অর্থনীতি
রাজধানীর এক আলোচনায় তিনি জানান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই সরকারের মূল অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার।
রাজধানীর বনানীতে সোমবার অনুষ্ঠিত ‘বৈশ্বিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। সে লক্ষ্যেই বাজেট কাঠামোয় এই দুই খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, একসময় দেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত ১১ থেকে ১২ শতাংশের বেশি থাকলেও বর্তমানে তা ৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এতে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, রাজস্ব কাঠামোকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে পরিবর্তন আনা হবে।
প্রবাসী আয়ের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রেমিট্যান্সের বড় অংশ আসছে অদক্ষ শ্রমিকদের কাছ থেকে। দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে এই আয় ৫০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, দেশে বিদ্যমান দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্টিফিকেশন আন্তর্জাতিক মানে না পৌঁছানোয় প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। এই ঘাটতি পূরণে সরকার নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের জন্য চাকরির সুযোগ সংকুচিত হয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, আইসিটি খাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি, বরং নানা অনিয়মের কারণে খাতটির সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে বর্তমান সরকার আগামী দুই বছরের মধ্যে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণদের জন্য একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
রাজধানীর এক আলোচনায় তিনি জানান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই সরকারের মূল অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার।
রাজধানীর বনানীতে সোমবার অনুষ্ঠিত ‘বৈশ্বিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। সে লক্ষ্যেই বাজেট কাঠামোয় এই দুই খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, একসময় দেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত ১১ থেকে ১২ শতাংশের বেশি থাকলেও বর্তমানে তা ৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এতে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, রাজস্ব কাঠামোকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে পরিবর্তন আনা হবে।
প্রবাসী আয়ের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রেমিট্যান্সের বড় অংশ আসছে অদক্ষ শ্রমিকদের কাছ থেকে। দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে এই আয় ৫০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, দেশে বিদ্যমান দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্টিফিকেশন আন্তর্জাতিক মানে না পৌঁছানোয় প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। এই ঘাটতি পূরণে সরকার নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের জন্য চাকরির সুযোগ সংকুচিত হয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, আইসিটি খাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি, বরং নানা অনিয়মের কারণে খাতটির সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে বর্তমান সরকার আগামী দুই বছরের মধ্যে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণদের জন্য একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
2.png)