আন্তর্জাতিক
দশ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ধোঁয়া কেবল সরতে শুরু করেছে, কিন্তু বিশ্ব রাজনীতির আকাশে জমাট বাঁধছে নতুন কালো মেঘ। এই মেঘ কোনো শত্রু দেশের নয়, বরং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধুদের আস্থার অভাব। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মনে এই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—বিপদের দিনে যুক্তরাষ্ট্র কি আর আগের মতো পাশে থাকবে?
গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলকে সঙ্গী করে ইরানে মার্কিন হামলার যে আগুন জ্বলেছিল, তার আঁচ সরাসরি গিয়ে লেগেছে ইউরোপের গায়ে। ট্রাম্পের দাবি ছিল, ইরান পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছে। যদিও এর সপক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি। অথচ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে জ্বালানি তেলের দামে যে আগুন লেগেছে, তার সবচেয়ে বড় খেসারত দিতে হচ্ছে জার্মানি আর ব্রিটেনকে।
লক্ষণীয় যে, মিত্রদের প্রতি ট্রাম্পের এই বৈরী আচরণ এখন ব্যক্তিগত জেদাজেদিতে রূপ নিয়েছে। জার্মানির চ্যান্সেলর মের্ৎসের এক সামান্য সমালোচনা সইতে না পেরে ট্রাম্প সেখান থেকে পাঁচ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, পেন্টাগন এখন স্পেনের ন্যাটো সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে আর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে উপহাস করছে।
আসল বিষয় হলো, ট্রাম্পের এই মারমুখী অবস্থান ওয়াশিংটনকে ধীরে ধীরে একা করে দিচ্ছে। আগে সংকটকালে মিত্ররা হোয়াইট হাউসের দিকে তাকিয়ে থাকত সাহায্যের আশায়। এখন তারা ভয় পাচ্ছে, কখন না জানি ট্রাম্পের কোনো খামখেয়ালিতে তাদের নিজেদেরই বিপদ বেড়ে যায়। জাপানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সম্মান আর বিশ্বাস—দুটোই এখন তলানিতে।
তবে কি এই সুযোগে বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে চীন আর রাশিয়া বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে? রাশিয়া যখন চড়া দামে জ্বালানি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে, চীন তখন নিজেকে ট্রাম্পের চেয়েও ‘স্থির ও বিশ্বস্ত’ বন্ধু হিসেবে তুলে ধরছে।
আসলে ইউরোপের দেশগুলো এখন বুঝে গেছে, অন্যের ওপর ভরসা করে দিন পার করার সময় শেষ। তারা এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াচ্ছে, নিজেরাই অস্ত্র বানাচ্ছে। যুদ্ধের ময়দান থেকে সরে এলেও ট্রাম্প কি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাবকেও সরিয়ে নিচ্ছেন? প্রশ্নটা এখন আর তাত্ত্বিক নয়, বরং এক কঠিন বাস্তবতা। নিজের দাপট দেখাতে গিয়ে ট্রাম্প হয়তো ওয়াশিংটনকে এমন এক দ্বীপে পরিণত করছেন, যেখানে তার চারপাশে কথা বলার মতো কোনো বিশ্বস্ত বন্ধু আর অবশিষ্ট থাকবে না।

রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
দশ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ধোঁয়া কেবল সরতে শুরু করেছে, কিন্তু বিশ্ব রাজনীতির আকাশে জমাট বাঁধছে নতুন কালো মেঘ। এই মেঘ কোনো শত্রু দেশের নয়, বরং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধুদের আস্থার অভাব। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মনে এই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—বিপদের দিনে যুক্তরাষ্ট্র কি আর আগের মতো পাশে থাকবে?
গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলকে সঙ্গী করে ইরানে মার্কিন হামলার যে আগুন জ্বলেছিল, তার আঁচ সরাসরি গিয়ে লেগেছে ইউরোপের গায়ে। ট্রাম্পের দাবি ছিল, ইরান পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছে। যদিও এর সপক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি। অথচ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে জ্বালানি তেলের দামে যে আগুন লেগেছে, তার সবচেয়ে বড় খেসারত দিতে হচ্ছে জার্মানি আর ব্রিটেনকে।
লক্ষণীয় যে, মিত্রদের প্রতি ট্রাম্পের এই বৈরী আচরণ এখন ব্যক্তিগত জেদাজেদিতে রূপ নিয়েছে। জার্মানির চ্যান্সেলর মের্ৎসের এক সামান্য সমালোচনা সইতে না পেরে ট্রাম্প সেখান থেকে পাঁচ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, পেন্টাগন এখন স্পেনের ন্যাটো সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে আর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে উপহাস করছে।
আসল বিষয় হলো, ট্রাম্পের এই মারমুখী অবস্থান ওয়াশিংটনকে ধীরে ধীরে একা করে দিচ্ছে। আগে সংকটকালে মিত্ররা হোয়াইট হাউসের দিকে তাকিয়ে থাকত সাহায্যের আশায়। এখন তারা ভয় পাচ্ছে, কখন না জানি ট্রাম্পের কোনো খামখেয়ালিতে তাদের নিজেদেরই বিপদ বেড়ে যায়। জাপানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সম্মান আর বিশ্বাস—দুটোই এখন তলানিতে।
তবে কি এই সুযোগে বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে চীন আর রাশিয়া বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে? রাশিয়া যখন চড়া দামে জ্বালানি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে, চীন তখন নিজেকে ট্রাম্পের চেয়েও ‘স্থির ও বিশ্বস্ত’ বন্ধু হিসেবে তুলে ধরছে।
আসলে ইউরোপের দেশগুলো এখন বুঝে গেছে, অন্যের ওপর ভরসা করে দিন পার করার সময় শেষ। তারা এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াচ্ছে, নিজেরাই অস্ত্র বানাচ্ছে। যুদ্ধের ময়দান থেকে সরে এলেও ট্রাম্প কি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাবকেও সরিয়ে নিচ্ছেন? প্রশ্নটা এখন আর তাত্ত্বিক নয়, বরং এক কঠিন বাস্তবতা। নিজের দাপট দেখাতে গিয়ে ট্রাম্প হয়তো ওয়াশিংটনকে এমন এক দ্বীপে পরিণত করছেন, যেখানে তার চারপাশে কথা বলার মতো কোনো বিশ্বস্ত বন্ধু আর অবশিষ্ট থাকবে না।
