সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

রাম মন্দিরের দান লুট: ভারতের রাজনীতিতে তোলপাড়, কড়া তদন্তের দাবি

সারা দেশের মানুষের কোটি কোটি টাকার ধর্মীয় অনুভূতি ও কষ্টার্জিত সঞ্চয় চুরির ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর; তদন্তের ভিত্তিতে ৮ জন গ্রেপ্তার।

রাম মন্দিরের দান লুট: ভারতের রাজনীতিতে তোলপাড়, কড়া তদন্তের দাবি
ছবি -সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার নবনির্মিত রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দানের অর্থ আত্মসাতের একটি বড় অভিযোগ ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘দুঃখজনক’ ও ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি এর একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করে মূল হোতাদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনার জোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন উত্তর প্রদেশ সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, কোটি কোটি মানুষের আবেগের সাথে জড়িত এই অনিয়মের ঘটনায় কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামী ও অনুদানের টাকা চুরির এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রথম জনসমক্ষে আসে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মন্দির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর প্রদেশ সরকার ঘটনার গভীরে যেতে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে। এই দলের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে লখনউ ও অযোধ্যা পুলিশ মামলা দায়ের করে বিশেষ অভিযান চালায় এবং এখন পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আদালত ইতিমধ্যে তাদের সবাইকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

শনিবার নিজের নির্বাচনী এলাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, ভারতের কোণায় কোণায় থাকা সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণ নিজেদের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আবেগের জায়গা থেকে এই রাম মন্দির নির্মাণের জন্য অর্থ দান করেছিলেন। সেই পবিত্র অর্থ এভাবে লুটের ঘটনা শুধু সাধারণ আর্থিক কেলেঙ্কারি বা অনিয়ম নয়, বরং এটি দেশের কোটি কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বীর বিশ্বাসের ওপর বড় আঘাত।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আরও উল্লেখ করেন, “এই অর্থ কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের নয়, এটি সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়। দেশের কত শত নারী নিজের শেষ সম্বলটুকু থেকে এখানে দান করেছেন, কত দরিদ্র মানুষ তাঁদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে অবদান রেখেছেন। তাই শুধু মাঠপর্যায়ের চোরদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, যাঁরা এই অর্থ সংগ্রহ, ব্যাংকিং ও রক্ষণাবেক্ষণের মূল দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদেরও কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।” কংগ্রেস নেত্রীর এই কড়া বক্তব্যের পর অন্যান্য বিরোধী দলগুলোও মোদি ও যোগী সরকারের দিকে আঙুল তুলে নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে।

এদিকে রাজনৈতিক চাপ বাড়ার মুখে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে উত্তর প্রদেশ প্রশাসন। রাজ্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষ তদন্ত কমিটি তাঁদের প্রথম রিপোর্টে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিজে পুরো মামলার নথিপত্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অপরাধীর সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, তাকে কঠোরতম সাজার মুখোমুখি হতে হবে।

বিষয় : রাম মন্দির

রাম মন্দিরের দান লুট: ভারতের রাজনীতিতে তোলপাড়, কড়া তদন্তের দাবি
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬


রাম মন্দিরের দান লুট: ভারতের রাজনীতিতে তোলপাড়, কড়া তদন্তের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার নবনির্মিত রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দানের অর্থ আত্মসাতের একটি বড় অভিযোগ ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘দুঃখজনক’ ও ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি এর একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করে মূল হোতাদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনার জোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন উত্তর প্রদেশ সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, কোটি কোটি মানুষের আবেগের সাথে জড়িত এই অনিয়মের ঘটনায় কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামী ও অনুদানের টাকা চুরির এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রথম জনসমক্ষে আসে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মন্দির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর প্রদেশ সরকার ঘটনার গভীরে যেতে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে। এই দলের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে লখনউ ও অযোধ্যা পুলিশ মামলা দায়ের করে বিশেষ অভিযান চালায় এবং এখন পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আদালত ইতিমধ্যে তাদের সবাইকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

শনিবার নিজের নির্বাচনী এলাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, ভারতের কোণায় কোণায় থাকা সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণ নিজেদের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আবেগের জায়গা থেকে এই রাম মন্দির নির্মাণের জন্য অর্থ দান করেছিলেন। সেই পবিত্র অর্থ এভাবে লুটের ঘটনা শুধু সাধারণ আর্থিক কেলেঙ্কারি বা অনিয়ম নয়, বরং এটি দেশের কোটি কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বীর বিশ্বাসের ওপর বড় আঘাত।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আরও উল্লেখ করেন, “এই অর্থ কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের নয়, এটি সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়। দেশের কত শত নারী নিজের শেষ সম্বলটুকু থেকে এখানে দান করেছেন, কত দরিদ্র মানুষ তাঁদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে অবদান রেখেছেন। তাই শুধু মাঠপর্যায়ের চোরদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, যাঁরা এই অর্থ সংগ্রহ, ব্যাংকিং ও রক্ষণাবেক্ষণের মূল দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদেরও কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।” কংগ্রেস নেত্রীর এই কড়া বক্তব্যের পর অন্যান্য বিরোধী দলগুলোও মোদি ও যোগী সরকারের দিকে আঙুল তুলে নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে।

এদিকে রাজনৈতিক চাপ বাড়ার মুখে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে উত্তর প্রদেশ প্রশাসন। রাজ্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষ তদন্ত কমিটি তাঁদের প্রথম রিপোর্টে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিজে পুরো মামলার নথিপত্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে অপরাধীর সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, তাকে কঠোরতম সাজার মুখোমুখি হতে হবে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত