জাতীয়
কক্সবাজারের যে রুপালি বালুচর মাড়িয়ে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ঘুরে বেড়ান, সেই বালুতেই মিশে আছে কয়েক বিলিয়ন ডলার মূল্যের মহামূল্যবান খনিজসম্পদ। মহাকাশ প্রযুক্তি, জেট ইঞ্জিন কিংবা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো উচ্চপ্রযুক্তির শিল্পে ব্যবহৃত এই বিরল খনিজের নাম ‘জিরকন’। অনুসন্ধানে কক্সবাজার থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এমন ১৭টি খনিজভান্ডারের সন্ধান মিলেছে। সরকারি পুরোনো হিসাবে এখানে জিরকনের মজুত প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন বলা হলেও বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রকৃত মজুত এর চেয়ে বহুগুণ বেশি। তবে অপার সম্ভাবনাময় এই জাতীয় সম্পদ বছরের পর বছর ধরে চরম অবহেলায় পড়ে রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানান, উপকূলের এই বালুতে কেবল জিরকনই নয়, এর পাশাপাশি ইলমেনাইট, রুটাইল, গারনেট, ম্যাগনেটাইট, কায়ানাইট ও মোনাজাইটের মতো অত্যন্ত মূল্যবান ভারী খনিজও রয়েছে। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এসব খনিজ আহরণ ও প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হলে তা দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার জিওলজিক্যাল সায়েন্সেস-এর মুখ্য ভূতত্ত্ববিদ ড. মোহাম্মদ রাজীব জানান, আধুনিক উচ্চপ্রযুক্তি ও ভারী শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হলো জিরকন। এই খনিজ থেকে উৎপাদিত জিরকোনিয়াম ও এর বিভিন্ন যৌগ মূলত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, জেট ইঞ্জিন, মহাকাশ যান, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম, সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিকস, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং উচ্চমানের সিরামিক তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এই বহুমুখী ব্যবহারের কারণে বিশ্ববাজারে এর চাহিদা ও দাম আকাশচুম্বী। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও চীন বিশ্বের শীর্ষ জিরকন উৎপাদনকারী দেশ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সৈকতের বালুতে জিরকনের সঙ্গে থাকা ইলমেনাইট ও রুটাইল মূলত রং, প্লাস্টিক ও কাগজ শিল্পের প্রধান কাঁচামাল টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। আবার মোনাজাইটে থাকা বিরল মৃত্তিকা ও তেজস্ক্রীয় উপাদান উন্নত চুম্বক এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির মতো উচ্চপ্রযুক্তির কাঁচামাল হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সব খনিজের উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের এই উপকূলীয় অঞ্চলটি বিশ্বমঞ্চে একটি কৌশলগত খনিজ অঞ্চল হওয়ার যোগ্যতা রাখে।
কক্সবাজার সৈকত খনিজ বালু আহরণ কেন্দ্রের (বিএসএমইসি) গবেষকদের তথ্যমতে, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কয়েক দশক ধরে চালানো জরিপে ১৭টি স্থানে এই খনিজভান্ডারের অস্তিত্ব মিলেছে। এর মধ্যে ১৫টি স্পটই কক্সবাজার জেলায় (মহেশখালীতে ৭টি, টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ৬টি, মাতারবাড়ী ও কুতুবদিয়ায় ১টি করে)। বাকি দুটি স্পট রয়েছে নিঝুম দ্বীপ ও কুয়াকাটায়। তবে দুঃখজনক হলো, এই খনিজ অঞ্চলগুলোর একটিরও সুনির্দিষ্ট সীমানা এখনো সুরক্ষিত করা হয়নি।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) জরিপ অনুযায়ী, এসব অঞ্চলের প্রায় ২ কোটি ৫ লাখ টন বালুর মধ্যে ৪৪ লাখ টন ভারী খনিজ রয়েছে। এর মধ্যে জিরকন ১ লাখ ৫৮ হাজার টন, ইলমেনাইট ১০ লাখ ৮ হাজার টন, রুটাইল ১ লাখ ৯১ হাজার টন, গারনেট ৩ লাখ ৫১ হাজার টন, ম্যাগনেটাইট ২ লাখ 6৭ হাজার টন এবং মোনাজাইট রয়েছে প্রায় ১৭ হাজার টন।
সবচেয়ে আশার কথা হলো, বাংলাদেশের জিরকনের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের। বিজ্ঞানী এস. নাহার ও অধ্যাপক এ. এস. এম. এ. হাসিবের এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, ল্যাবে পরীক্ষা করা নমুনায় বাংলাদেশের জিরকনের বিশুদ্ধতা প্রায় ৯৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা অত্যন্ত বিরল।
ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার জিওলজিক্যাল সায়েন্সেসের পরিচালক ও প্রধান ভূতত্ত্ববিদ ড. মো. গোলাম রসুল জানান, জিরকনের যে ১ লাখ ৫৮ হাজার টনের হিসাব দেওয়া হয়, তা ১৯৮৬ সালের আগের পুরোনো ডেটা। এরপর দীর্ঘ চার দশকে আর কোনো নতুন মূল্যায়ন বা ডিপোজিট পুনর্নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে বর্তমানে জিরকনের প্রকৃত মজুত ও মূল্য সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও তা কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
তিনি আফসোস করে বলেন, ১৯৯৫ সালে পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম. এ. ওয়াজেদ মিয়ার বিশেষ উদ্যোগে কক্সবাজারে একটি পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে খনিজ বালু পৃথকীকরণ ও গবেষণা শুরু হয়েছিল। কিন্তু পাঁচ বছর পর সরকার সেই প্রকল্প বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে বাণিজ্যিক আহরণের জন্য বারবার সুপারিশ করা হলেও কোনো সরকারই তা বাস্তবায়নে সাড়া দেয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ ও বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এখানে নিজস্ব অর্থায়নে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিলেও সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের অভাবে তা আলোর মুখ দেখেনি।
বাণিজ্যিক আহরণ তো দূরের কথা, গবেষণার জন্য তৈরি কক্সবাজার সৈকত খনিজ বালু আহরণ কেন্দ্রটি (বিএসএমইসি) এখন নিজেই ধ্বংসের মুখে। সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অবহেলায় কেন্দ্রটির ল্যাবরেটরি ও কোটি কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে অচল হয়ে পড়েছে। ৮০ জন অনুমোদিত জনবলের এই সংস্থায় বর্তমানে পরিচালক ছাড়া মাত্র একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, একজন টেকনিশিয়ান এবং একজন নৈশপ্রহরী কর্মরত আছেন।
কেন্দ্রটির বর্তমান পরিচালক শেখ জাফরুল হাসান চরম হতাশার সুরে বলেন, “আমি মূলত মহাকাশ গবেষণা বিষয়ের মানুষ, অথচ আমাকে এখানে পরিচালক করে পাঠানো হয়েছে। ২০০৫ সালের পর থেকে এখানে উল্লেখ করার মতো কোনো কাজই হয়নি। এই কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানতে হলে ঢাকায় যারা নীতিনির্ধারক আছেন, দয়া করে তাদের সাথে কথা বলুন।”
2.png)
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
কক্সবাজারের যে রুপালি বালুচর মাড়িয়ে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ঘুরে বেড়ান, সেই বালুতেই মিশে আছে কয়েক বিলিয়ন ডলার মূল্যের মহামূল্যবান খনিজসম্পদ। মহাকাশ প্রযুক্তি, জেট ইঞ্জিন কিংবা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো উচ্চপ্রযুক্তির শিল্পে ব্যবহৃত এই বিরল খনিজের নাম ‘জিরকন’। অনুসন্ধানে কক্সবাজার থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এমন ১৭টি খনিজভান্ডারের সন্ধান মিলেছে। সরকারি পুরোনো হিসাবে এখানে জিরকনের মজুত প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন বলা হলেও বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রকৃত মজুত এর চেয়ে বহুগুণ বেশি। তবে অপার সম্ভাবনাময় এই জাতীয় সম্পদ বছরের পর বছর ধরে চরম অবহেলায় পড়ে রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানান, উপকূলের এই বালুতে কেবল জিরকনই নয়, এর পাশাপাশি ইলমেনাইট, রুটাইল, গারনেট, ম্যাগনেটাইট, কায়ানাইট ও মোনাজাইটের মতো অত্যন্ত মূল্যবান ভারী খনিজও রয়েছে। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এসব খনিজ আহরণ ও প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হলে তা দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার জিওলজিক্যাল সায়েন্সেস-এর মুখ্য ভূতত্ত্ববিদ ড. মোহাম্মদ রাজীব জানান, আধুনিক উচ্চপ্রযুক্তি ও ভারী শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হলো জিরকন। এই খনিজ থেকে উৎপাদিত জিরকোনিয়াম ও এর বিভিন্ন যৌগ মূলত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, জেট ইঞ্জিন, মহাকাশ যান, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম, সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিকস, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং উচ্চমানের সিরামিক তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এই বহুমুখী ব্যবহারের কারণে বিশ্ববাজারে এর চাহিদা ও দাম আকাশচুম্বী। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও চীন বিশ্বের শীর্ষ জিরকন উৎপাদনকারী দেশ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সৈকতের বালুতে জিরকনের সঙ্গে থাকা ইলমেনাইট ও রুটাইল মূলত রং, প্লাস্টিক ও কাগজ শিল্পের প্রধান কাঁচামাল টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। আবার মোনাজাইটে থাকা বিরল মৃত্তিকা ও তেজস্ক্রীয় উপাদান উন্নত চুম্বক এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির মতো উচ্চপ্রযুক্তির কাঁচামাল হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সব খনিজের উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের এই উপকূলীয় অঞ্চলটি বিশ্বমঞ্চে একটি কৌশলগত খনিজ অঞ্চল হওয়ার যোগ্যতা রাখে।
কক্সবাজার সৈকত খনিজ বালু আহরণ কেন্দ্রের (বিএসএমইসি) গবেষকদের তথ্যমতে, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কয়েক দশক ধরে চালানো জরিপে ১৭টি স্থানে এই খনিজভান্ডারের অস্তিত্ব মিলেছে। এর মধ্যে ১৫টি স্পটই কক্সবাজার জেলায় (মহেশখালীতে ৭টি, টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত ৬টি, মাতারবাড়ী ও কুতুবদিয়ায় ১টি করে)। বাকি দুটি স্পট রয়েছে নিঝুম দ্বীপ ও কুয়াকাটায়। তবে দুঃখজনক হলো, এই খনিজ অঞ্চলগুলোর একটিরও সুনির্দিষ্ট সীমানা এখনো সুরক্ষিত করা হয়নি।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) জরিপ অনুযায়ী, এসব অঞ্চলের প্রায় ২ কোটি ৫ লাখ টন বালুর মধ্যে ৪৪ লাখ টন ভারী খনিজ রয়েছে। এর মধ্যে জিরকন ১ লাখ ৫৮ হাজার টন, ইলমেনাইট ১০ লাখ ৮ হাজার টন, রুটাইল ১ লাখ ৯১ হাজার টন, গারনেট ৩ লাখ ৫১ হাজার টন, ম্যাগনেটাইট ২ লাখ 6৭ হাজার টন এবং মোনাজাইট রয়েছে প্রায় ১৭ হাজার টন।
সবচেয়ে আশার কথা হলো, বাংলাদেশের জিরকনের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের। বিজ্ঞানী এস. নাহার ও অধ্যাপক এ. এস. এম. এ. হাসিবের এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, ল্যাবে পরীক্ষা করা নমুনায় বাংলাদেশের জিরকনের বিশুদ্ধতা প্রায় ৯৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা অত্যন্ত বিরল।
ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার জিওলজিক্যাল সায়েন্সেসের পরিচালক ও প্রধান ভূতত্ত্ববিদ ড. মো. গোলাম রসুল জানান, জিরকনের যে ১ লাখ ৫৮ হাজার টনের হিসাব দেওয়া হয়, তা ১৯৮৬ সালের আগের পুরোনো ডেটা। এরপর দীর্ঘ চার দশকে আর কোনো নতুন মূল্যায়ন বা ডিপোজিট পুনর্নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে বর্তমানে জিরকনের প্রকৃত মজুত ও মূল্য সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও তা কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
তিনি আফসোস করে বলেন, ১৯৯৫ সালে পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম. এ. ওয়াজেদ মিয়ার বিশেষ উদ্যোগে কক্সবাজারে একটি পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে খনিজ বালু পৃথকীকরণ ও গবেষণা শুরু হয়েছিল। কিন্তু পাঁচ বছর পর সরকার সেই প্রকল্প বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে বাণিজ্যিক আহরণের জন্য বারবার সুপারিশ করা হলেও কোনো সরকারই তা বাস্তবায়নে সাড়া দেয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ ও বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এখানে নিজস্ব অর্থায়নে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিলেও সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের অভাবে তা আলোর মুখ দেখেনি।
বাণিজ্যিক আহরণ তো দূরের কথা, গবেষণার জন্য তৈরি কক্সবাজার সৈকত খনিজ বালু আহরণ কেন্দ্রটি (বিএসএমইসি) এখন নিজেই ধ্বংসের মুখে। সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অবহেলায় কেন্দ্রটির ল্যাবরেটরি ও কোটি কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে অচল হয়ে পড়েছে। ৮০ জন অনুমোদিত জনবলের এই সংস্থায় বর্তমানে পরিচালক ছাড়া মাত্র একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, একজন টেকনিশিয়ান এবং একজন নৈশপ্রহরী কর্মরত আছেন।
কেন্দ্রটির বর্তমান পরিচালক শেখ জাফরুল হাসান চরম হতাশার সুরে বলেন, “আমি মূলত মহাকাশ গবেষণা বিষয়ের মানুষ, অথচ আমাকে এখানে পরিচালক করে পাঠানো হয়েছে। ২০০৫ সালের পর থেকে এখানে উল্লেখ করার মতো কোনো কাজই হয়নি। এই কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানতে হলে ঢাকায় যারা নীতিনির্ধারক আছেন, দয়া করে তাদের সাথে কথা বলুন।”
2.png)