জাতীয়
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পাঁচদিনের সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন, যা এমন এক সময়ে ঘটছে যখন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়টি দেশের নীতিনির্ধারণী মহলে অত্যন্ত গুরুত্ব পাচ্ছে। গত ২৮ জুন তার এই যাত্রা সামরিক কৌশলগত ভারসাম্যের এক নতুন ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে কোনো সফরের সময় নির্ধারণ সবসময়ই তাৎপর্যপূর্ণ।
বেইজিংয়ের 'গ্রেট হল অব দ্য পিপল'-এ সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া সফরটি ছিল বেশ ঘটনাবহুল। চীনের সাথে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পাশাপাশি ২৪টি জে-১০ সিই (J-10CE) যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার এক বড় পদক্ষেপ। চীন সফরের সেই রেশ না কাটতেই সেনাপ্রধানের ইউরোপ সফরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ, তার একটি বড় কারণ মধ্য ইউরোপের এই দুটি দেশ—চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের কাছে এই দুটি দেশ ইউরোপের সামরিক শিল্পকারখানা হিসেবে পরিচিত। চেক রিপাবলিকের এল-১৫৯ যুদ্ধবিমান, তাত্রা (Tatra) সাঁজোয়া যান কিংবা দানা (Dana) হাউইটজার কামানের বিশ্বজোড়া খ্যাতি রয়েছে। অন্যদিকে, স্লোভাকিয়াও ট্যাংক ও অত্যাধুনিক গোলাবারুদ উৎপাদনে ইউরোপের অন্যতম সেরা দেশ। এই দুই দেশের সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ যেমন উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও গোলাবারুদ আমদানির নতুন উৎস পাবে, তেমনি প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশ এখন আর একটি মাত্র দেশের ওপর প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য নির্ভরশীল থাকতে চাইছে না। মালয়েশিয়ায় প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ, বেইজিং থেকে যুদ্ধবিমান সংগ্রহ এবং এখন চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ার মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে সামরিক সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা—সবই একটি সুনির্দিষ্ট কৌশলের অংশ। একে সামরিক পরিভাষায় বলা হচ্ছে ‘প্রতিরক্ষা বহুমুখীকরণ’ বা ডিফেন্স ডাইভারসিফিকেশন।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের এই পথে হাঁটা যেমন সময়ের দাবি, তেমনি এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং চ্যালেঞ্জিং। একেক দেশের প্রযুক্তির সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেনাবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতাকে বজায় রাখাটা বেশ জটিল একটি ভারসাম্য। তবে এই কৌশলের পেছনে আরেকটি বড় উদ্দেশ্য হলো, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে কোনো একটি বিশেষ দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা।
অর্থাৎ, বেইজিংয়ের সাথে নতুন সামরিক চুক্তির পাশাপাশি ইউরোপের সাথে এই যোগাযোগ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বার্তা দিচ্ছে যে, তারা সবার সাথেই প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী। এই বহুমুখী কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার সুরক্ষায় আগামী দিনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বিষয় : সেনাপ্রধান ইউরোপ সফর
2.png)
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পাঁচদিনের সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন, যা এমন এক সময়ে ঘটছে যখন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়টি দেশের নীতিনির্ধারণী মহলে অত্যন্ত গুরুত্ব পাচ্ছে। গত ২৮ জুন তার এই যাত্রা সামরিক কৌশলগত ভারসাম্যের এক নতুন ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে কোনো সফরের সময় নির্ধারণ সবসময়ই তাৎপর্যপূর্ণ।
বেইজিংয়ের 'গ্রেট হল অব দ্য পিপল'-এ সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া সফরটি ছিল বেশ ঘটনাবহুল। চীনের সাথে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পাশাপাশি ২৪টি জে-১০ সিই (J-10CE) যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার এক বড় পদক্ষেপ। চীন সফরের সেই রেশ না কাটতেই সেনাপ্রধানের ইউরোপ সফরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ, তার একটি বড় কারণ মধ্য ইউরোপের এই দুটি দেশ—চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়া।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের কাছে এই দুটি দেশ ইউরোপের সামরিক শিল্পকারখানা হিসেবে পরিচিত। চেক রিপাবলিকের এল-১৫৯ যুদ্ধবিমান, তাত্রা (Tatra) সাঁজোয়া যান কিংবা দানা (Dana) হাউইটজার কামানের বিশ্বজোড়া খ্যাতি রয়েছে। অন্যদিকে, স্লোভাকিয়াও ট্যাংক ও অত্যাধুনিক গোলাবারুদ উৎপাদনে ইউরোপের অন্যতম সেরা দেশ। এই দুই দেশের সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশ যেমন উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও গোলাবারুদ আমদানির নতুন উৎস পাবে, তেমনি প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশ এখন আর একটি মাত্র দেশের ওপর প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য নির্ভরশীল থাকতে চাইছে না। মালয়েশিয়ায় প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ, বেইজিং থেকে যুদ্ধবিমান সংগ্রহ এবং এখন চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ার মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে সামরিক সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা—সবই একটি সুনির্দিষ্ট কৌশলের অংশ। একে সামরিক পরিভাষায় বলা হচ্ছে ‘প্রতিরক্ষা বহুমুখীকরণ’ বা ডিফেন্স ডাইভারসিফিকেশন।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের এই পথে হাঁটা যেমন সময়ের দাবি, তেমনি এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং চ্যালেঞ্জিং। একেক দেশের প্রযুক্তির সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং সেনাবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতাকে বজায় রাখাটা বেশ জটিল একটি ভারসাম্য। তবে এই কৌশলের পেছনে আরেকটি বড় উদ্দেশ্য হলো, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে কোনো একটি বিশেষ দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা।
অর্থাৎ, বেইজিংয়ের সাথে নতুন সামরিক চুক্তির পাশাপাশি ইউরোপের সাথে এই যোগাযোগ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বার্তা দিচ্ছে যে, তারা সবার সাথেই প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী। এই বহুমুখী কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার সুরক্ষায় আগামী দিনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
2.png)