অর্থনীতি
দীর্ঘদিন ধরে সহজ শর্ত ও নামমাত্র সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য পরিচিত জাপান এবার তাদের বৈদেশিক ঋণ সহায়তার (ওডিএ) নীতিমালায় বড় পরিবর্তন এনেছে। নিয়মিত পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ঋণের সুদের হার এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে দেশটি। গত ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন শর্তাবলির কারণে সরাসরি সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ, কারণ দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের ১৮ শতাংশই আসে সূর্যোদয়ের এই দেশ থেকে।
ঢাকায় জাপানি দূতাবাস থেকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, সাধারণ স্থির সুদের হার ২.৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩.৬ শতাংশ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন সুদের হারও ২ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৭ শতাংশে। সুদের এই উল্লম্ফন বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য বড় এক দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উচ্চ সুদের বোঝা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন লাভজনক হবে না—এমন আশঙ্কায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রস্তাবিত তিনটি বড় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠিয়েছে। প্রকল্পগুলো হলো:
উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প (ইউজিডিপি)
হাওর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উন্নয়ন প্রকল্প
ইআরডির কর্মকর্তাদের মতে, ২ শতাংশের নিচে থাকা সুদের হার এখন ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় এ ধরনের সামাজিক ও আঞ্চলিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ব্যয়ভার বহন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো বড় ঋণদাতারাও এখন বাজারমূল্য অনুযায়ী সুদ নির্ধারণের দিকে ঝুঁকছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর থেকেই সহজ শর্তে বা ‘কনসেশনাল’ ঋণ পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছিল। জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, রেয়াতি ঋণের সুযোগ সীমিত হয়ে আসায় আগামীতে এই চাপ আরও বাড়বে।
জাপানি ঋণের শর্তে কেবল সুদ নয়, পরামর্শক ফি-ও বাড়ানো হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ঋণ পরিশোধের সময়সীমা (১৫ থেকে ৪০ বছর) এবং গ্রেস পিরিয়ড (৫ থেকে ১০ বছর) আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
জাপান এখন পর্যন্ত মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের মতো বড় অবকাঠামোতে অর্থায়ন করেছে। তবে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় সরকার এখন থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করছে। ইআরডি অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এখন থেকে কেবল সেই সব প্রকল্পকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে যেগুলোর অর্থনৈতিক সুফল ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।
বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি প্রায় ৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। প্রতি বছর ঋণ পরিশোধে সরকারকে ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার। অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ—বিলাসী বা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বিদেশি ঋণ না নিয়ে বরং উৎপাদনশীল খাতে মনোযোগ দেওয়াই হবে এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জ।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে সহজ শর্ত ও নামমাত্র সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য পরিচিত জাপান এবার তাদের বৈদেশিক ঋণ সহায়তার (ওডিএ) নীতিমালায় বড় পরিবর্তন এনেছে। নিয়মিত পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ঋণের সুদের হার এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে দেশটি। গত ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন শর্তাবলির কারণে সরাসরি সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ, কারণ দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের ১৮ শতাংশই আসে সূর্যোদয়ের এই দেশ থেকে।
ঢাকায় জাপানি দূতাবাস থেকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, সাধারণ স্থির সুদের হার ২.৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩.৬ শতাংশ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন সুদের হারও ২ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৭ শতাংশে। সুদের এই উল্লম্ফন বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য বড় এক দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উচ্চ সুদের বোঝা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন লাভজনক হবে না—এমন আশঙ্কায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রস্তাবিত তিনটি বড় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠিয়েছে। প্রকল্পগুলো হলো:
উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প (ইউজিডিপি)
হাওর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উন্নয়ন প্রকল্প
ইআরডির কর্মকর্তাদের মতে, ২ শতাংশের নিচে থাকা সুদের হার এখন ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় এ ধরনের সামাজিক ও আঞ্চলিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ব্যয়ভার বহন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো বড় ঋণদাতারাও এখন বাজারমূল্য অনুযায়ী সুদ নির্ধারণের দিকে ঝুঁকছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর থেকেই সহজ শর্তে বা ‘কনসেশনাল’ ঋণ পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছিল। জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, রেয়াতি ঋণের সুযোগ সীমিত হয়ে আসায় আগামীতে এই চাপ আরও বাড়বে।
জাপানি ঋণের শর্তে কেবল সুদ নয়, পরামর্শক ফি-ও বাড়ানো হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ঋণ পরিশোধের সময়সীমা (১৫ থেকে ৪০ বছর) এবং গ্রেস পিরিয়ড (৫ থেকে ১০ বছর) আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
জাপান এখন পর্যন্ত মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের মতো বড় অবকাঠামোতে অর্থায়ন করেছে। তবে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় সরকার এখন থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করছে। ইআরডি অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এখন থেকে কেবল সেই সব প্রকল্পকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে যেগুলোর অর্থনৈতিক সুফল ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।
বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি প্রায় ৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। প্রতি বছর ঋণ পরিশোধে সরকারকে ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার। অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ—বিলাসী বা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বিদেশি ঋণ না নিয়ে বরং উৎপাদনশীল খাতে মনোযোগ দেওয়াই হবে এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জ।
2.png)