আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত স্বীকারোক্তি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আইনি ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ
সম্প্রতি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকার দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জনসমক্ষে তিনি যেভাবে ‘পুশ-ইন’ বা অন্ধকার রাতে সীমান্ত দিয়ে মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন, তা কেবল আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিদ্যমান পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মূলে কুঠারাঘাত। একজন দায়িত্বশীল মুখ্যমন্ত্রী যখন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মকে তোয়াক্কা না করার দাম্ভিকতা দেখান, তখন এটিকে কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই; বরং বিষয়টি যেন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি এক গুরুতর হুমকি।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্যে দুটি বড় ধরনের অসঙ্গতি ও অজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। প্রথমত, তিনি বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে এখনো ‘বিডিআর’ নামে সম্বোধন করছেন, অথচ ১৫ বছর আগেই এই বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি) রাখা হয়েছে। দ্বিতীয়ত এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তিনি দাবি করেছেন যে দুই দেশের মধ্যে কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। অথচ ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত এবং পরবর্তীতে সংশোধিত ‘এক্সট্রাডিশন ট্রিটি’ বা অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কার্যকর রয়েছে।
যখন কোনো রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে রাতের অন্ধকারে মানুষ ‘পুশ-ইন’ করার কথা বলেন, তখন তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কনভেনশনের পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ায়। এটি স্পষ্ট করে যে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় তারা দ্বিপাক্ষিক প্রোটোকলের চেয়ে একপাক্ষিক শক্তি প্রয়োগকেই বেছে নিতে বেশি আগ্রহী।
সীমান্ত এবং শরণার্থী বা অনুপ্রবেশ ইস্যু সারা বিশ্বেই একটি স্পর্শকাতর বিষয়। তবে সভ্য রাষ্ট্রগুলো তা সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট মডেল অনুসরণ করে:
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (Schengen Area): এখানে দেশগুলো একে অপরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানিয়ে অভিন্ন নীতিতে চলে। কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে প্রবেশ করলে তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়, কোনো লুকোচুরি বা ‘নাইট পুশ-ইন’-এর মাধ্যমে নয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো: সীমান্তে কড়াকড়ি থাকলেও যখনই কাউকে ফেরত পাঠানো হয়, তা নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর অধীনেই করা হয়। যদিও এই মডেলটি নিয়ে বিতর্ক আছে, কিন্তু সেখানেও রাষ্ট্রীয়ভাবে অন্ধকারে মানুষকে ঠেলে দেওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা সাধারণত দেওয়া হয় না।
থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার: এই সীমান্তের অস্থিতিশীলতা বিশ্বজুড়ে সমালোচিত। যখনই কোনো দেশ আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গ করে মানুষ পুশ-ব্যাক করে, তা দীর্ঘমেয়াদে সেই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা এবং মানবিক সংকট তৈরি করে।
বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের সাথে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু বিনিময়ে সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে সাধারণ মানুষের মৃত্যু কিংবা এই ধরনের ‘পুশ-ইন’ তৎপরতা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ভারতের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করছে।
বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতা হলো ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব। মানবিক কারণে আমরা লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছি, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে পাশের দেশ তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা অভ্যন্তরীণ সংকটের চাপে নিয়মিতভাবে আমাদের ওপর বোঝা চাপিয়ে দেবে। বিশেষ করে যখন আসামের এনআরসি (NRC) ইস্যুটি ভারতের নিজস্ব আদালত ও রাজনীতির বিষয়, তখন তার দায় বাংলাদেশের ওপর চাপানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বর্তমান সংকট নিরসনে এবং সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ সরকারকে বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে:
১. শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রতিবাদ ও সংলাপ: কেবল সাধারণ প্রতিবাদ নয়, বরং দিল্লির সাউথ ব্লকের সাথে কঠোরভাবে বসতে হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে যে, একজন মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।
২. সীমান্ত নজরদারি বৃদ্ধি: বিজিবি-কে আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করতে হবে। থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা এবং ড্রোন নজরদারি বাড়িয়ে রাতের আঁধারে যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইন প্রচেষ্টা রুখে দিতে হবে।
৩. তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন: পুশ-ইনের ঘটনাগুলো ভিডিও বা ডিজিটাল প্রমাণের মাধ্যমে নথিভুক্ত করতে হবে। এরপর তা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে উপস্থাপন করতে হবে যাতে ভারত আন্তর্জাতিক চাপে আইনসম্মত পথে হাঁটতে বাধ্য হয়।
৪. চুক্তি বাস্তবায়ন ও লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক: বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং সীমান্ত প্রোটোকলগুলো কঠোরভাবে অনুসরণের দাবি জানাতে হবে। কোনো ব্যক্তি সন্দেহভাজন হলে তাকে অবশ্যই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায়, নাগরিকত্ব যাচাই সাপেক্ষে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে হবে।
বন্ধুত্ব কোনো একতরফা বিষয় নয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য জরুরি—এই সত্যটি দিল্লিকে উপলব্ধি করতে হবে। আসামের মুখ্যমন্ত্রীর মতো নেতাদের সস্তা জনপ্রিয়তাবাদী বক্তব্য যেন দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অর্জনকে ধূলিসাৎ না করে, সেদিকে উভয় পক্ষকেই সজাগ থাকতে হবে।
বাংলাদেশকে এখন আত্মমর্যাদার সাথে দরকষাকষি করতে হবে। আমাদের সীমান্ত অরক্ষিত নয় এবং আমাদের সার্বভৌমত্ব কোনো রাজনৈতিক খেলার গুটি হতে পারে না—এই বার্তাটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়ার সময় এখনই। আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে হলে ভারতকে অবশ্যই প্রতিবেশীসুলভ আচরণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত স্বীকারোক্তি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আইনি ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ
সম্প্রতি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকার দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জনসমক্ষে তিনি যেভাবে ‘পুশ-ইন’ বা অন্ধকার রাতে সীমান্ত দিয়ে মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন, তা কেবল আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নয়, বরং দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিদ্যমান পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মূলে কুঠারাঘাত। একজন দায়িত্বশীল মুখ্যমন্ত্রী যখন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মকে তোয়াক্কা না করার দাম্ভিকতা দেখান, তখন এটিকে কেবল ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই; বরং বিষয়টি যেন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি এক গুরুতর হুমকি।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্যে দুটি বড় ধরনের অসঙ্গতি ও অজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। প্রথমত, তিনি বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে এখনো ‘বিডিআর’ নামে সম্বোধন করছেন, অথচ ১৫ বছর আগেই এই বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি) রাখা হয়েছে। দ্বিতীয়ত এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তিনি দাবি করেছেন যে দুই দেশের মধ্যে কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। অথচ ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত এবং পরবর্তীতে সংশোধিত ‘এক্সট্রাডিশন ট্রিটি’ বা অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কার্যকর রয়েছে।
যখন কোনো রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে রাতের অন্ধকারে মানুষ ‘পুশ-ইন’ করার কথা বলেন, তখন তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কনভেনশনের পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ায়। এটি স্পষ্ট করে যে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় তারা দ্বিপাক্ষিক প্রোটোকলের চেয়ে একপাক্ষিক শক্তি প্রয়োগকেই বেছে নিতে বেশি আগ্রহী।
সীমান্ত এবং শরণার্থী বা অনুপ্রবেশ ইস্যু সারা বিশ্বেই একটি স্পর্শকাতর বিষয়। তবে সভ্য রাষ্ট্রগুলো তা সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট মডেল অনুসরণ করে:
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (Schengen Area): এখানে দেশগুলো একে অপরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানিয়ে অভিন্ন নীতিতে চলে। কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে প্রবেশ করলে তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়, কোনো লুকোচুরি বা ‘নাইট পুশ-ইন’-এর মাধ্যমে নয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো: সীমান্তে কড়াকড়ি থাকলেও যখনই কাউকে ফেরত পাঠানো হয়, তা নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর অধীনেই করা হয়। যদিও এই মডেলটি নিয়ে বিতর্ক আছে, কিন্তু সেখানেও রাষ্ট্রীয়ভাবে অন্ধকারে মানুষকে ঠেলে দেওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা সাধারণত দেওয়া হয় না।
থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার: এই সীমান্তের অস্থিতিশীলতা বিশ্বজুড়ে সমালোচিত। যখনই কোনো দেশ আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গ করে মানুষ পুশ-ব্যাক করে, তা দীর্ঘমেয়াদে সেই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা এবং মানবিক সংকট তৈরি করে।
বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের সাথে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু বিনিময়ে সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে সাধারণ মানুষের মৃত্যু কিংবা এই ধরনের ‘পুশ-ইন’ তৎপরতা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ভারতের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করছে।
বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতা হলো ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব। মানবিক কারণে আমরা লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছি, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে পাশের দেশ তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা অভ্যন্তরীণ সংকটের চাপে নিয়মিতভাবে আমাদের ওপর বোঝা চাপিয়ে দেবে। বিশেষ করে যখন আসামের এনআরসি (NRC) ইস্যুটি ভারতের নিজস্ব আদালত ও রাজনীতির বিষয়, তখন তার দায় বাংলাদেশের ওপর চাপানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বর্তমান সংকট নিরসনে এবং সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ সরকারকে বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে:
১. শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রতিবাদ ও সংলাপ: কেবল সাধারণ প্রতিবাদ নয়, বরং দিল্লির সাউথ ব্লকের সাথে কঠোরভাবে বসতে হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে যে, একজন মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।
২. সীমান্ত নজরদারি বৃদ্ধি: বিজিবি-কে আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করতে হবে। থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা এবং ড্রোন নজরদারি বাড়িয়ে রাতের আঁধারে যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইন প্রচেষ্টা রুখে দিতে হবে।
৩. তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন: পুশ-ইনের ঘটনাগুলো ভিডিও বা ডিজিটাল প্রমাণের মাধ্যমে নথিভুক্ত করতে হবে। এরপর তা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে উপস্থাপন করতে হবে যাতে ভারত আন্তর্জাতিক চাপে আইনসম্মত পথে হাঁটতে বাধ্য হয়।
৪. চুক্তি বাস্তবায়ন ও লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক: বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং সীমান্ত প্রোটোকলগুলো কঠোরভাবে অনুসরণের দাবি জানাতে হবে। কোনো ব্যক্তি সন্দেহভাজন হলে তাকে অবশ্যই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায়, নাগরিকত্ব যাচাই সাপেক্ষে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে হবে।
বন্ধুত্ব কোনো একতরফা বিষয় নয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য জরুরি—এই সত্যটি দিল্লিকে উপলব্ধি করতে হবে। আসামের মুখ্যমন্ত্রীর মতো নেতাদের সস্তা জনপ্রিয়তাবাদী বক্তব্য যেন দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অর্জনকে ধূলিসাৎ না করে, সেদিকে উভয় পক্ষকেই সজাগ থাকতে হবে।
বাংলাদেশকে এখন আত্মমর্যাদার সাথে দরকষাকষি করতে হবে। আমাদের সীমান্ত অরক্ষিত নয় এবং আমাদের সার্বভৌমত্ব কোনো রাজনৈতিক খেলার গুটি হতে পারে না—এই বার্তাটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়ার সময় এখনই। আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে হলে ভারতকে অবশ্যই প্রতিবেশীসুলভ আচরণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
