাংকের অনাদায়ী ঋণের পাহাড় গত বছর শেষে দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকায়। মাত্র এক বছরে এই খেলাপির পরিমাণ ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৪২.৩৬ শতাংশ। এই একটি ব্যাংকের খেলাপিই এখন দেশের মোট খেলাপি ঋণের (৫.৫৭ লাখ কোটি টাকা) ১৭ শতাংশ, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক ইঙ্গিত। তুলনায়, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেলাপি-ভারাক্রান্ত জনতা ব্যাংকের অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ৭২ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা।

গোপনীয়তার আড়ালে এস আলমের ঋণ-লুটপাট

ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানান, এই বিপুল খেলাপির মূলে রয়েছে এস আলম গ্রুপের সাথে জড়িত বিশাল 'গোপন ঋণ'। পূর্ববর্তী পরিচালনা পর্ষদ ইচ্ছাকৃতভাবে এই তথ্য চেপে রেখেছিল। বর্তমান ম্যানেজমেন্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর যখন আসল হিসাব সামনে আনা হলো, তখনই প্রকাশ পেল এই আকাশছোঁয়া দুর্নীতির চেহারা।

নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান মাহফেল হক অ্যান্ড কোম্পানি তৈরি ২০২৫ সালের অডিট প্রতিবেদনে ব্যাংকটির ওপর 'কোয়ালিফাইড মতামত' প্রদান করা হয়েছে—যার অর্থ, হিসাবে গুরুতর ত্রুটি পাওয়া গেছে।

সঞ্চিতিতে ভয়াবহ ঘাটতি, মূলধন খাদের কিনারায়

নিরীক্ষকদের হিসাব অনুযায়ী, ব্যাংকটির মন্দ বিনিয়োগ ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে ৯২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার প্রভিশন বা সঞ্চিতি জমা রাখা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাস্তবে রাখা হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৯২২ কোটি টাকা। এর মানে, ৮৪ হাজার ৬১৫ কোটি টাকার সঞ্চিতি ঘাটতি রয়েছে—যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে নজিরবিহীন।

এই বিশাল ঘাটতি আর্থিক বিবরণীতে সমন্বয় না করায় ব্যাংকের সম্পদ, মুনাফা এবং ইকুইটি প্রকৃত অবস্থার চেয়ে অনেক বেশি দেখানো হয়েছে, আর দায় কম দেখানো হয়েছে।

নিয়মানুযায়ী ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ১৯ হাজার ২০০ কোটি টাকা মূলধন থাকার কথা হলেও প্রকৃত মূলধন মাত্র ৯ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। এভাবে দৃশ্যমান মূলধন ঘাটতি ৯ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। তবে নিরীক্ষকরা বলছেন, পুরো প্রভিশন ঘাটতি হিসাবে নিলে আসল মূলধন ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ৯৩ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা।

'গোয়িং কনসার্ন' নিয়ে সংশয়, টিকে আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ছাড়

অডিট প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কেবলমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নীতিগত ছাড় ও সহায়তার কারণেই ব্যাংকটি এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছে। এই সমর্থন প্রত্যাহার করা হলে ব্যাংকের 'গোয়িং কনসার্ন' বা ভবিষ্যতে টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে। সহজ কথায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে।

ব্যাংকটির মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত (সিআরএআর) এখন মাত্র ৬.৪২ শতাংশ, অথচ নির্ধারিত মান ১২.৫০ শতাংশ। নিরীক্ষকরা সতর্ক করেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত ছাড় না থাকলে ২০২৫ সালে একাই ব্যাংকটির লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াত ৮৪ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা।

এস আলম গ্রুপের কাছে বিপুল পাওনা

রিপোর্ট বলছে, এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের বিশাল অঙ্কের পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে এস আলম স্টিলস ও রিফাইনড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ঋণ ১০ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা, এস আলম ভেজিটেবল অয়েলের ঋণ ১৪ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা এবং এস আলম সুপার এডিবল অয়েলের ঋণ ১২ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে ব্যাংকে রাখা এস আলম গ্রুপের প্রায় ৮৩ শতাংশ শেয়ার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

পুঁজিবাজারে 'জাঙ্ক' তকমা, শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে আটকে

আর্থিক পারফরম্যান্সের এই নিম্নমুখী ধারা এবং পরপর দুই বছর লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইসলামী ব্যাংককে শেয়ারবাজারে 'জেড' ক্যাটাগরিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে, যা মূলত 'জাঙ্ক স্টক' বা অপ্রত্যাশিত শেয়ার বোঝায়। ব্যাংকটি ১৩৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা দেখালেও তা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত ছাড়ের জোরে। শেয়ারবাজারে ব্যাংকটির শেয়ারমূল্য এখন ফ্লোর প্রাইস ৩২.৬০ টাকায় আটকে আছে।

চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ইসলামী ব্যাংককে ৮৪ হাজার ৬১৫ কোটি টাকার প্রভিশন সমন্বয় ছাড়াই আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে। মূলত বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে এবং পর্যাপ্ত মুনাফা না থাকায় এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে এর পরিবর্তে আগামী এক মাসের মধ্যে ঘাটতি পূরণের বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা বোর্ড অনুমোদন নিয়ে জমা দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালে ব্যাংকটির নিট বিনিয়োগ আয়ও আগের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

বিষয় : ঋণ খেলাপি ইসলামি ব্যাংক অনাদায়ী ঋণ

ইসলামী ব্যাংকে ঋণ-দুর্যোগ: অর্ধেক বিনিয়োগই এখন অনাদায়ী
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


ইসলামী ব্যাংকে ঋণ-দুর্যোগ: অর্ধেক বিনিয়োগই এখন অনাদায়ী

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

দেশের প্রধান ইসলামী ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এখন এক ভয়ংকর আর্থিক ঘূর্ণাবর্তের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকটির সদ্য প্রকাশিত নিরীক্ষিত হিসাবে উঠে এসেছে বিপর্যয়ের চাঞ্চল্যকর এক চিত্র—২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর অর্ধেকেরও বেশি, প্রায় ৫১ শতাংশ এখন খেলাপি বা অনাদায়ী।


বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে কোনো একক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এটি নজিরবিহীন। অর্থাৎ ব্যাংকটি যত টাকা ঋণ হিসেবে বিলি করেছে, তার অর্ধেকই আর ফেরত পাচ্ছে না।

অনাদায়ী ঋণ হু হু করে বাড়ছে

নতুন হিসাব বলছে, ইসলামী ব্যাংকের অনাদায়ী ঋণের পাহাড় গত বছর শেষে দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকায়। মাত্র এক বছরে এই খেলাপির পরিমাণ ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৪২.৩৬ শতাংশ। এই একটি ব্যাংকের খেলাপিই এখন দেশের মোট খেলাপি ঋণের (৫.৫৭ লাখ কোটি টাকা) ১৭ শতাংশ, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক ইঙ্গিত। তুলনায়, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেলাপি-ভারাক্রান্ত জনতা ব্যাংকের অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ৭২ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা।

গোপনীয়তার আড়ালে এস আলমের ঋণ-লুটপাট

ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানান, এই বিপুল খেলাপির মূলে রয়েছে এস আলম গ্রুপের সাথে জড়িত বিশাল 'গোপন ঋণ'। পূর্ববর্তী পরিচালনা পর্ষদ ইচ্ছাকৃতভাবে এই তথ্য চেপে রেখেছিল। বর্তমান ম্যানেজমেন্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর যখন আসল হিসাব সামনে আনা হলো, তখনই প্রকাশ পেল এই আকাশছোঁয়া দুর্নীতির চেহারা।

নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান মাহফেল হক অ্যান্ড কোম্পানি তৈরি ২০২৫ সালের অডিট প্রতিবেদনে ব্যাংকটির ওপর 'কোয়ালিফাইড মতামত' প্রদান করা হয়েছে—যার অর্থ, হিসাবে গুরুতর ত্রুটি পাওয়া গেছে।

সঞ্চিতিতে ভয়াবহ ঘাটতি, মূলধন খাদের কিনারায়

নিরীক্ষকদের হিসাব অনুযায়ী, ব্যাংকটির মন্দ বিনিয়োগ ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে ৯২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার প্রভিশন বা সঞ্চিতি জমা রাখা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাস্তবে রাখা হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৯২২ কোটি টাকা। এর মানে, ৮৪ হাজার ৬১৫ কোটি টাকার সঞ্চিতি ঘাটতি রয়েছে—যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে নজিরবিহীন।

এই বিশাল ঘাটতি আর্থিক বিবরণীতে সমন্বয় না করায় ব্যাংকের সম্পদ, মুনাফা এবং ইকুইটি প্রকৃত অবস্থার চেয়ে অনেক বেশি দেখানো হয়েছে, আর দায় কম দেখানো হয়েছে।

নিয়মানুযায়ী ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ১৯ হাজার ২০০ কোটি টাকা মূলধন থাকার কথা হলেও প্রকৃত মূলধন মাত্র ৯ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। এভাবে দৃশ্যমান মূলধন ঘাটতি ৯ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। তবে নিরীক্ষকরা বলছেন, পুরো প্রভিশন ঘাটতি হিসাবে নিলে আসল মূলধন ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ৯৩ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা।

'গোয়িং কনসার্ন' নিয়ে সংশয়, টিকে আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ছাড়

অডিট প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কেবলমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নীতিগত ছাড় ও সহায়তার কারণেই ব্যাংকটি এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছে। এই সমর্থন প্রত্যাহার করা হলে ব্যাংকের 'গোয়িং কনসার্ন' বা ভবিষ্যতে টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে। সহজ কথায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে।

ব্যাংকটির মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত (সিআরএআর) এখন মাত্র ৬.৪২ শতাংশ, অথচ নির্ধারিত মান ১২.৫০ শতাংশ। নিরীক্ষকরা সতর্ক করেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত ছাড় না থাকলে ২০২৫ সালে একাই ব্যাংকটির লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াত ৮৪ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা।

এস আলম গ্রুপের কাছে বিপুল পাওনা

রিপোর্ট বলছে, এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের বিশাল অঙ্কের পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে এস আলম স্টিলস ও রিফাইনড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ঋণ ১০ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা, এস আলম ভেজিটেবল অয়েলের ঋণ ১৪ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা এবং এস আলম সুপার এডিবল অয়েলের ঋণ ১২ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে ব্যাংকে রাখা এস আলম গ্রুপের প্রায় ৮৩ শতাংশ শেয়ার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

পুঁজিবাজারে 'জাঙ্ক' তকমা, শেয়ার ফ্লোর প্রাইসে আটকে

আর্থিক পারফরম্যান্সের এই নিম্নমুখী ধারা এবং পরপর দুই বছর লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইসলামী ব্যাংককে শেয়ারবাজারে 'জেড' ক্যাটাগরিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে, যা মূলত 'জাঙ্ক স্টক' বা অপ্রত্যাশিত শেয়ার বোঝায়। ব্যাংকটি ১৩৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা দেখালেও তা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত ছাড়ের জোরে। শেয়ারবাজারে ব্যাংকটির শেয়ারমূল্য এখন ফ্লোর প্রাইস ৩২.৬০ টাকায় আটকে আছে।

চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ইসলামী ব্যাংককে ৮৪ হাজার ৬১৫ কোটি টাকার প্রভিশন সমন্বয় ছাড়াই আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে। মূলত বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে এবং পর্যাপ্ত মুনাফা না থাকায় এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে এর পরিবর্তে আগামী এক মাসের মধ্যে ঘাটতি পূরণের বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা বোর্ড অনুমোদন নিয়ে জমা দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালে ব্যাংকটির নিট বিনিয়োগ আয়ও আগের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।




কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত