জাতীয়জাতীয়

জনপ্রশাসনে নিয়োগ ও পদোন্নতির মূলভিত্তি হবে সততা-মেধা: প্রধানমন্ত্রী

ডিসি সম্মেলনে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সরকারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা জানালেন তারেক রহমান; পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস না করতে কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান।

জনপ্রশাসনে নিয়োগ ও পদোন্নতির মূলভিত্তি হবে সততা-মেধা: প্রধানমন্ত্রী
ছবি -সংগৃহীত

জনপ্রশাসনে নিয়োগ, বদলি কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে সততা, মেধা ও দক্ষতাকে মূলনীতি হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

​প্রশাসনিক সংস্কার ও জবাবদিহিতা

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে জনবল নিয়োগ এবং শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন,

"বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়নসহ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।"

 কর্মকর্তাদের শুধুমাত্র পছন্দের পোস্টিংয়ের পেছনে না ছুটে দেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

​মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা ও জনসেবা

জেলা প্রশাসকদের সরকারের 'প্রশাসনিক অ্যাম্বাসেডর' হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররাই প্রধান সেতুবন্ধন। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজারের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি। এছাড়া সরকারি কার্যালয়ে সেবা প্রার্থীরা যেন কোনোভাবেই হয়রানি বা অনিয়মের শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

​সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কাজ শুরু করলেও গত আড়াই মাসে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং ধর্মীয় গুরুদের জন্য মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

​বিশেষ নির্দেশনা

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে বাল্যবিবাহ রোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য তিনি পুনরায় গুরুত্বারোপ করেন।

​উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই ডিসি সম্মেলন আগামী ৬ মে পর্যন্ত চলবে। এতে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে মোট ৩৪টি অধিবেশনে আলোচনা হবে।

বিষয় : জনপ্রশাসন তারেক রহমান ডিসি সম্মেলন

কাল মহাকাল

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


জনপ্রশাসনে নিয়োগ ও পদোন্নতির মূলভিত্তি হবে সততা-মেধা: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

জনপ্রশাসনে নিয়োগ, বদলি কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে সততা, মেধা ও দক্ষতাকে মূলনীতি হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

​প্রশাসনিক সংস্কার ও জবাবদিহিতা

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে জনবল নিয়োগ এবং শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন,

"বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়নসহ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।"

 কর্মকর্তাদের শুধুমাত্র পছন্দের পোস্টিংয়ের পেছনে না ছুটে দেশের যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

​মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা ও জনসেবা

জেলা প্রশাসকদের সরকারের 'প্রশাসনিক অ্যাম্বাসেডর' হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররাই প্রধান সেতুবন্ধন। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজারের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি। এছাড়া সরকারি কার্যালয়ে সেবা প্রার্থীরা যেন কোনোভাবেই হয়রানি বা অনিয়মের শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

​সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কাজ শুরু করলেও গত আড়াই মাসে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং ধর্মীয় গুরুদের জন্য মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

​বিশেষ নির্দেশনা

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে বাল্যবিবাহ রোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য তিনি পুনরায় গুরুত্বারোপ করেন।

​উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই ডিসি সম্মেলন আগামী ৬ মে পর্যন্ত চলবে। এতে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে মোট ৩৪টি অধিবেশনে আলোচনা হবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত