মতামত
সভ্যতার ইতিহাসে জ্ঞানের রাজধানী কখনো স্থির থাকেনি। একসময় যে আলো জ্বলেছিল বাগদাদ, কর্ডোভা কিংবা টলেডোতে, আজ তার প্রতিফলন দেখা যায় ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে। মানব মেধার এই যাত্রা শুধু ভূগোল বদলের গল্প নয়; এটি ক্ষমতা, জ্ঞানচর্চা, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং সভ্যতার উত্থান-পতনেরও এক গভীর ইতিহাস।
আজকের পৃথিবীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং কিংবা অ্যালগরিদমনির্ভর প্রযুক্তিকে অনেকেই কেবল আধুনিক পশ্চিমা বিশ্বের সাফল্য হিসেবে দেখেন। কিন্তু ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এই ডিজিটাল বিপ্লবের ভিত্তিপ্রস্তর রচিত হয়েছিল বহু শতাব্দী আগে মুসলিম বিশ্বের সোনালি যুগে।
অষ্টম ও নবম শতাব্দীতে ইউরোপ যখন অন্ধকার যুগে নিমজ্জিত, তখন আব্বাসীয় খেলাফতের রাজধানী বাগদাদ হয়ে উঠেছিল বিশ্বের জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্র। খলিফা হারুনুর রশিদ ও আল-মামুনের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত ‘বায়তুল হিকমাহ’ । এটি শুধু একটি গ্রন্থাগারই নয় বরং এটি ছিল মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ গবেষণা ও অনুবাদ কেন্দ্র।
সেখানে গ্রিক, ফার্সি, সংস্কৃত ও সিরিয়াক ভাষার দর্শন, গণিত, চিকিৎসা ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের গ্রন্থ আরবিতে অনূদিত হতো। কিন্তু মুসলিম মনীষীরা শুধু অনুবাদেই থেমে থাকেননি; তাঁরা নতুন জ্ঞানেরও জন্ম দিয়েছেন।
গণিতবিদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের মাধ্যমে বীজগণিতের ভিত্তি নির্মাণ করেন। তাঁর নাম থেকেই এসেছে আধুনিক “অ্যালগরিদম” শব্দটি। আজ গুগলের সার্চ ইঞ্জিন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিউজফিড—সবকিছুর কেন্দ্রে রয়েছে সেই অ্যালগরিদমিক চিন্তাধারা।
শুধু গণিত নয়, চিকিৎসা, দর্শন ও পদার্থবিজ্ঞানেও মুসলিম পণ্ডিতদের অবদান ছিল যুগান্তকারী। ইবনে সিনার ‘আল-কানুন ফি আল-তিব্ব’ শত শত বছর ইউরোপের মেডিকেল শিক্ষার প্রধান পাঠ্য ছিল। আর অপটিক্সবিদ হাসান ইবনে আল-হাইসাম এমন এক তত্ত্ব দাঁড় করান, যার ওপর ভিত্তি করেই আজকের ক্যামেরা, সেন্সর ও ডিজিটাল ইমেজিং প্রযুক্তি দাঁড়িয়ে আছে।
এই জ্ঞানের ধারা পরে ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপের আন্দালুসিয়ায়। কর্ডোভা, গ্রানাডা ও টলেডো হয়ে ওঠে জ্ঞান ও সংস্কৃতির নতুন কেন্দ্র। আরবি ভাষায় লেখা বৈজ্ঞানিক গ্রন্থগুলো ল্যাটিনে অনুবাদের মাধ্যমে ইউরোপে পৌঁছে যায়। ইতিহাসবিদদের মতে, এই জ্ঞান স্থানান্তরই পরবর্তীতে ইউরোপীয় নবজাগরণের ভিত গড়ে দেয়।
কিন্তু যে সভ্যতা একসময় বিশ্বকে আলোকিত করেছিল, সেই জ্ঞানচর্চার ধারাই ধীরে ধীরে থমকে যায়।
১২৫৮ সালে মঙ্গোল সেনাপতি হালাকু খানের বাগদাদ আক্রমণ মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামোয় ভয়াবহ আঘাত হানে। বায়তুল হিকমাহ ধ্বংস হয়, পুড়ে যায় অসংখ্য পাণ্ডুলিপি। ইতিহাসে বলা হয়, টাইগ্রিস নদীর পানি বইয়ের কালিতে কালো হয়ে গিয়েছিল।
তবে পতনের কারণ শুধু যুদ্ধ ছিলোনা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম সমাজে মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদী দর্শনের জায়গা সংকুচিত হতে থাকে। প্রশ্ন করার সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়ে, বাড়তে থাকে অন্ধ অনুকরণের প্রবণতা। রাজনৈতিক বিভাজন ও প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাব গবেষণা ও বিজ্ঞানচর্চাকে আরও দুর্বল করে তোলে।
এরপর আসে উপনিবেশবাদের যুগ। পশ্চিমা শক্তিগুলো মুসলিম বিশ্বের শিক্ষা ও জ্ঞান কাঠামোকে ভেঙে দেয়। ফলে প্রযুক্তিগতভাবে মুসলিম দেশগুলো ক্রমেই নির্ভরশীল হয়ে পড়ে পশ্চিমা বিশ্বের ওপর।
আজকের বাস্তবতা আরও নির্মম। মুসলিম বিশ্বে মেধার অভাব নেই, কিন্তু সেই মেধা বিকাশের পরিবেশ সীমিত। তাই হাজার হাজার মুসলিম প্রকৌশলী, ডেটা বিজ্ঞানী ও গবেষক কাজ করছেন গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা কিংবা অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু তাঁদের উদ্ভাবনের সুফল ভোগ করছে পশ্চিমা অর্থনীতি।
এটাই আধুনিক “ব্রেইন ড্রেইন”।
নিজ দেশে গবেষণার স্বাধীনতা, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবে প্রতিভাবান তরুণেরা বিদেশমুখী হচ্ছেন। ফলে মুসলিম দেশগুলো প্রযুক্তিগতভাবে ভোক্তা হয়ে থাকছে, উদ্ভাবকের আসনে বসতে পারছে না।
বিশ্ব এখন নতুন এক প্রযুক্তিযুদ্ধে প্রবেশ করেছে। সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা আগামী দিনের ভূরাজনীতি নির্ধারণ করছে। কিন্তু মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখনো এই গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগুলোর জন্য পশ্চিমা কিংবা পূর্ব এশীয় শক্তির ওপর নির্ভরশীল।
এই বাস্তবতা বদলাতে হলে অতীতের গৌরব শুধু স্মৃতিচারণে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রয়োজন নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ।
প্রথমত, বিজ্ঞান ও গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শুধু প্রযুক্তি আমদানি নয়, নিজস্ব গবেষণাগার, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
দ্বিতীয়ত, মাতৃভাষাভিত্তিক বিজ্ঞানচর্চাকে গুরুত্ব দিতে হবে। বায়তুল হিকমাহ যেভাবে অনুবাদের মাধ্যমে জ্ঞানকে মানুষের নাগালে এনেছিল, আজও তেমন বৃহৎ অনুবাদ উদ্যোগ জরুরি।
তৃতীয়ত, মুক্তচিন্তা ও প্রশ্ন করার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করতে হবে। বিজ্ঞান কখনো ভয় বা সংকীর্ণতার ভেতর বিকশিত হয় না; এর জন্য প্রয়োজন উন্মুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ।
সবশেষে, ঐতিহ্যগত জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যে নতুন সংলাপ গড়ে তুলতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকটে প্রাচীন পানি ব্যবস্থাপনা বা পরিবেশজ্ঞানকে আধুনিক এআই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটিই—জ্ঞান কোনো জাতির একক সম্পদ নয়। এটি এক সভ্যতা থেকে আরেক সভ্যতায় প্রবাহিত হয়। একসময় বাগদাদ বিশ্বকে পথ দেখিয়েছিল, আজ সিলিকন ভ্যালি সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। প্রশ্ন হলো, আগামী দিনের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে মুসলিম সভ্যতা কি আবারও নিজের হারানো বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান ফিরে পেতে পারবে?
জ্ঞান, গবেষণা এবং মুক্তচিন্তার পুনর্জাগরণের মাধ্যমেই কেবল সেই গৌরব ফিরে পাওয়া সম্ভব।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
সভ্যতার ইতিহাসে জ্ঞানের রাজধানী কখনো স্থির থাকেনি। একসময় যে আলো জ্বলেছিল বাগদাদ, কর্ডোভা কিংবা টলেডোতে, আজ তার প্রতিফলন দেখা যায় ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে। মানব মেধার এই যাত্রা শুধু ভূগোল বদলের গল্প নয়; এটি ক্ষমতা, জ্ঞানচর্চা, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং সভ্যতার উত্থান-পতনেরও এক গভীর ইতিহাস।
আজকের পৃথিবীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং কিংবা অ্যালগরিদমনির্ভর প্রযুক্তিকে অনেকেই কেবল আধুনিক পশ্চিমা বিশ্বের সাফল্য হিসেবে দেখেন। কিন্তু ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এই ডিজিটাল বিপ্লবের ভিত্তিপ্রস্তর রচিত হয়েছিল বহু শতাব্দী আগে মুসলিম বিশ্বের সোনালি যুগে।
অষ্টম ও নবম শতাব্দীতে ইউরোপ যখন অন্ধকার যুগে নিমজ্জিত, তখন আব্বাসীয় খেলাফতের রাজধানী বাগদাদ হয়ে উঠেছিল বিশ্বের জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্র। খলিফা হারুনুর রশিদ ও আল-মামুনের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত ‘বায়তুল হিকমাহ’ । এটি শুধু একটি গ্রন্থাগারই নয় বরং এটি ছিল মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ গবেষণা ও অনুবাদ কেন্দ্র।
সেখানে গ্রিক, ফার্সি, সংস্কৃত ও সিরিয়াক ভাষার দর্শন, গণিত, চিকিৎসা ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের গ্রন্থ আরবিতে অনূদিত হতো। কিন্তু মুসলিম মনীষীরা শুধু অনুবাদেই থেমে থাকেননি; তাঁরা নতুন জ্ঞানেরও জন্ম দিয়েছেন।
গণিতবিদ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের মাধ্যমে বীজগণিতের ভিত্তি নির্মাণ করেন। তাঁর নাম থেকেই এসেছে আধুনিক “অ্যালগরিদম” শব্দটি। আজ গুগলের সার্চ ইঞ্জিন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিউজফিড—সবকিছুর কেন্দ্রে রয়েছে সেই অ্যালগরিদমিক চিন্তাধারা।
শুধু গণিত নয়, চিকিৎসা, দর্শন ও পদার্থবিজ্ঞানেও মুসলিম পণ্ডিতদের অবদান ছিল যুগান্তকারী। ইবনে সিনার ‘আল-কানুন ফি আল-তিব্ব’ শত শত বছর ইউরোপের মেডিকেল শিক্ষার প্রধান পাঠ্য ছিল। আর অপটিক্সবিদ হাসান ইবনে আল-হাইসাম এমন এক তত্ত্ব দাঁড় করান, যার ওপর ভিত্তি করেই আজকের ক্যামেরা, সেন্সর ও ডিজিটাল ইমেজিং প্রযুক্তি দাঁড়িয়ে আছে।
এই জ্ঞানের ধারা পরে ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপের আন্দালুসিয়ায়। কর্ডোভা, গ্রানাডা ও টলেডো হয়ে ওঠে জ্ঞান ও সংস্কৃতির নতুন কেন্দ্র। আরবি ভাষায় লেখা বৈজ্ঞানিক গ্রন্থগুলো ল্যাটিনে অনুবাদের মাধ্যমে ইউরোপে পৌঁছে যায়। ইতিহাসবিদদের মতে, এই জ্ঞান স্থানান্তরই পরবর্তীতে ইউরোপীয় নবজাগরণের ভিত গড়ে দেয়।
কিন্তু যে সভ্যতা একসময় বিশ্বকে আলোকিত করেছিল, সেই জ্ঞানচর্চার ধারাই ধীরে ধীরে থমকে যায়।
১২৫৮ সালে মঙ্গোল সেনাপতি হালাকু খানের বাগদাদ আক্রমণ মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামোয় ভয়াবহ আঘাত হানে। বায়তুল হিকমাহ ধ্বংস হয়, পুড়ে যায় অসংখ্য পাণ্ডুলিপি। ইতিহাসে বলা হয়, টাইগ্রিস নদীর পানি বইয়ের কালিতে কালো হয়ে গিয়েছিল।
তবে পতনের কারণ শুধু যুদ্ধ ছিলোনা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম সমাজে মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদী দর্শনের জায়গা সংকুচিত হতে থাকে। প্রশ্ন করার সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়ে, বাড়তে থাকে অন্ধ অনুকরণের প্রবণতা। রাজনৈতিক বিভাজন ও প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাব গবেষণা ও বিজ্ঞানচর্চাকে আরও দুর্বল করে তোলে।
এরপর আসে উপনিবেশবাদের যুগ। পশ্চিমা শক্তিগুলো মুসলিম বিশ্বের শিক্ষা ও জ্ঞান কাঠামোকে ভেঙে দেয়। ফলে প্রযুক্তিগতভাবে মুসলিম দেশগুলো ক্রমেই নির্ভরশীল হয়ে পড়ে পশ্চিমা বিশ্বের ওপর।
আজকের বাস্তবতা আরও নির্মম। মুসলিম বিশ্বে মেধার অভাব নেই, কিন্তু সেই মেধা বিকাশের পরিবেশ সীমিত। তাই হাজার হাজার মুসলিম প্রকৌশলী, ডেটা বিজ্ঞানী ও গবেষক কাজ করছেন গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা কিংবা অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু তাঁদের উদ্ভাবনের সুফল ভোগ করছে পশ্চিমা অর্থনীতি।
এটাই আধুনিক “ব্রেইন ড্রেইন”।
নিজ দেশে গবেষণার স্বাধীনতা, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবে প্রতিভাবান তরুণেরা বিদেশমুখী হচ্ছেন। ফলে মুসলিম দেশগুলো প্রযুক্তিগতভাবে ভোক্তা হয়ে থাকছে, উদ্ভাবকের আসনে বসতে পারছে না।
বিশ্ব এখন নতুন এক প্রযুক্তিযুদ্ধে প্রবেশ করেছে। সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা আগামী দিনের ভূরাজনীতি নির্ধারণ করছে। কিন্তু মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখনো এই গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগুলোর জন্য পশ্চিমা কিংবা পূর্ব এশীয় শক্তির ওপর নির্ভরশীল।
এই বাস্তবতা বদলাতে হলে অতীতের গৌরব শুধু স্মৃতিচারণে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রয়োজন নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ।
প্রথমত, বিজ্ঞান ও গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শুধু প্রযুক্তি আমদানি নয়, নিজস্ব গবেষণাগার, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
দ্বিতীয়ত, মাতৃভাষাভিত্তিক বিজ্ঞানচর্চাকে গুরুত্ব দিতে হবে। বায়তুল হিকমাহ যেভাবে অনুবাদের মাধ্যমে জ্ঞানকে মানুষের নাগালে এনেছিল, আজও তেমন বৃহৎ অনুবাদ উদ্যোগ জরুরি।
তৃতীয়ত, মুক্তচিন্তা ও প্রশ্ন করার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করতে হবে। বিজ্ঞান কখনো ভয় বা সংকীর্ণতার ভেতর বিকশিত হয় না; এর জন্য প্রয়োজন উন্মুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ।
সবশেষে, ঐতিহ্যগত জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যে নতুন সংলাপ গড়ে তুলতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকটে প্রাচীন পানি ব্যবস্থাপনা বা পরিবেশজ্ঞানকে আধুনিক এআই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটিই—জ্ঞান কোনো জাতির একক সম্পদ নয়। এটি এক সভ্যতা থেকে আরেক সভ্যতায় প্রবাহিত হয়। একসময় বাগদাদ বিশ্বকে পথ দেখিয়েছিল, আজ সিলিকন ভ্যালি সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। প্রশ্ন হলো, আগামী দিনের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে মুসলিম সভ্যতা কি আবারও নিজের হারানো বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান ফিরে পেতে পারবে?
জ্ঞান, গবেষণা এবং মুক্তচিন্তার পুনর্জাগরণের মাধ্যমেই কেবল সেই গৌরব ফিরে পাওয়া সম্ভব।
2.png)