লোকাল ফোকাস
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে দিগন্তজোড়া সবুজ চা-বাগান। কিন্তু এই সজীবতার আড়ালেই ধুকছে হাজার হাজার শিশুর ভবিষ্যৎ। দেশের চা-শিল্প যখন তার যাত্রার ১৭২ বছর পার করছে, ঠিক তখনই এক রূঢ় বাস্তবতা সামনে এলো— কুলাউড়ার ২৬টি প্রধান চা-বাগানের ২১টিতেই কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে প্রতিবছর শত শত শিশু অক্ষরজ্ঞানহীন থেকে যাচ্ছে, যা আমাদের এসডিজি-৪ বা মানসম্মত শিক্ষার লক্ষ্যমাত্রাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, হিংগাজিয়া থেকে শুরু করে মুরইছড়া— এমন ২১টি বাগানে সরকারি শিক্ষার কোনো ছায়া নেই। দায়িত্বরত শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, এখানে প্রধান বাধা হলো জমি। নিয়ম অনুযায়ী বাগান কর্তৃপক্ষকে জমি দান বা স্থায়ীভাবে হস্তান্তর করতে হয়, যা আইনি জটিলতা বা অনীহার কারণে আটকে আছে। তবে এই প্রশাসনিক মারপ্যাঁচে পিষ্ট হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা।
সরেজমিনে বাগানগুলোতে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ চিত্র। যেসব বাগানে ব্যক্তি উদ্যোগে বা বাগান কর্তৃপক্ষের দায়সারা ব্যবস্থাপনায় স্কুল চলছে, সেগুলোর অবস্থা তথৈবচ। কোথাও ভাঙাচোরা ঘরে চলছে ক্লাস, কোথাও আবার পর্যাপ্ত শিক্ষকই নেই। দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে সরকারি শিক্ষকরাও এখানে পোস্টিং নিতে খুব একটা উৎসাহ দেখান না। স্থানীয় অভিভাবকদের কণ্ঠে ঝরল দীর্ঘদিনের ক্ষোভ— "আমাদের কাজই কি শুধু পাতা তোলা? আমাদের ছেলেমেয়েরা কি কোনোদিন শহরের মতো স্কুলে পড়তে পারবে না?"
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চা-শ্রমিকদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে কেবল আলোচনা নয়, প্রয়োজন দ্রুত বাস্তবায়ন। চা-শিল্পের এই দীর্ঘ ইতিহাসে শ্রমিকের অধিকার বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। এখন সময় এসেছে জমি সংক্রান্ত জট খুলে প্রতিটি বাগানে অন্তত একটি করে সরকারি বিদ্যাপীঠ নিশ্চিত করার। অন্যথায়, এই প্রান্তিক জনপদ চিরকালই অন্ধকার গহ্বরে রয়ে যাবে।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে দিগন্তজোড়া সবুজ চা-বাগান। কিন্তু এই সজীবতার আড়ালেই ধুকছে হাজার হাজার শিশুর ভবিষ্যৎ। দেশের চা-শিল্প যখন তার যাত্রার ১৭২ বছর পার করছে, ঠিক তখনই এক রূঢ় বাস্তবতা সামনে এলো— কুলাউড়ার ২৬টি প্রধান চা-বাগানের ২১টিতেই কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে প্রতিবছর শত শত শিশু অক্ষরজ্ঞানহীন থেকে যাচ্ছে, যা আমাদের এসডিজি-৪ বা মানসম্মত শিক্ষার লক্ষ্যমাত্রাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, হিংগাজিয়া থেকে শুরু করে মুরইছড়া— এমন ২১টি বাগানে সরকারি শিক্ষার কোনো ছায়া নেই। দায়িত্বরত শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, এখানে প্রধান বাধা হলো জমি। নিয়ম অনুযায়ী বাগান কর্তৃপক্ষকে জমি দান বা স্থায়ীভাবে হস্তান্তর করতে হয়, যা আইনি জটিলতা বা অনীহার কারণে আটকে আছে। তবে এই প্রশাসনিক মারপ্যাঁচে পিষ্ট হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা।
সরেজমিনে বাগানগুলোতে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ চিত্র। যেসব বাগানে ব্যক্তি উদ্যোগে বা বাগান কর্তৃপক্ষের দায়সারা ব্যবস্থাপনায় স্কুল চলছে, সেগুলোর অবস্থা তথৈবচ। কোথাও ভাঙাচোরা ঘরে চলছে ক্লাস, কোথাও আবার পর্যাপ্ত শিক্ষকই নেই। দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে সরকারি শিক্ষকরাও এখানে পোস্টিং নিতে খুব একটা উৎসাহ দেখান না। স্থানীয় অভিভাবকদের কণ্ঠে ঝরল দীর্ঘদিনের ক্ষোভ— "আমাদের কাজই কি শুধু পাতা তোলা? আমাদের ছেলেমেয়েরা কি কোনোদিন শহরের মতো স্কুলে পড়তে পারবে না?"
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চা-শ্রমিকদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে কেবল আলোচনা নয়, প্রয়োজন দ্রুত বাস্তবায়ন। চা-শিল্পের এই দীর্ঘ ইতিহাসে শ্রমিকের অধিকার বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। এখন সময় এসেছে জমি সংক্রান্ত জট খুলে প্রতিটি বাগানে অন্তত একটি করে সরকারি বিদ্যাপীঠ নিশ্চিত করার। অন্যথায়, এই প্রান্তিক জনপদ চিরকালই অন্ধকার গহ্বরে রয়ে যাবে।
2.png)