প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান
জাতীয়
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে চালানো অভিযানের তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা আগামী ৭ জুনের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। রোববার সকালে নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
তদন্তে উঠে আসা হতাহতের চিত্র
চিফ প্রসিকিউটর জানান, দীর্ঘ দেড় বছরের নিবিড় অনুসন্ধানে শাপলা চত্বরের অভিযানে ৩২ জন নিহতের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এর বাইরে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও বেশ কিছু মৃত্যুর অকাট্য প্রমাণ হাতে এসেছে। ঘটনার রাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে পরিচালিত এই অভিযানে সাউন্ড গ্রেনেড ও মরণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহারের বিষয়টিও তদন্তে বিশদভাবে উঠে এসেছে।
জড়িতদের তালিকায় প্রভাবশালীরা
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ঘটনায় কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই নন, তৎকালীন সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক নেতার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এমনকি ঘটনার নেপথ্যে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার প্রমাণও মিলেছে। তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সেই সময়কার প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও।
আসামি ও বর্তমান আইনি অবস্থা
উল্লেখ্য, এই মামলায় ইতোমধ্যে ২৫ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর এবং তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদসহ পুলিশের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এছাড়া গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
২০১৩ সালের ৫ মে রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেওয়া হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যৌথ অভিযান চালায়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই নতুন তদন্তের মাধ্যমে সেই রাতের প্রকৃত চিত্র এবং দায়ীদের পরিচয় জনসম্মুখে আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বিষয় : শাপলা চত্তর শাপলা হত্যাকাণ্ড

রোববার, ০৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে চালানো অভিযানের তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা আগামী ৭ জুনের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। রোববার সকালে নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
তদন্তে উঠে আসা হতাহতের চিত্র
চিফ প্রসিকিউটর জানান, দীর্ঘ দেড় বছরের নিবিড় অনুসন্ধানে শাপলা চত্বরের অভিযানে ৩২ জন নিহতের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এর বাইরে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও বেশ কিছু মৃত্যুর অকাট্য প্রমাণ হাতে এসেছে। ঘটনার রাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে পরিচালিত এই অভিযানে সাউন্ড গ্রেনেড ও মরণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহারের বিষয়টিও তদন্তে বিশদভাবে উঠে এসেছে।
জড়িতদের তালিকায় প্রভাবশালীরা
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ঘটনায় কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই নন, তৎকালীন সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক নেতার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এমনকি ঘটনার নেপথ্যে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার প্রমাণও মিলেছে। তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সেই সময়কার প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও।
আসামি ও বর্তমান আইনি অবস্থা
উল্লেখ্য, এই মামলায় ইতোমধ্যে ২৫ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর এবং তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদসহ পুলিশের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এছাড়া গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
২০১৩ সালের ৫ মে রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেওয়া হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি যৌথ অভিযান চালায়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই নতুন তদন্তের মাধ্যমে সেই রাতের প্রকৃত চিত্র এবং দায়ীদের পরিচয় জনসম্মুখে আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
