সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 অর্থনীতিঅর্থনীতি

চীনকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ: মার্কিন বাজারে নতুন সমীকরণ

আমদানিতে ভাটা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীনকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। ৩৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম।

চীনকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ: মার্কিন বাজারে নতুন সমীকরণ
ছবি -সংগৃহীত

বিশ্বের বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে এক বড় ওলটপালট হয়ে গেল। ওটেক্সার সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই (জানুয়ারি-মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির গ্রাফ অনেকটা নিচের দিকে। গত বছরের তুলনায় এবার আমদানি ২০ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৭.৭৬ বিলিয়ন ডলারে।

তবে এই মন্দার বাজারেও বাংলাদেশের জন্য আছে দারুণ এক খবর। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চীনকে টপকে প্রথমবারের মতো মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

কার অবস্থান কোথায়?

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এখন রাজত্ব করছে ভিয়েতনাম। ৩৯.৮৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে তারা শীর্ষস্থানে অটল রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ২০.৩৭ বিলিয়ন ডলারে, যেখানে চীনের আয় কমে ১৬.৯৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। তালিকার পরের দিকে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো।

আসলে বিশ্বজুড়ে এখন যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চলছে, তাতে ক্রেতারা কিছুটা সাবধানে পা ফেলছেন। সোজা কথায়, বাজারে চাহিদা কম থাকায় সামগ্রিক আমদানি কমেছে।

জুনের পর কি সুদিন ফিরবে?

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা অবশ্য এখনই নিরাশ হচ্ছেন না। তাদের মতে, আগামী জুন পর্যন্ত রপ্তানির এই ধীরগতি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে উদ্যোক্তা শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীর আশা, জুলাইয়ের পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করবে। মার্কিন পাল্টা শুল্ক ব্যবস্থার একটি স্থায়ী সমাধান আসবে—এমন প্রত্যাশাই এখন নতুন করে চাহিদাকে চাঙ্গা করতে পারে।

শুল্ক নিয়ে সেই পুরোনো প্যাঁচ

মার্কিন বাজারে ১০ শতাংশ শুল্ক নিয়ে যে আইনি লড়াই চলছে, তাতে একটা ধোঁয়াশা এখনো রয়ে গেছে। গত ৭ মে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত তিন আমদানিকারক কোম্পানির পক্ষে রায় দিলেও ট্রাম্প প্রশাসন পরদিনই (৮ মে) এর বিরুদ্ধে আপিল করেছে।

মহিউদ্দিন রুবেল জানান, এই রায় এখনই সবার জন্য কার্যকর নয়; এটি শুধু মামলাকারী ওই তিন কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এখন যদি প্রশাসনের আপিল গ্রহণ করা হয়, তবে আমদানিকারকরা শুল্ক ফেরত পাবেন না। আর আপিল খারিজ হলে তবেই রিফান্ডের সুযোগ থাকবে। এই আইনি অনিশ্চয়তার কারণেই রপ্তানিকারকরা মনে করছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকছে।

গল্পটা এখানেই শেষ নয়। একদিকে চীনের পতন আর অন্যদিকে বাংলাদেশের উত্থান—এই সুযোগটি কতটুকু কাজে লাগানো যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে বৈশ্বিক রাজনীতির এই ‘শুল্ক-যুদ্ধ’ কোন দিকে মোড় নেয় তার ওপর।


বিষয় : যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ২০২৬ ভিয়েতনাম পোশাক রপ্তানি মার্কিন শুল্ক বাংলাদেশি পোশাক শিল্প

চীনকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ: মার্কিন বাজারে নতুন সমীকরণ
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


চীনকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ: মার্কিন বাজারে নতুন সমীকরণ

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

বিশ্বের বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে এক বড় ওলটপালট হয়ে গেল। ওটেক্সার সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই (জানুয়ারি-মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির গ্রাফ অনেকটা নিচের দিকে। গত বছরের তুলনায় এবার আমদানি ২০ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৭.৭৬ বিলিয়ন ডলারে।

তবে এই মন্দার বাজারেও বাংলাদেশের জন্য আছে দারুণ এক খবর। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চীনকে টপকে প্রথমবারের মতো মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

কার অবস্থান কোথায়?

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এখন রাজত্ব করছে ভিয়েতনাম। ৩৯.৮৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে তারা শীর্ষস্থানে অটল রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ২০.৩৭ বিলিয়ন ডলারে, যেখানে চীনের আয় কমে ১৬.৯৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। তালিকার পরের দিকে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো।

আসলে বিশ্বজুড়ে এখন যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চলছে, তাতে ক্রেতারা কিছুটা সাবধানে পা ফেলছেন। সোজা কথায়, বাজারে চাহিদা কম থাকায় সামগ্রিক আমদানি কমেছে।

জুনের পর কি সুদিন ফিরবে?

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা অবশ্য এখনই নিরাশ হচ্ছেন না। তাদের মতে, আগামী জুন পর্যন্ত রপ্তানির এই ধীরগতি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে উদ্যোক্তা শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীর আশা, জুলাইয়ের পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করবে। মার্কিন পাল্টা শুল্ক ব্যবস্থার একটি স্থায়ী সমাধান আসবে—এমন প্রত্যাশাই এখন নতুন করে চাহিদাকে চাঙ্গা করতে পারে।

শুল্ক নিয়ে সেই পুরোনো প্যাঁচ

মার্কিন বাজারে ১০ শতাংশ শুল্ক নিয়ে যে আইনি লড়াই চলছে, তাতে একটা ধোঁয়াশা এখনো রয়ে গেছে। গত ৭ মে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত তিন আমদানিকারক কোম্পানির পক্ষে রায় দিলেও ট্রাম্প প্রশাসন পরদিনই (৮ মে) এর বিরুদ্ধে আপিল করেছে।

মহিউদ্দিন রুবেল জানান, এই রায় এখনই সবার জন্য কার্যকর নয়; এটি শুধু মামলাকারী ওই তিন কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এখন যদি প্রশাসনের আপিল গ্রহণ করা হয়, তবে আমদানিকারকরা শুল্ক ফেরত পাবেন না। আর আপিল খারিজ হলে তবেই রিফান্ডের সুযোগ থাকবে। এই আইনি অনিশ্চয়তার কারণেই রপ্তানিকারকরা মনে করছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকছে।

গল্পটা এখানেই শেষ নয়। একদিকে চীনের পতন আর অন্যদিকে বাংলাদেশের উত্থান—এই সুযোগটি কতটুকু কাজে লাগানো যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে বৈশ্বিক রাজনীতির এই ‘শুল্ক-যুদ্ধ’ কোন দিকে মোড় নেয় তার ওপর।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত