বাংলাদেশ
বিশ্বের অনেক দেশেই যখন প্রথাগত অর্থনৈতিক কাঠামো পিছিয়ে পড়ছে, তখন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সামাজিক ব্যবসার দর্শন নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিচ্ছে। এই ধারায় সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে দক্ষিণ ইতালির তিনটি বড় শহর—নেপলস, পালের্মো ও পোটেনজার সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্ব ও পরামর্শ চেয়েছেন ইতালির ফোকাস (FOQUS) ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা। সম্প্রতি ঢাকার ইউনূস সেন্টারে এসে ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মিসেস রাকেলে ফুরফারো এবং জেনারেল ম্যানেজার রেনাতো কোয়াগলিয়া প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন।
সাক্ষাৎকালে তারা ইতালির ওই অঞ্চলে দারিদ্র্য, শিক্ষার নিম্নমান, আবাসন সংকট এবং অভিবাসনজনিত নানা জটিলতার কথা তুলে ধরেন। এসব সমস্যা সমাধানে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করলেও আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জনে বেশ ধীরগতির সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রতিনিধিদলটি অকপটে স্বীকার করেন যে, প্রথাগত পদ্ধতিতে সামাজিক বৈষম্য কমিয়ে আনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই টেকসই ও কার্যকর সমাধান পেতে তারা প্রফেসর ইউনূসের সামাজিক ব্যবসার মডেল এবং তাঁর উদ্ভাবনী দর্শনের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন।
ফোকাস ফাউন্ডেশন মূলত নেপলসের কোয়ার্তিয়েরি স্পানিওলি এলাকায় শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে নগর পুনরুজ্জীবনের কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এই মডেলে প্রারম্ভিক শিশুশিক্ষা থেকে শুরু করে প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তি এবং স্থানীয় হস্তশিল্পকে সামাজিক ব্যবসার আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। তবে এই মডেলটিকে আরও বৃহৎ পরিসরে পালের্মো ও পোটেনজার মতো শহরগুলোতে ছড়িয়ে দিতে তারা এখন প্রফেসর ইউনূসের দিকনির্দেশনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রয়োজন বোধ করছেন।
বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে একটি ‘মেডিটেরেনিয়ান সোশ্যাল ইনোভেশন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়। এই কেন্দ্রটি প্রফেসর ইউনূসের ‘তিন শূন্যের পৃথিবী’—অর্থাৎ শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ, শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীভবন বা দারিদ্র্য বিমোচন এবং শূন্য বেকারত্ব অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। মূলত শিক্ষা, সামাজিক উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক উদ্ভাবনের সমন্বয় ঘটিয়ে এই কেন্দ্রটি একটি আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা কেবল ইতালির সমস্যা নয়, বরং বৃহত্তর অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
প্রতিনিধিদলটি প্রফেসর ইউনূসকে দক্ষিণ ইতালি সফরের আমন্ত্রণ জানান। তারা আশা প্রকাশ করছেন, প্রফেসর ইউনূস সেখানে গিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলে পরিস্থিতির সরেজমিনে মূল্যায়ন সম্ভব হবে। প্রফেসর ইউনূস তাদের এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং এই মহতী উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন। মূলত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রফেসর ইউনূসের দর্শন কতটা কার্যকর, তা আবারও প্রমাণিত হলো এই আলোচনার মধ্য দিয়ে, যেখানে ইউরোপের একটি উন্নত দেশের প্রতিনিধিদল তাদের সামাজিক সংকটের সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশের এই বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বের দারস্থ হয়েছেন।
বিষয় : ড.ইউনুস ইতালির দারিদ্র্য FOQUS
2.png)
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
বিশ্বের অনেক দেশেই যখন প্রথাগত অর্থনৈতিক কাঠামো পিছিয়ে পড়ছে, তখন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সামাজিক ব্যবসার দর্শন নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিচ্ছে। এই ধারায় সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে দক্ষিণ ইতালির তিনটি বড় শহর—নেপলস, পালের্মো ও পোটেনজার সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্ব ও পরামর্শ চেয়েছেন ইতালির ফোকাস (FOQUS) ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা। সম্প্রতি ঢাকার ইউনূস সেন্টারে এসে ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মিসেস রাকেলে ফুরফারো এবং জেনারেল ম্যানেজার রেনাতো কোয়াগলিয়া প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন।
সাক্ষাৎকালে তারা ইতালির ওই অঞ্চলে দারিদ্র্য, শিক্ষার নিম্নমান, আবাসন সংকট এবং অভিবাসনজনিত নানা জটিলতার কথা তুলে ধরেন। এসব সমস্যা সমাধানে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করলেও আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জনে বেশ ধীরগতির সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রতিনিধিদলটি অকপটে স্বীকার করেন যে, প্রথাগত পদ্ধতিতে সামাজিক বৈষম্য কমিয়ে আনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই টেকসই ও কার্যকর সমাধান পেতে তারা প্রফেসর ইউনূসের সামাজিক ব্যবসার মডেল এবং তাঁর উদ্ভাবনী দর্শনের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন।
ফোকাস ফাউন্ডেশন মূলত নেপলসের কোয়ার্তিয়েরি স্পানিওলি এলাকায় শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে নগর পুনরুজ্জীবনের কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এই মডেলে প্রারম্ভিক শিশুশিক্ষা থেকে শুরু করে প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তি এবং স্থানীয় হস্তশিল্পকে সামাজিক ব্যবসার আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। তবে এই মডেলটিকে আরও বৃহৎ পরিসরে পালের্মো ও পোটেনজার মতো শহরগুলোতে ছড়িয়ে দিতে তারা এখন প্রফেসর ইউনূসের দিকনির্দেশনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রয়োজন বোধ করছেন।
বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে একটি ‘মেডিটেরেনিয়ান সোশ্যাল ইনোভেশন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়। এই কেন্দ্রটি প্রফেসর ইউনূসের ‘তিন শূন্যের পৃথিবী’—অর্থাৎ শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ, শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীভবন বা দারিদ্র্য বিমোচন এবং শূন্য বেকারত্ব অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। মূলত শিক্ষা, সামাজিক উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক উদ্ভাবনের সমন্বয় ঘটিয়ে এই কেন্দ্রটি একটি আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা কেবল ইতালির সমস্যা নয়, বরং বৃহত্তর অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
প্রতিনিধিদলটি প্রফেসর ইউনূসকে দক্ষিণ ইতালি সফরের আমন্ত্রণ জানান। তারা আশা প্রকাশ করছেন, প্রফেসর ইউনূস সেখানে গিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলে পরিস্থিতির সরেজমিনে মূল্যায়ন সম্ভব হবে। প্রফেসর ইউনূস তাদের এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং এই মহতী উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন। মূলত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রফেসর ইউনূসের দর্শন কতটা কার্যকর, তা আবারও প্রমাণিত হলো এই আলোচনার মধ্য দিয়ে, যেখানে ইউরোপের একটি উন্নত দেশের প্রতিনিধিদল তাদের সামাজিক সংকটের সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশের এই বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বের দারস্থ হয়েছেন।
2.png)